ইপিআই en:Expanded Program on Immunization সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচি হল বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা কর্তৃক টিকা দান কর্মসূচি যার লক্ষ্য সারা পৃথিবীর সকল শিশুকে এ কর্মসুচির অধীন নিয়ে আসা।ভারতও বাংলাদেশ সরকার সহ জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্র কর্তৃক শিশুদের সংক্রামক রোগগুলো টিকাদানের মাধ্যমে শিশু মৃত্যুহার কমানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা [১] পরিচালিত একটি চলমান কর্মসূচি। ৭ এপ্রিল ১৯৭৯ বাংলাদেশে ১ বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের বহুল পরিচালিত সংক্রামক রোগ যক্ষ্মা,ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি,হাম,পোলিও-মাইটিস এবংমা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার পরবর্তীকালে ২০০৩ সাল থেকে হ্যাপাটাইটিজ রোগের টিকা,২০০৯ সাল থেকে হিমোফাইলাস রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে নিউমোনিয়ার টিকা দেওয়া হচ্ছে।

ইতিহাসসম্পাদনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১৯৭৪ সালের মে মাসে ইপিআই কর্মসূচি শুরু করে বিশ্ব ব্যাপী শিশুদের টিকা কর্মসূচির অংশ হিসেবে। পরবর্তী ১০ বছর পরে ১৯৮৪ সালে বিশ্ব ব্যাপী শিশুদের টিকা কর্মসূচীর একটি কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণ করে। ১৯৯৯ সালের মধ্যে সমগ্র গরিব দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে GAVI (Global Alliance for Vaccines and Immunization)গঠিত হয়।[১]

পৃথিবীর সব চাইতে বড় বোঝা প্রদাহজনিত রোগ প্রতিরোধের জন্য (HWO),UNICEFWorld bank,en:Bill and Meldinah,en:Gates Foundation ,রকফেলার ফাউন্ডশন সহ বিভিন্ন সংঘ ওএনজিও সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে।

বর্তমানে ২০০৫ সালের মধ্যে EPI মাধ্যমে পোলিও ও শিশু ও মাতৃমৃত্যু শতভাগ কোমান। ১৯৯৯ সালের মধ্যে হাম জনিত মৃত্যু আর্ধেক করা। ২০১০ সালের মধ্যে সকল দেশে ৯০% ভ্যাক্সিনেশন। ২০০৭ সালের মধে সকল গরিব ৫০% এবং ২০০৫ সালের মধ্যে Hib প্রতিরোধ।[২]

কর্মসূচিসম্পাদনা

ক্রমিক রোগের নাম টিকার নাম
যক্ষা বিসিজি
পোলিও-মাইটিস ওপিভি
১।ডিপথেরিয়া২।হুপিংকাশি৩।ধনুষ্টংকার৪।হিমোফাইলাস বি ইনফ্লুঞ্জা৫।হেপাটাসিস বি পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা
নিউমোকক্কাল নিঊমোনিয়া পিসিভি
হাম ও রুবেলা এম আর ভ্যাকসিন
ধনুষ্টংকার টিটি

বাস্তবায়নসম্পাদনা

জাতিসংঘ সদস্য ভুক্ত দেশগুলো ইপিআই কর্মসূচি অনুসরণ করে প্রত্যেকে ভ্যাক্সিনেশন প্রকল্পে তাদের স্ব স্ব কর্মসূচী গ্রহণ করে। টিকা দান কর্মসুচি সফল ভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য বহুমুখী জটিল বিশ্বস্ত কর্মপন্থা যেমন কোল্ড চেইন বজায় রাখা,পরিবহন ব্যবস্থা, ভ্যাক্সিন সরবরাহ,ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও য়ব্যাবস্থাপনা,স্বস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পরিবিক্ষণ,জনসচেতনতা সৃষ্টি, শিশু ভ্যাক্সিনেশনর নথি সংরক্ষণ ইত্যদি।

 
EPI Schedule implemented

প্রত্যক এলাকায় কাজ করার ক্ষেত্রে তাদের প্রlপ্ত সুবিধার ভিন্নতার কারণে কর্নপন্থার কিছুটা ভিন্নতা আছে। কোন কোন দেশ হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাথে নির্দিষ্ট টিকাকেন্দ্র আছে

কিন্তু যেসব দেশে সীমিত সুবিধা আছে সে সব দেশে গ্রাম ও শহরবাসী মানুষের নিকট এ সুবিধা পৌছনোর জন্যে মোবাইল টিমের সদস্যরা কাজ করে। দুর্গম জায়গায় সেবাদল বছর ব্যাপী চালায়। উন্নয়নশীল দেশ গুলোর পক্ষে এ কাজ চালানো কাঠিন্ তারা বার্ষিক ভাবে শিশুদের  মধ্যে পালস ভ্যাক্সিনেশনর বব্যবস্থা করে।[৩]

অতিরিক্ত কর্নপন্থা হিসেবে ছোট গরিব শহর এলাকায় যেখানে ভ্যাক্সিনেশন সঠিকতর উপায়ে হয়না সেখানে দরজা থেকে দরজায় যেয়ে সাময়িক ভ্যাক্সিনেশন কর্মসূচি এএগিয়ে নেওয়া হয়।

ফলাফলসম্পাদনা

ইপিআই কর্মসূচি শুরুর দিকে শিশুদের মধ্যে যক্ষা,ডিপথেরিয়া, টিটেনাস,পলিও,হামের ভ্যাক্সিনেশনের হার ছিল ৫% যা বর্তমানে বেড়ে দাড়িয়েছে ৭৯%। কিন্তু অন্যান্য ভ্যাক্সিনেশন যেমন হ্যাপাটাইটিজ- বি,ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি,রুবেলা,টিটেনাস এবং হলুদ জ্বর শুরু হয়েছে।১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে কিন্তু পলিও নিবারনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যর্থ হয়েছে। [৪][৫]

মুল্যায়নসম্পাদনা

প্রত্যেকে দেশে এই কর্মসুচি দুইভাবে মনিটরিং করা হয়; একটি হল কমিউনিটি ভিত্তিক জরিপ, যেটা প্রশাসনিক ভাবে করা হয়। এই জরিপ যে সমস্ত এলাকায় সরকারী ভ্যাক্সিনেশন চালিত হয় সেই এলাকার জনগণ,NGO পরিচালিত ক্লিনিক থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। আর যেসব দেশে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছ সেসব দেশে শুধু জনজরিপের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মডেলে কমিউনিটি ভিত্তক জরিপ দলগত নমুনা জরিপের উপর প্রতিষ্ঠিত। ভ্যাক্সিনেশন জরিপ দ্বি-ধাপ বিশিষ্ট নমুনা জরিপের উপর প্রতিষ্ঠিত যেখানে ৩০ দল থাকে আর প্রতি দলে থাকে ৭টি শিশু। স্বাস্থ্য কর্মীদের নামেমাত্র প্রশিক্ষণ বা প্রশিক্ষণহীনতা এই জরিপ সুষ্ঠু হয়না। [৬]

জরিপ অথবা জরিপের প্রশ্নপত্র প্রায় শুধু প্রশাসনিক রিপোর্ট বা স্বমুল্যায়নের উপর ভিত্তি করে হয় ফলে অশুদ্ধ হয়। যদি গৃহভিত্তিক পর্যাপ্ত দলিল সংরক্ষিত হয় এবং শুধু ভ্যাকসিন নয় ভ্যাক্সিনের তারিখ সহ জরিপ কররলে ভযাকসিন নির্দিষ্ট সময় অন্তর হয়েছে কিনা,বয়স ঠিক আছে কিনা তাও নিশ্চিত করা যায়। বাদ যাওয়া শিশু সনাক্তকরণ এবং তাদের টিকা তথ্য যাতে জরিপে অন্তর্ভূত করা যায় তা নিশ্চিত করা উচিত।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Jamison D, Breman J, Measham A, Alleyne G, Claeson M, Evans D, Jha P, Mills A, Musgrove P. Disease Control Priorities in Developing মম্পCountries, Second Edition. 2006, The World Bank Group ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে. ১৯৯৯ সালেGAVI) The GAVI Alliance ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ আগস্ট ২০১৪ তারিখে
  2. Hadler S, Cochi S, Bilous J, Cutts F. “Vaccination Programs in Developing Countries.” Chapter 55: Vaccines, Fourth Edition. 2004, Elsevier Inc.
  3. Jamison D, Breman J, Measham A, Alleyne G, Claeson M, Evans D, Jha P, Mills A, Musgrove P. Disease Control Priorities in Developing Countries, Second Edition. 2006, The World Bank Group ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে.
  4. UNICEF. “Expanding Immunization Coverage”
  5. but it has also been expanded to include other vaccinations such as for hepatitis B, Haemophilus influenzae type B, rubella, tetanus and yellow fever. The impact of increased vaccination is clear from the decreasing incidence of many diseases. For example, measles deaths decreased by 60% worldwide between 1999 and 2005, and polio, although missed the goal of eradication by 2005, has decreased significantly as there were less than 2000 cases in 2006. http://www.unicef.org/immunization/index_coverage.html UNICEF. « Expanding Immunization Coverage ».
  6. “A simplified general method for cluster-sample surveys of health in developing countries.” World Health Statistics Quarterly. 1991; 44(3):98-106.

বহি:সংযোগসম্পাদনা