উধার কি জিন্দেগি

উধার কি জিন্দেগি (বাংলা অর্থ: ঋণের জীবন) হিন্দি ভাষার একটি ভারতীয় চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি তেলুগু সীতারমাইয়া গারি মানাভারালু চলচ্চিত্রের পুনর্নির্মাণ। কে ভি রাজু’র পরিচালনায় এবং রাজেশ মিশ্র'র প্রযোজনায় তৈরি এই চলচ্চিত্রটি ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। এ চলচ্চিত্রে কাজল তার অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার অর্জন করেন। ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন জিতেন্দ্র, মৌসুমি চ্যাটার্জি ও কাজল।

উধার কি জিন্দেগি
উধার কি জিন্দেগি চলচ্চিত্রের পোস্টার.jpg
পরিচালককে ভি রাজু
প্রযোজক
  • রাজেশ মিশ্র
  • এস এস মিশ্র
রচয়িতাকে ভি রাজু
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারআনন্দ-মিলিন্দ
চিত্রগ্রাহকএস নাইডু
সম্পাদকএস. হীরা
প্রযোজনা
কোম্পানি
অষ্ট মূর্তি ফিল্ম কম্বিনেশন
মুক্তি
  • ৪ নভেম্বর ১৯৯৪ (1994-11-04)
দৈর্ঘ্য১৬২ মিনিট[১]
দেশভারত
ভাষাহিন্দি
নির্মাণব্যয়১৩.৫ মিলিয়ন[১]
আয়১৭.৩ মিলিয়ন[১]

এটি কাজলের দ্বিতীয় মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল। তরুণী কাজলের চরিত্রটিই ছবির প্রধানতম চরিত্র। একটি মর্মস্পর্শী করুণ কাহিনী আশ্রয় করে নির্মিত জিতেন্দ্র, মৌসুমি ও কাজলের নিপুণ অভিনয় সমৃদ্ধ এ ছবি দর্শকপ্রিয় হয়। ছবির গানগুলো বেশ জনপ্রিয়। গান লিখেছেন সমীর। সমালোচকগণও ছবিটির উচ্চ প্রশংসা করেছেন।

কাহিনী-সংক্ষেপসম্পাদনা

ধনী ও সম্পদশালী সীতারাম কঠোর কর্তৃত্ববাদীর মতো তাঁর পরিবার চালান। তিনি তাঁর একমাত্র ছেলে বাসুদেবের বিয়ে স্থির করেন তাঁর প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কন্যার সঙ্গে। মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র বাসুদেব ভালোবাসে সুমন নামে তারই এক সহপাঠিনীকে। বাবার পছন্দকরা মেয়েকে বিয়ে করতে অপারগতা জানায় বাসু। ছেলের পছন্দানুযায়ী বিয়ের আয়োজন করা হয় বাড়িতে। বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। পরিবারের সবাই এ বিয়ে মেনেও নেয়। কিন্তু বিয়ের পরে বাবা বাসুদেবকে বাড়িতে স্থান দেন না, এবং নিজের উপায় নিজেকেই দেখতে বলেন। বাবার এ কঠোর মনোভাব পরিবারে অশুভ ফল ডেকে আনে। বাসু ও সুমন দম্পতি বাড়ি ত্যাগ করে এবং কিছুদিন পর আমেরিকায় চলে যায়। তবে তাদের এ মনোভাব ছিল যে, বাবা অভিমান ভুলে যখনই ডাকবেন, তারা বাড়ি ফিরে আসবে। কয়েক বছর পর সীতারাম আমেরিকা থেকে পুত্রের চিঠি পেয়ে জানতে পারেন যে, পুত্র ও পুত্রবধূ তাদের দেখতে দেশে আসছে। এতদিন পরে পুত্র ও পুত্রবধূর সঙ্গে মিলিত হবার আশায় অধীর অপেক্ষায় থাকেন সীতারাম। কিছুদিন পরে সীতারাম দেখেন তাঁর পুত্র ও পুত্রবধূ না এসে তাদের কন্যা সীতাকে দেশে পাঠিয়েছে। সীতার কাছে জানতে পারেন, তারা ব্যস্ততার জন্য আসতে পারেনি। বাবা সীতারাম এতে প্রচণ্ড রেগে যান। পুরানো ক্ষত আবার কাঁচা হয়ে ওঠে। নাতনি সীতাকে দাদা সীতারাম আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন না। নাতনি সীতা আমেরিকা থেকে তার বাবার পাঠানো উপহার দাদাকে দিতে যায়, কিন্তু দাদা গোঁ ধরে বসেন যে, ছেলে ও ছেলেবউ নিজে এসে না দিলে উপহারটি নেবেন না। একদিন সীতারাম ও তার স্ত্রী জানতে পারেন পুত্র ও পুত্রবধূ দেশে আসতে না পারার আসল কারণ ব্যস্ততা নয়, বরং এক সড়ক দুর্ঘটনায় তারা মারা গেছে। হাসপাতালে মৃত্যুর আগে বাসু কন্যা সীতাকে দাদা-ঠাকুমার কাছে ফিরে যেতে বলেছিল, আর বলেছিল যেন তাদের মৃত্যুর কথাটা দ্রুত না জানায়, কারণ এতে তার বাবামা হয়তো আঘাতটি সামলাতে পারবে না। যখন তারা মৃত্যুর কথাটা জেনে গেল, তখন মা আর সইতে পারলেন না।

অভিনয়েসম্পাদনা

নির্মাণসম্পাদনা

এই চলচ্চিত্রটি ১৯৯১ সালের তেলুগু সীতারমাইয়া গারি মানাভারালু চলচ্চিত্রের পুনর্নির্মাণ।[২] শুরুতে এই চলচ্চিত্রটির শিরোনাম ছিল কাগজ কি গুদিয়া[৩] ডেকান হেরাল্ডের সাংবাদিক পিয়ালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির শুটিং হায়দ্রাবাদে হয়।[৪]

সঙ্গীতসম্পাদনা

আনন্দ-মিলিন্দ চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক রচনা করেন। গানগুলি লিখেন সমীর। "থোরী হাঁসি হ্যায়" গানটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পায়।

# শিরোনাম শিল্পী
"দাদাজি কি ছড়ী হুঁ মেইন" পূর্ণিমা
"দিল ধড়কনে কা বাহানা" কুমার সানু, আলকা ইয়াগ্নিক
"হামনে তো লি হ্যায় কাসাম" কুমার শানু, আলকা ইয়াগ্নিক
"মেইন ভি চুপ হুঁ" কুমার সানু, সাধনা সরগম
"থোরী হাঁসি হ্যায় তোড়ে আঁসু" (১) উদিত নারায়ণ, সুরেশ ওয়াদকর, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি
"থোরী হাসি হ্যায় তোড়ে আঁসু" (২) সুরেশ ওয়াদকার, সাধনা সরগাম

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Udhaar Ki Zindagi"বক্স অফিস ইন্ডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০২১ 
  2. మురళి (নভেম্বর ২০০৮)। "సీతారామయ్య గారి మనవరాలు" [সীতারমাইয়া গারি মানাভারালু]। নবতারাঙ্গম। ১৪ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ জানুয়ারি ২০২১ 
  3. "Are you aware..."সৈনিক সমাচার। খণ্ড ৪০। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৯৯৩। পৃষ্ঠা ৩০। 
  4. বন্দ্যোপাধ্যায়, পিয়ালী (২৯ নভেম্বর ১৯৯৮)। "Kuch toh hona hi tha!"। ২২ এপ্রিল ১৯৯৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২১ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা