আমিনুল ইসলাম (চিত্রশিল্পী)

বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী

আমিনুল ইসলাম (৭ নভেম্বর ১৯৩১ - ৮ জুলাই ২০১১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী। তিনি ঢাকা আর্ট কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র এবং প্রথম সরকারি গেজেটভুক্ত শিক্ষক। চিত্রকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৮১ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৮ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। [১][২]

আমিনুল ইসলাম
Mohammad, Aminul, Rashid and Qayyum.jpg
(বাম থেকে) মোহাম্মদ কিবরিয়া, ইসলাম, রশিদ চৌধুরী এবং কাইয়ুম চৌধুরী (১৯৫৯)
জন্ম(১৯৩১-১১-০৭)৭ নভেম্বর ১৯৩১
মৃত্যু৮ জুলাই ২০১১(2011-07-08) (বয়স ৭৯)
মৃত্যুর কারণবার্ধক্য
সমাধিবনানী কবরস্থান, ঢাকা
জাতীয়তাবাংলাদেশী
শিক্ষাচিত্রকলা
মাতৃশিক্ষায়তনঢাকা আর্ট কলেজ
পেশাচিত্রশিল্পী, অধ্যাপক
কর্মজীবন১৯৫৬-১৯৮৩
পুরস্কারএকুশে পদক
স্বাধীনতা পুরস্কার

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

আমিনুল ইসলাম ১৯৩১ সালের ৭ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) টেটিয়া গ্রামে তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকার মাহুতটুলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি আরমানিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এসময়ে তিনি জাপানি, চীনা, ও ভারতীয় চিত্রশিল্পীদের কাজ অনুসরণ করতেন। তিনি জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাজ পছন্দ করতেন। ১৯৪৭ সালে তিনি মেট্রিকুলেশন পাস করেন এবং চিত্রকলা বিষয়ে পড়াশুনার জন্য কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তি হতে যান। সেখানে তার জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, শফিউদ্দিন আহমেদের সাথে সাক্ষাৎ হয়। তারা তাকে পরামর্শ দেন যে তার কলকাতায় ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই কারণ ঢাকায়ই একটি আর্ট কলেজ হতে যাচ্ছে। তিনি জয়নুল আবেদীনের সাথে ঢাকায় ফিরে আসেন।[৩] ১৯৪৮ সালে নব্যপ্রতিষ্ঠিত গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্ট (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এ ভর্তি হন। ফলে তিনি ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। হামিদুর রহমান, ইমদাদ হোসেন, ইসমাইল, আবদুল কাদের তার সহপাঠী ছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি প্রথম বিভাগে স্নাতক সম্মান লাভ করেন এবং একই বছর ইতালি সরকারের বৃত্তি নিয়ে তিন বছরের জন্য ফ্লোরেন্সের আকাদেমি দেল বেল্লে আর্তে-এ উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে যান।[২]

কর্মজীবনসম্পাদনা

আমিনুল ১৯৫৬ সালে ইতালি থেকে দেশে এসে ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি প্রথম সরকারি গেজেটভুক্ত শিক্ষক। ১৯৭৮ সালে তিনি আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই তিনি শিক্ষকতা থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন।[২]

কাজসম্পাদনা

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আমিনুল ইসলামের করা ম্যুরালসমূহ হল:

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরাতন ভবনের অভ্যন্তরের দেয়াল (১৯৬৮)
  • ওসমানী হলের সামনের দেয়ালে নির্মিত মোজাইক ম্যুরাল (১৯৮৪)
  • মতিঝিলে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রবেশমুখে ২০ x ২০ ফুট আয়তনের ম্যুরাল (১৯৮৬)
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের বত্রিশ তলা ভবনের ললাটে উৎকীর্ণ ৮৪ x ১৫.১ ফুট আয়তনের ম্যুরাল (১৯৯৬)

মৃত্যুসম্পাদনা

আমিনুল ইসলাম ২০১১ সালের ৮ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকার গুলশান-২ তার নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।[৪] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর তার জানাজার পর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।[৫]

সম্মাননাসম্পাদনা

  • ঢাকা আর্ট গ্রুপ শো-তে প্রথম পুরস্কার, ১৯৫২।
  • জাতীয় শিল্প প্রদর্শনী, ১৯৫৭-১৯৬৪।
  • শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৭৬।
  • চিত্রকলায় অবদানের জন্য একুশে পদক, ১৯৮১।
  • বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা, ১৯৮৫।
  • চিত্রকলায় অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার, ১৯৮৮।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "আমিনুল ইসলাম"টুনস ম্যাগ। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৪ 
  2. রীটা, ভদ্রেশু। "ইসলাম, আমিনুল"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  3. Hossain, Takir (৬ অক্টোবর ২০০৯)। "Aminul Islam: A modernist and experimental painter"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  4. "Artist Aminul Islam dies"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 
  5. "Artist Aminul Islam buried"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৭ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা