আবগারি শুল্ক দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্যের ওপর আরোপিত কর। পরিভাষা হিসেবে ‘আবগারি কর’ ‘আবগারি শুল্ক’ অপেক্ষা ব্যাপকতর অর্থ বহন করে এবং এর মধ্যে দ্রব্য বা সেবার উৎপাদন, বিক্রয়, বা ক্রয়ের ওপর আরোপিত কর অন্তর্ভুক্ত। তাত্ত্বিকভাবে, ‘আবগারি কর’ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানির ওপর সমভাবে প্রযোজ্য হলেও বাস্তবে তা শুধু অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর আরোপ করা হয়। আবগারি শুল্ক সরকারি রাজস্ব সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আবার এটি আয়ের পুনর্বণ্টনের উদ্দেশ্যেও ব্যবহূত হতে পারে। করারোপের সুবিধার নীতি প্রয়োগের জন্যও আবগারি শুল্ককে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন, কোনো বিশেষ দ্রব্যের (যথা, তামাকের) ওপর আবগারি শুল্ক সংগ্রহ করে উক্ত তহবিল ওই দ্রব্যের ভোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। আবগারি শুল্ক তথাকথিত অনভিপ্রেত দ্রব্যাদির (যেমন, মদ ও তামাকের) ভোগকে নিরুৎসাহিত করতে আরোপ করা হয়। কখনও বা (যেমন যুদ্ধের সময়) কোনো কোনো দ্রব্যের দুষ্প্রাপ্যতা বা মূদ্রাস্ফীতির চাপে উক্ত দ্রব্যের ব্যবহার/ভোগ নিয়ন্ত্রণ বা হ্রাসের জন্য আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়। আবগারি শুল্ক মূল্যভিত্তিতে অথবা পরিমাণভিত্তিতে নির্ণয় করা হয়।

আবগারী শুল্ক এক প্রকার পরোক্ষ কর যা দেশজ উৎপাদনের ওপর আদায় করা হয়ে থাকে। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য কারখানা থেকে খালাসের সময় এই শুল্ক আদায় করা হয়।[১] বাংলাদেশে আবগারী ও লবণ আইন ১৯৪৪-এর আওতায় আবগারী শুল্ক আদায় করা হয়ে থাকে। জাতীয় সংসদে বিভিন্ন পণ্যের ওপর আরোপণীয় আবগারী শুল্ক হার নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে আদায়যোগ‌্য তথা কার্যকর শুল্কহার নিরূপণ করে। বাংলাদেশে ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় এবং পর্যায়ক্রমে অধিকাংশ পণ্যের ওপর আবগারী শুল্ক রহিত করে মূল্য সংযোজন কর আরোপ করা হয়। বর্তমানে[কখন?] গুটিকয়েক পণ্য ও কৃত্যের দেশজ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর আবগারী শুল্ক ধার্য আছে।

ইতিহাস ও মূলনীতিসম্পাদনা

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. স্বপন কুমার বালা (২০১২)। "আবগারি শুল্ক"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743