আগ্ৰা দুর্গ (হিন্দি: आगरा का किला) বা আগ্ৰার লালকেল্লা ভারতীয় উপমহাদেশের শাসক মোঘল রাজবংশের রাজকীয় আবাস্থাল এবং মোগল স্থাপত্যের এক অনবদ্য নিদৰ্শন। কেল্লাটি ১৯৮২ সালে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে (iii) নং বিভাগে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অন্তৰ্ভুক্ত হয়। দুৰ্গটি ভারতের একটি রাজ্য উত্তর প্রদেশের আগ্রার যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। মোগল স্থাপত্যের অন্যতম নিদৰ্শন তাজমহল আগ্ৰা কেল্লা থেকে মাত্ৰ ২.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

আগ্ৰা দুর্গ
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
Agrafortushnish1.jpg
আগ্ৰা দুর্গের প্ৰবেশদ্বার
মানদণ্ডঐতিহাসিক: iii
সূত্র২৫১
তালিকাভুক্তকরণ১৯৮৩ (৭ তম সভা)
শীষ মহল,আগ্রা ফোর্ট

আগ্ৰা দুর্গ রাঙা বেলেপাথরের তৈরি। দুৰ্গের প্রাঙ্গণের আয়তন ২.৫ কি.মি.। দুৰ্গটির অভ্যন্তরে অনেক প্ৰাসাদ, মিনার এবং মসজিদ আছে। এসব ষোড়শ শতাব্দী থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর প্ৰথমাৰ্ধের মধ্যবৰ্তী সময়ে নিৰ্মিত হয়। ১১ শতকে নির্মিত একটি প্রাচীন দুর্গের সম্প্রসারণ হিসাবে এর নিৰ্মাণকাৰ্য ষোড়শ শতাব্দীতে আকবর এর রাজত্বকালে আরম্ভ হয় এবং অষ্টাদশ শতাব্দীতে ঔরঙ্গজেব এর রাজত্বকালে শেষ হয়। জাহাঙ্গীর এবং শাহজাহান এর রাজত্বকালে দুৰ্গের বহু নতুন স্থাপনা নিৰ্মিত হয়েছিল। দুৰ্গ-অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্য দৰ্শনীয় স্থানসমূহ হল - খাস মহল, শীশ মহল, মুহাম্মান বুৰ্জ (এটি অষ্টভূজাকৃতির মিনার), দেওয়ান-ই-খাস (১৬৩৭), দেওয়ান-ই-আম, মোতি মসজিদ (নিৰ্মাণকাল ১৬৪৬-৫৩) এবং নাগিনা মসজিদ (১৬৫৮-১৭০৭)। এই স্থাপনাসমূহে 'তিমুরিদ পারসিক' শিল্পকলা এবং 'ভারতীয় শিল্পকলা'র এক আশ্চৰ্য মিশ্ৰণ পরিলক্ষিত হয়।[১][২]

ইতিহাসসম্পাদনা

যদিও বর্তমান দুর্গটির অধিকাংশই মোঘল আমলে নির্মিত হলেও সেখানে ১১ শতকে নির্মিত একটি প্রাচীন দুর্গের অবস্থান ছিল। ১৪৭৫ সালে আগ্রা ফোর্ট ছিল রাজা বাদল সিং এর অধীনে ইষ্টক নির্মিত একটি সামরিক দুর্গ। যার নাম ছিল বাদলগড়। ইতিহাসে ১০৮০ সালে সর্বপ্রথম এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এ সময়ে গজনভীর সামরিক বাহিনী এই দুর্গ দখল করে। সুলতান সিকান্দার লোদি (১৪৮৮-১৫১৭) সালে দিল্লী থেকে তার রাজধানী আগ্রায় স্থানান্তর করেন। এরপর থেকে আগ্রা দ্বিতীয় রাজধানীর পেয়েছিল এবং সুলতানি আমলে আগ্রা থেকেই রাজকীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হত। তার পুত্র সিকান্দার লোদি ১৫১৭ সালে পানিপথের যুদ্ধে সম্রাট আকবারের নিকট পরাজিত ও নিহত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত এখানে অবস্থান করেন। সিকান্দার লোদি এই কেল্লার বেশ কিছু ইমারত ও ইদারা নির্মাণ করেছিলেন।

১৫২৬ সালে দিল্লী জয়ের পর সম্রাট বাবর আগ্রা দুর্গে অবস্থান করেন। তিনি এখানে একটি বাউলি (সিঁড়ি যুক্ত ইদারা) নির্মাণ করেন। ১৫৩০ সালে এই দুর্গে সম্রাট হুমায়ুনের রাজ্যাভিষেক হয়। ১৫৪০ সালে হুমায়ুন বিলগ্রামে শের শাহরে কাছে পরাজিত হন। ১৫৫৫ সাল পর্য়ন্ত এই দুর্গ শের শাহের দখলে থাকে। এরপর হুমায়ন আগ্রা দুর্গ পুনরুদ্ধার করেন।

 
হিমু ১৫৫৩ সালে আগ্রা জয় করেন এবং ১৫৫৬ সালে আবার আকবরের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন

১৫৫৬ সালে আদিল শাহ শূরীর সেনাপতি হিমু আগ্রা ফোর্ট পুনরায় দখল করে এবং আগ্রার পলায়নরত গভর্নরের পশ্চাতধাবন করেন। এসময়ে তুঘলকাবাদের সমরাঙ্গণে মোগল বাহিনীর সাথে তার যুদ্ধ হয়। যা তুঘলাকাবাদের যুদ্ধ নামে পরিচিত। [৩]

১৫৫৮ সালে সম্রাট আকবর আগ্রায় রাজধানী স্থানান্তর করেন। ঐতিহাসিক আবুল ফজল সেই সময়ের দুর্গকে বাদালগড় হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। সম্রাট আকবর রাজাস্থানের আরাউলি থেকে সংগ্রহীত বেলেপাথর দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দুর্গটির সংস্কার সাধন করেন। দুর্গের ভিতরের অংশে ইটের গাঁথুনি আর বাইরের অংশে আছে বেলেপাথরের আস্তরন। প্রায় ৪ হাজার কর্মী ৮ বছর প্রতিদিন পরিশ্রম করে ১৫৭৩ সালে আগ্রা দুর্গের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে।[৪]

সম্রাট আকবরের পৌত্র সম্রাট শাহজাহানের আমলে আগ্রা দুর্গ তার বর্তমান রূপ লাভ করে। শাহাজাহান লাল বেলেপাথরের নির্মিত ইামারতের চেয়ে স্বেত পাথর দ্বারা নির্মিত ভবন অধিকতর পছন্দ করতেন।

এরপর বিভিন্ন সময়ে মারাঠা ও তাদের শত্রুরা আগ্রা দুর্গের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ১৭৬১ সালে আহমেদ শাহ আবদালি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মারাঠাদের পরাজিত করলে পরবর্তী এক দশক মারাঠারা এই দুর্গ দখলের কোন চেষ্টা করতে পারেনি।পরে এই দুর্গ ব্রিটিশ রা দখল করে নেয়।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে এই দুর্গে দেশীয় সিপাহী ও ইংরেজ সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

নকশাসম্পাদনা

 
লাল কেল্লার নকশা, আগ্রা,মুরে'সের হ্যান্ডবুক ফর ট্রাভেলারস ১৯১১ বই থেকে

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য তথ্যসম্পাদনা

আলোকচিত্রসম্পাদনা

তথ্য সূত্রসম্পাদনা

  1. "World Heritage List no. 251" (pdf)। UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০২ 
  2. "Agra Fort"। UNESCO। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১০-০২ 
  3. Sarkar, Jadunath (১৯৬০)। Military History of India। Orient Longmans। পৃষ্ঠা 66–67। 
  4. "Agra Fort (1983), Uttar Pradesh – Archaeological Survey of India"। ৩ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০১৩ 

বহিঃ সংযোগসম্পাদনা

স্থানাঙ্ক: ২৭°১০′৪৬″ উত্তর ৭৮°০১′১৬″ পূর্ব / ২৭.১৭৯৫৪২° উত্তর ৭৮.০২১১০১° পূর্ব / 27.179542; 78.021101