আখতার আহমেদ (আনু. ১৯৪৬–২১ মার্চ ২০১৬) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[১]

আখতার আহমেদ
আখতার আহমেদ.png
জন্মআনু. ১৯৪৬
মৃত্যু২১ মার্চ ২০১৬
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্বব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণবীর প্রতীক

জন্ম ও শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

আখতার আহমেদের জন্ম আনু. ১৯৪৬ সালে ঢাকায়। তার বাবার নাম আবদুস সুলতান মল্লিক এবং মায়ের নাম মনিরুননেছা মল্লিক। তার স্ত্রীর নাম খুকু আহমেদ। তার এক ছেলে। আখতার আহমেদের ছোট ভাই মঞ্জুর আহমেদও মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর প্রতীক খেতাবধারী। [২]

কর্মজীবনসম্পাদনা

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে চাকরি করতেন আখতার আহমেদ। চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন কুমিল্লা সেনানিবাসে। এখানে ছিল চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। মার্চের মাঝামাঝি সম্ভাব্য ভারতীয় হামলা মোকাবিলার কথা বলে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সেনানিবাসের বাইরে পাঠানো হয়। তখন তাকেও এই ইউনিটের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকাসম্পাদনা

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একাংশের অবস্থান ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আখতার আহমেদও ছিলেন সেখানে। ২৭ মার্চ শাফায়াত জামিলের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বে তারা বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এই বিদ্রোহে আখতার আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে ২ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেন তিনি। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ যুদ্ধেও অংশ নেন। ২ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) বলেছিলেন, যখন তিনি যুদ্ধ চালায়ে যাচ্ছেন এবং যুদ্ধ ধীরে ধীরে তীব্রতর হচ্ছিল, তখন আমার সেনাদলে আহত ও নিহতের সংখ্যাও বেড়ে চলছিল। সে সময় আমার সৈনিক এবং গণবাহিনীর জন্য চিকিৎসার বন্দোবস্তু ছিল না। শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং তিনি ছিলেন আখতার আহমেদ। তিনি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং চিকিৎসক হয়েও একজন যোদ্ধা হিসেবে বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের দলে আহতের সংখ্যা যখন বেশ বেড়ে যায় এবং অনেক সময় দ্রুত চিকিৎসার অভাবে অনেক সৈনিক বা গণবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা রক্তক্ষয় হয়ে মারা যেতে থাকে। পরে ঢাকা থেকে কিছুসংখ্যক ছেলেমেয়ে এসে এ সেক্টরে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে দু-একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকও ছিল। এসব ছেলেমেয়ে নিয়ে আখতার আহমেদ কয়েকটি তাঁবুতে মতিনগরে হেডকোয়ার্টারের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রথম বাংলাদেশ হাসপাতালের ভিত্তি স্থাপন করেন। ২ নম্বর সেক্টরে স্থাপিত এই হাসপাতালের নাম ছিল ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’। মে মাসে এটি আগরতলার মতিনগরে স্থাপন করা হয়। জুলাই মাসে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটি সীমান্ত এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে বিশ্রামগঞ্জে আবার স্থানান্তর করে তা আরও প্রসারিত করা হয়। তখন এই হাসপাতালের শয্যা ছিল ২০০। অন্যান্য সেক্টরের চেয়ে ২ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল ব্যাপক। [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননাসম্পাদনা

মৃত্যুসম্পাদনা

আখতার আহমেদ ২১ মার্চ ২০১৬ সালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না" | তারিখ: ২২-০১-২০১২[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃষ্ঠা ৬০৪। আইএসবিএন 9789843351449 
  3. একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (প্রথম খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। এপ্রিল ২০১২। পৃষ্ঠা ৩১৮। আইএসবিএন 9789843338884 
  4. জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক (২২ মার্চ ২০১৬)। "বীর প্রতীক আখতার আহমেদ আর নেই"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০২০ 

পাদটীকাসম্পাদনা