আন্তর্জাতিক অভিবাসন

আন্তর্জাতিক অভিবাসন হলো যখন মানুষ নিজ রাষ্ট্রের সীমানা অতিক্রম করে এবং গন্তব্য দেশে ন্যূনতম সময়ের জন্য অবস্থান করে।[১] অভিবাসন অনেক কারণেই ঘটে। অন্য দেশে অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানের জন্য অনেকে নিজের দেশে ছেড়ে চলে যায়। অভিবাসন করেছেন এমন পরিবারের সদস্যদের সাথে থাকতে অনেকে স্থানান্তরিত হয়। তাদের দেশে রাজনৈতিক অবস্থার কারণেও অভিবাসন হয়ে থাকে। যেহেতু শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনা করতে যায় তাই আন্তর্জাতিক অভিবাসনের আরেকটি কারণ শিক্ষা।[২] আন্তর্জাতিক অভিবাসীদের শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন সম্ভাব্য ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও একটি ব্যবস্থা তাদের নয়টি দলে সংগঠিত করে: অস্থায়ী শ্রম অভিবাসী; অনিয়মিত অভিবাসী, অবৈধ, বা অনিবন্ধিত অভিবাসী; অত্যন্ত দক্ষ এবং ব্যবসায়ী অভিবাসী; শরণার্থী; আশ্রয়প্রার্থী; জোরপূর্বক অভিবাসী; পরিবারের সদস্যগণ; প্রত্যাবৃত্ত অভিবাসী; এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বল্প দক্ষ অভিবাসী।[৩] এই অভিবাসীদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী দুটি বৃহৎ দলে ভাগ করা যায়। স্থায়ী অভিবাসীরা নতুন দেশে তাদের স্থায়ী বাসস্থান প্রতিষ্ঠা করা এবং সম্ভবত সেই দেশের নাগরিকত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে আসেন। অস্থায়ী অভিবাসীরা কেবলমাত্র সীমিত সময়ের জন্য থাকার উদ্দেশ্যে আসেন। তারা অধ্যয়নের কোনও নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম, তাদের কাজের চুক্তি বা নির্দিষ্ট কাজের জন্য আসেন।[৪] উভয় ধরনের অভিবাসী বিদেশ এবং স্বদেশের অর্থনীতি এবং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।[৫]

২০০৯ সালের স্থানান্তর হার: ইতিবাচক (নীল), নেতিবাচক (কমলা), স্থির (সবুজ), তথ্য নেই (ধুসর)।

একইভাবে, যেসব দেশ এই অভিবাসীদের গ্রহণ করে তাদের প্রায়শই চারটি বিভাগে বিভক্ত করা হয়: ঐতিহ্যবাহী বসতি দেশ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে শ্রম অভিবাসনকে উত্সাহিত করেছে এমন ইউরোপীয় দেশ, ইউরোপীয় দেশ যারা তাদের পূর্ববর্তী উপনিবেশগুলো থেকে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গ্রহণ করে এবং যে দেশগুলো থেকে পূর্বে অনেকে অন্য দেশে যেত তবে সম্প্রতি অভিবাসীরা সেই দেশে আসে।[৩] এই দেশগুলো দুইভাবে গোষ্ঠীভুক্ত করা হয়। যথা, প্রবাসী-প্রেরণকারী ও অভিবাসী-গ্রহণকারী দেশ যাদের প্রশাসনের সমস্যা রয়েছে। তবে এইভাবে শ্রেণিবদ্ধ করাটি কৃত্রিম এবং এটি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়গুলোকে অস্পষ্ট করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, যখন একটি অভিবাসী-প্রেরণকারী দেশ একইসাথে অভিবাসীদের গ্রহণকারী দেশ হয়ে থাকে।[৬] সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর মধ্যে বিস্তৃত বহুসংস্কৃতি জনসংখ্যা রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮৮% অভিবাসী। কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতই নয়, কাতারে ৭৪%, কুয়েতে ৬০%, এবং বাহরাইনের ৫৫% জনসংখ্যা বিভিন্ন দেশ (যেমন, ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান) থেকে চলে এসেছেন। জনসংখ্যার ৫০০% বৃদ্ধি হয়ে জনসংখ্যা ১৯৯০ সালে ১৩ লাখ থেকে ২০১৩ সালে ৪৮ লাখে দাঁড়িয়েছে।[৭]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সরকারের সাথে তুলনা করে, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বের ওবামা প্রশাসনে শরণার্থী এবং আশ্রয় প্রার্থীদের সংখ্যা দ্বিগুণ করে ১২,০০০ জন করেছে এবং ২০২০ সালের মধ্যে এটি হবে মাত্র ১৮,০০০ জন। অভিবাসন ও সীমান্ত পরিষেবা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, এ বছর অতীতের চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি দাবি করা হয়েছে এবং তা পূর্ববর্তী প্রশাসনের চেয়ে অর্ধেকেরও কম স্বীকৃতি পেয়েছে। ওবামা প্রশাসনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া প্রতিবেদনের সংখ্যা ১১০,০০০ যা ২০২০ সালের মধ্যে ৩৪৮,০০০-এ পৌঁছেছে।[৮]

এই দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে আছে: রেমিটেন্সের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দেশের অভ্যন্তরে প্রবাসীদের অধিকার এবং আগত অভিবাসীদের অধিকার।[৯] মানুষ আর্থিকভাবে সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশে অভিবাসিত হতে শুরু করার সাথে সাথে রেমিটেন্স হিসাবে তাদের আয় পাঠিয়ে তাদের দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে। বিশ্বব্যাংকের এক অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিভিন্ন দেশের মানুষ প্রায় ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পায় এবং এটি পরের বছরে ০.৪% বৃদ্ধি পেয়ে, ৫৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।[১০]

পরিসংখ্যানসম্পাদনা

ধারণা করা হয়েছে, অভিবাসনের সীমাবদ্ধতা যদি দূর করা হয় তবে গড়ে বিশ্বের কমপক্ষে "৫০% জন মানুষ বিদেশে বাস করবে"।[১১]

অভিবাসনের কারণসম্পাদনা

বিকর্ষকারণ

  • নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবা
  • অপর্যাপ্ত চাকরি
  • সীমিত সুযোগ
  • অনুন্নত জীবনমান
  • রাজনৈতিক ভয়
  • অত্যাচার ও দুর্ব্যবহারের ভয়
  • ধর্মীয় বৈষম্য
  • অর্থ-সম্পদের ক্ষতি
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  • উৎপীড়ন

আকর্ষকারণ

  • চাকরির সুযোগ
  • উন্নত জীবনমান
  • উপভোগ
  • শিক্ষা
  • ভালো স্বাস্থ্যসেবা
  • সুরক্ষা
  • পারিবারিক সম্পর্ক
  • নিম্ন অপরাধ হার

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Where Immigrant Students Succeed - A comparative review of performance and engagement in PISA 2003. Paris: OECD Publications, 2006 (17-19).
  2. OECD International Migration Outlook, 2007, Paris: OECD Publications, 2007, SourceOECD 18 July 2007 http://www.oecd.org/about/0,3347,en_2649_33931_1_1_1_1_1,00.html.
  3. Where Immigrant Students Succeed (17-19).
  4. OECD International Migration Outlook, 2007.
  5. “Trends in International Migration and Migration Policies: About,” OECD Directorate for Labour, Employment and Social Affairs, OECD.org, 18 July 2007 http://www.oecd.org/about/0,3347,en_2649_33931_1_1_1_1_1,00.html .
  6. Palmer, Wayne; Missbach, Antje (২০১৯-০৫-০৪)। "Enforcing labour rights of irregular migrants in Indonesia"। Third World Quarterly (ইংরেজি ভাষায়)। 40 (5): 908–925। আইএসএসএন 0143-6597ডিওআই:10.1080/01436597.2018.1522586  
  7. "Understanding the Gulf States"www.washingtoninstitute.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-৩০ 
  8. Shear, Michael D.; Kanno-Youngs, Zolan (২০১৯-০৯-২৬)। "Trump Slashes Refugee Cap to 18,000, Curtailing U.S. Role as Haven"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-৩০ 
  9. Bal, Charanpal S.; Palmer, Wayne (মার্চ ২০২০)। "Indonesia and circular labor migration: Governance, remittances and multi-directional flows"। Asian and Pacific Migration Journal (ইংরেজি ভাষায়)। 29 (1): 3–11। আইএসএসএন 0117-1968এসটুসিআইডি 220053545ডিওআই:10.1177/0117196820925729 
  10. "Remittances growth to slow sharply in 2015, as Europe and Russia stay weak; pick up expected next year"World Bank (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-৩০ 
  11. Delogu, M., Docquier, F., & Machado, J. (2018). Globalizing labor and the world economy: The role of human capital. Journal of Economic Growth, 23(2), 223-258. doi:http://dx.doi.org.libaccess.lib.mcmaster.ca/10.1007/s10887-017-9153-z

বহিঃসংযোগসম্পাদনা