উপকূলীয় ভূগোল

উপকূলীয় ভূগোল হলো সমুদ্রস্থলভাগের মধ্যবর্তী ক্রমাগত পরিবর্তনী অঞ্চল সম্পর্কিত অধ্যয়ন, যা উপকূলের প্রাকৃতিক ভূগোল (অর্থ্যাত উপকূলীয় ভূমিরূপবিদ্যা, ভূতত্ত্ব এবং সমুদ্রবিদ্যা) এবং মানব ভূগোল (সমাজবিজ্ঞান এবং ইতিহাস) উভয়কে একত্রিত করে। এটি উপকূলীয় বিচূর্ণীভবন প্রক্রিয়া, বিশেষতঃ তরঙ্গের কার্য, পলিক চলন এবং আবহাওয়া এবং উপকূলের সাথে মানুষ কীভাবে মিথস্ক্রিয়া ঘটায় সেগুলি নিয়ে আলোচনা করে।

তরঙ্গের কার্য ও উপকূলস্থ সঞ্চয়নসম্পাদনা

 
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় পোর্ট ক্যাম্পবেল একটি উচ্চ-শক্তির উপকূলরেখা।

বিভিন্ন শক্তির তরঙ্গগুলি, যেগুলি নিয়মিতভাবে উপকূলরেখায় আঘাত করে প্রবাহিত হয় তা'ই উপকূলরেখার প্রাথমিক সঞ্চালক এবং আকৃতিদান কারী। এই প্রক্রিয়াটির সহজ সংগঠন সত্ত্বেও, তরঙ্গ এবং শৈলগুলির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তার জন্যে এই আঘাতের ফলে বিভিন্ন আকার ধারণ করে।

বায়ুমন্ডলীয় প্রক্রিয়াসম্পাদনা

  • উপকূলের বাতাস সমুদ্র সৈকতের "উপর" দিয়ে বয়ে যায়, বালি বহন করে নিয়ে চলে এবং সমুদ্র সৈকতের উপর বয়ে নিয়ে বালির স্তুপ (বালীয়াড়ি) তৈরি করে।
  • বৃষ্টিপাত উপকূলে আঘাত হানে এবং শিলাকে ধৌত করে এবং বিচূর্ণীত উপাদানসমূহকে উপকূল রেখায় বহন করে সৈকত গঠনে সহায়তা করে।

জৈবিক প্রক্রিয়াসম্পাদনা

বিশেষতঃ গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে, উদ্ভিদ এবং প্রাণীগুলি কেবল শিলার বিচূর্ণীভবনের উপর প্রভাব ফেলে না, বরং তারা নিজেরাও পলির একটি উত্‌স। অনেক প্রাণীর খোলস এবং কঙ্কালগুলি ক্যালসিয়াম কার্বোনেটে গঠিত হয় এবং যখন এটি ভেঙে যায় তখন তা পলল, চুনাপাথর এবং কাদামাটি গঠন করে।

প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াসম্পাদনা

সৈকতে মূল প্রাকৃতিক বিচূর্ণীভবন প্রক্রিয়া হলো লবণ-স্ফটিক বৃদ্ধি করা। বাতাস শিলাগুলিতে লবণের বিন্দু বহন করে, যেখানে এটি শিলাগুলির মধ্যস্থ ছোট ছোট ছিদ্র এবং ফাটলগুলিতে শোষিত হয়। সেখানে জল বাষ্পীভূত হয় এবং লবণ স্ফটিক সৃষ্টি করে, এর ফলে শিলার উপর চাপ তৈরি হয় এবং প্রায়শই পাথরটি ভেঙে যায়। কিছু সৈকতে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট অন্যান্য পললগুলিকে এক সাথে যুক্ত করে সৈকত-শিলা তৈরি করতে এবং উষ্ণ অঞ্চলে বালিয়াড়ি-শিলা তৈরি করতে সহায়ক হয়। বায়ুর ক্ষয়ও ক্ষয়কার্যের একটি রূপ, ধুলো এবং বালি বাতাসের দ্বারা চারপাশে বাহিত হয় এবং আস্তে আস্তে শিলার উপর দিয়ে প্রবাহের ফলে গাত্রর গড়ন নষ্ট করে, এটি সমুদ্রের মধ্যে লবন এবং বালু যেভাবে পাথরের উপরে দিয়ে ধুয়ে নিয়ে যায় ঠিক একইভাবে সংগঠিত হয়।

সমুদ্রস্তরের পরিবর্তনসম্পাদনা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীতে সমুদ্রের স্তর নিয়মিতভাবে বৃদ্ধি এবং হ্রাস পেয়ে থাকে। শীতকালীন সময়ে পৃথিবীর বেশির ভাগ জল হিমবাহগুলিতে বরফ হিসাবে সঞ্চিত থাকে, বিপরীতে উষ্ণ সময়কালে এটি বিগলিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমুদ্রের স্তর আরও অধিক পরিমাণ ভূমিকে আচ্ছাদিত করে। সমুদ্রের স্তর বর্তমানে বেশ উচ্চ, যদিও মাত্র ১৮,০০০ বছর পূর্বের প্লাইস্টোসিন বরফের যুগে এগুলি বেশ কম ছিল। ভবিষ্যতে বৈশ্বয়িক উষ্ণায়নের ফলে আরও উত্থান হতে পারে, যা উপকূলীয় শহরগুলির জন্য বর্তমানে ঝুঁকি হিসাবে উপস্থাপিত হয়েছে কারণ এদের বেশিরভাগই কেবল ক্ষুদ একটি উত্থানেই প্লাবিত হয়ে পড়বে।

উপকূলীয় ভূমিগঠনসম্পাদনা

বাঁধসম্পাদনা

 
যুক্তরাজ্যের চেসিল সৈকত, যা ডোরসেটের মধ্যে টমবোলো।

উপকূল যদি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে, বিশেষত মোহনার সন্নিকটে, বাঁধ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘ তীরে সৈকত বরাবর পলকে সঞ্চিত হতে ধাক্কা দেয় কিন্তু যখন এটি চিত্রের মতো একটি মোড়ে পৌঁছায়, দীর্ঘ তীরের প্রবাহটি সর্বদা সহজেই এটির সাথে একই গতিতে ঘুরে যায় না, বিশেষত কোনও মোহনার কাছাকাছি যেখানে কোনও নদী থেকে প্রবাহ উপকূল থেকে দূরে পললকে ঠেলে দিতে পারে।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  • Codrington, Stephen. Planet Geography, 3rd Edition, 2006, Chapter 8

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

টেমপ্লেট:Physical geography topics টেমপ্লেট:Coastal geography টেমপ্লেট:Physical oceanography