আলেকজান্ডার ডালরিম্পল

আলেকজান্ডার ডালরিম্পল এফআরএস (২৪ জুলাই ১৭৩৭ [১] — ১৯ জুন ১৮০৮) ছিলেন একজন স্কটিশ ভূগোলবিদ এবং ব্রিটিশ নৌসেনা-বিভাগের (অ্যাডমিরালটি) প্রথম হাইড্রোগ্রাফার। তিনি এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা যে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে টেরা অস্ট্রালিস নামের একটি অনাবিষ্কৃত প্রচ্ছন্ন ও বিস্তৃত মহাদেশের অস্তিত্ব রয়েছে। তিনি হাজার হাজার নৌসংক্রান্ত (নটিক্যাল) চার্ট তৈরি করেছিলেন, প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমুদ্র ও মহাসাগরের মানচিত্র তৈরি করেছিলেন এবং নৌপরিবহণের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তার তত্ত্বগুলি এই পৌরাণিক ভূমির সন্ধানের জন্য অনেকগুলো অভিযান পরিচালনা করতে প্ররোচিত করেছিল যতদিন না জেমস কুকের দ্বিতীয় যাত্রা (১৭৭২-১৭৭৫) থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছা গিয়েছিল যে যদি সত্যিই টেরা অস্ট্রালিসের অস্তিত্ব থেকে থাকে তবে তা দক্ষিণ অক্ষাংশের ৬৫° রেখার চেয়ে আরও দক্ষিণে।

আলেকজান্ডার ডালরিম্পল, শিল্পী কনরাড ওয়েস্টারমায়ার কর্তৃক খোদাই করা চিত্র
আলেকজান্ডার ডালরিম্পল, ১৮০২ সালে শিল্পী উইলিয়াম ড্যানিয়েলের আঁকা চিত্র

জীবনীক্রমসম্পাদনা

ডালরিম্পল জন্মগ্রহণ করেছিলেন এডিনবরার নিকটবর্তী নিউহেইল‌্সে। তার বাবা স্যার জেমস ডালরিম্পল এবং মা লেডি ক্রিশ্চিয়ান হ্যামিল্টন। লেডি ক্রিশ্চিয়ান ছিলেন আর্ল অফ হ্যাডিংটনের কন্যা। পনেরো জন ভাইবোনের মধ্যে ডালরিম্পল এগারোতম। [২]

তিনি ১৭৫২ সালে লন্ডনে যান ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে লিপিকার হিসেবে নিযুক্ত হন এবং প্রথমে তাকে চাকরিসূত্রে মাদ্রাজে পোস্ট করা হয়। তিনি ১৭৫৩ সালে মাদ্রাজে এসেছিলেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে থাকাকালীন তিনি ইস্ট ইন্ডিজ ও চীনের সাথে বাণিজ্যের সম্ভাবনার প্রতি আগ্রহী হন এবং পরবর্তীকালে সুলুর সুলতানের সাথে একটি চুক্তি করেন ও ২২ বছর বয়সে ক্যান্টন (কুয়াংচৌ) সফর করেন। তিনি ২৯শে মার্চ ১৭৬৪ সালে ডসন ড্রেকের প্রয়াণে ম্যানিলা কাউন্সিল দ্বারা অস্থায়ী ডেপুটি গভর্নর নির্বাচিত হন। এরপরে ১০ এপ্রিলে তিনি সুলতান আলিমুদ্দিন প্রথমের সাথে সুলুর উদ্দেশ্যে ম্যানিলা ত্যাগ করেন। [৩] :২, ৫–৬, ১০৪–১০৬

১৭৬৫ সালে তিনি লন্ডনে ফিরে আসেন এবং রয়েল সোসাইটির সভ্য (ফেলো) নির্বাচিত হন। সেখানে পুর প্রকৌশলী (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) জন স্মিটনের সাথে তার পরিচয় হয়, যিনি বায়ুকল (উইন্ডমিল) নিয়ে পড়াশোনা করার সময় বায়ুর গতি গ্রেডিংয়ের জন্য একটি বর্ণনামূলক স্কেল তৈরি করেছিলেন। এই স্কেলটি সেই গবেষণাপত্রটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল যার জন্য তিনি কপলি পদক পেয়েছিলেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বায়ু সংজ্ঞায়ন: বিউফর্ট স্কেল এবং উনিশ শতকের একজন নৌসেনাধ্যক্ষ (অ্যাডমিরাল) বিজ্ঞানকে যেভাবে কবিতায় রূপান্তরিত করেছিলেন (Defining the Wind: The Beaufort Scale and How a 19th-Century Admiral Turned Science into Poetry) রচনায় লেখক স্কট হুলার বর্ণনা করেছেন যে ডালরিম্পলের সমুদ্রযাত্রা তাকে নিশ্চিত করেছিল যে সমুদ্রে বাতাসের গতি পরিমাপের জন্য একটি আদর্শ স্কেল নাবিকদের কাছে বেশ ফলপ্রসূ হবে এবং তিনি তার রচনা প্র্যাকটিক্যাল নেভিগেশন-এ স্মিটনের স্কেলের কথা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা প্রায় ১৭৯০ সালের দিকে লেখা হয়েছিল কিন্তু কখনও প্রকাশিত হয়নি। এটা মনে করা হয় যে ডালরিম্পল এই তথ্যগুলো ফ্রান্সিস বিউফোর্টকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফ্রান্সিস বিউফোর্ট বাতাসের এই স্কেলটি কিছুটা পরিমার্জন করেছিলেন যা বর্তমানে তার নামেই সমাদৃত এবং ব্যবহৃত হয়।

১৭৬২ সালে ফিলিপাইনে জব্দকৃত কিছু স্প্যানিশ দলিলের অনুবাদ করার সময় ডালরিম্পল লুইস ভেজ দে টরেস-এর (Luis Váez de Torres) বিবৃতি খুঁজে পেয়েছিলেন যা নিউ গিনির দক্ষিণে একটি উত্তরণ প্রমাণ করেছে, বর্তমানে এটি টরেস প্রণালী নামে পরিচিত। এই আবিষ্কারের ফলে ডালরিম্পল ১৭৭০–১৭৭১ সালে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে কয়েকটি ভ্রমণ ও আবিষ্কারের ঐতিহাসিক সংগ্রহ (Historical Collection of the Several Voyages and Discoveries in the South Pacific Ocean) রচনাটি প্রকাশ করতে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলো, যা তার অজানা মহাদেশের অস্তিত্বের দাবিতে ব্যাপক আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। এদিকে, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার জায়গায় জেমস কুককে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং ১৭৭০ সালে এই অভিযানে আবিষ্কৃত হয়েছিলো অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল অঞ্চল।

"১৭৭২ সালে ডালরিম্পল তার চার্টগুলোর প্রথম সেটটি প্রকাশ করেছিলেন, যার মধ্যে চারটি চার্ট-ই ছিলো সুলুর চারপাশের সমুদ্র সম্পর্কিত।" ১৭৭৯ সালে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাইড্রোগ্রাফিক অফিস এবং ১৭৯৫ সালে নৌসেনা-বিভাগের (অ্যাডমিরাল্টি) নেতৃত্বে ছিলেন।[৩] :১২৪–১২৫

১৭৮২ সালে তিনি রাজকীয় সুয়েডীয় বিজ্ঞান একাডেমির (রয়েল সুইডিশ একাডেমি অফ সায়েন্স) একজন বিদেশী সদস্য নির্বাচিত হন।

টীকাসম্পাদনা

  1. Although he gave his year of birth as 1737, Phillimore (1945) noted that his certificates indicated 1736.
  2. Dictionary of National Biography, Dalrymple, Alexander (1737–1808), hydrographer by Andrew S. Cook
  3. Tracy, Nicholas (১৯৯৫)। Manila Ransomed। University of Exeter Press। আইএসবিএন 0859894266 

উৎসসম্পাদনা

  • ফিলিমোর, কর্নেল আর.এইচ. (১৯৪৫)। ভারত জরিপের ঐতিহাসিক সংগ্রহ। খণ্ড ১, ১৮ শতক। দেহর দুন: সার্ভে অব ইন্ডিয়া। পৃষ্ঠা ৩৩০–৩৩১। 
  • অস্ট্রেলিয়ান বায়োগ্রাফির অভিধান । খণ্ড ১: ১৭৮৮-১৮৫০। ১৯৬৬ মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস।
  • ডালরিম্পল, আলেক্সান্ডার (খ্রি. ১৭৯০)। প্র্যাকটিক্যাল নেভিগেশন । প্রিন্টারের প্রমাণ। স্কটল্যান্ডের জাতীয় গ্রন্থাগার, শেলফমার্ক। Nha.M90 (৩)
  • ফ্রেন্ডলি, আলফ্রেড অ্যাডমিরালটির সৌন্দর্য নিউ ইয়র্ক র‌্যান্ডম হাউস, ১৯৭৭
  • হুলার, স্কট (২০০৪)। বায়ু সংজ্ঞায়ন: বিউফর্ট স্কেল এবং উনিশ শতকের একজন অ্যাডমিরাল বিজ্ঞানকে যেভাবে কবিতায় রূপান্তরিত করেছেন (Defining the Wind: The Beaufort Scale, and How a 19th-Century Admiral Turned Science into Poetry)। ক্রাউন। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০০০-৪৮৮৪-৭ আইএসবিএন   978-1-4000-4884-7
  • হাওয়ার্ড টি ফ্রাই, আলেকজান্ডার ডাল্রিম্পল (১৭৩৭-১৮০৮) এবং ব্রিটিশ বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, লন্ডন, ক্যাস ফর দ্য রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি, ১৯৭০। আইএসবিএন ০-৭১৪৬-২৫৯৪-৯ আইএসবিএন   0-7146-2594-9

বহিঃসংযোগসম্পাদনা