অ্যারিল (বীজের সিলকা)

অ্যারিল (বীজের খোসা বা সিলকা) হল বীজের উপর বিশেষ বর্ধিতাংশ যা কিছুটা বা সম্পূর্নরুপে বীজকে আবৃত করে। বীজের ডিম্বাশয় (ডিম্বকনাড়ী বা ডিম্বকনাভী থেকে) ও উপরের সংযুক্তি বিন্দুর মধ্যথেকে অ্যারিল বিকশিত হয়। অন্যদিকে, অ্যারিলোড বা অপ্রকৃত অ্যারিল গঠিত হয় বীজত্বকের ভিন্ন বিন্দু থেকে। “অ্যারিল” শব্দটি কখনো কখনো সপুস্পক উদ্ভিদের বীজের উপরের পরিপুষ্ট মাংসল অংশকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ জায়ফলের উপরের অংশ জৈত্রী। অ্যারিল এবং অ্যারিলোড বেশিরভাগই ভক্ষনযোগ্য এবং পশুপাখিরা এটি ভক্ষন করে ও তাদের সাথে বীজ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে প্রলুব্ধ হয়। Burseraceae প্রজাতির Pyrenes গোত্রের উদ্ভিদের বীজে অ্যারিলের মত গঠন বিশিষ্ট Pseudarils  অংশ দেখা যায় যা ডিম্বাশয়ের মধ্যস্তর থেকে গঠিত হয়। এটি ফলজ ও ভক্ষনযোগ্য এবং এর বহিঃস্তর পরিষ্কারভাবে দুটি সমান অংশে বিভক্ত। এর উপরের অংশ পতিত হয়ে উজ্জ্বল কালো বীজের উপর উজ্জ্বল রঙ বিশিষ্ট আচ্ছাদন দেখা যায়।   

জায়ফলের বাইরের অংশকে পরিবেষ্টিত করে রাখে একপ্রকার অ্যারিল যাকে জৈত্রী বলা হয়।
লিচুর  সাদা অংশ হল একটি ভক্ষনযোগ্য অ্যারিল যাকে কখনো অ্যারিলোড বা অপ্রকৃত অ্যারিলও বলা হয়। এটি গঠিত হয় আংশিক ডিম্বকনাড়ী থেকে ও বীজত্বকের বহিঃআবরণী থেকে.[১]
অ্যারিল ফলের ন্যায় আকার গঠন করতে পারে, এদেরকে (একাধিক নামের মধ্যে একটি) বলা হয় অপ্রকৃত ফল।সপুস্পক উদ্ভিদসমুহে অসংখ্য অপ্রকৃত ফল দেখা যায়। কিছু খাওয়ার উপযোগী অপ্রকৃত ফল যেমন লিচু, কাঠ লিচু ইত্যাদি ফলের বাইরের ত্বক বা খোসার চেয়ে
ভেতরের অ্যারিল অত্যন্ত পরিপুষ্ট হয়। নগ্নবীজী উদ্ভিদেরবীজেও এধরনের অ্যারিল দেখা যায় যার মধ্যে ইউ, শঙ্কুসদৃশ বৃক্ষ যেমন দেবদারু, Kahikatea ইত্যাদি। ইউ উদ্ভিদ সাধারণ নগ্নবীজী উদ্ভিদের স্ট্রোবিলাসের পরিবর্তে একবীজপত্রের সাহায্যে জনন ক্রিয়া সম্পন্ন করে। বীজের উপরের অংশে পরিপুষ্ট কাপের মত আবরণ সৃষ্টি হয়। এই আচ্ছাদন শঙ্কুর ন্যায় আকৃতি প্রদান করে।

Taxus প্রজাতিতে ক্রমবিকাশঃসম্পাদনা

ইউরোপীয় ইউ কাষ্ঠল (Taxus baccata) উদ্ভিদে, অ্যারিল শুরুতে ছোট সবুজ পট্টির মত বীজের গোড়ায় দেখা যায় এবং পরে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে সমস্ত বীজকে আবৃত করে ও লাল বা বাদামী বর্ণ ধারণ করে। অবশেষে, অ্যারিল বীজের চর্তূদিকে মোটা ফলজ ও লাল অংশে পরিণত হয়ে পরিপক্বতা লাভ করে। ফল-খাদক পাখিদের জন্য ইউ উদ্ভিদের বীজের অ্যারিল একটি আকর্ষণ এবং এটি অবিষাক্ত যেখানে বীজের মধ্যবর্তী অংশ সহ এ উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ বিষাক্ত। এই বীজ যদি কখনো ফেটে যায় বা ভেঙ্গে টুকরা হয়ে যায় তাহলে এ ফল গ্রহণ করে পশুপাখি কিংবা মানুষের পাকস্থলিতে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ বিষক্রিয়া রোধ করার জন্য পশুপাখিদের পাকস্থলিতে ইউ ফলের অ্যারিল বা ফলজ অংশ হজম হয় কিন্ত, বীজ হজম না হয়ে বিষ্ঠার সাথে বেরিয়ে যায়।                   
 
ইউ বৃক্ষের প্রত্যেকটি বীজে পরিপুষ্ট অ্যারিল বেষ্টিত আছে যা শঙ্কুর মত আকৃতি ধারণ করেছে।

Dacrycarpus dacrydioides উদ্ভিদেসম্পাদনা

Kahikatea বৃক্ষ (Dacrycarpus Dacrydioides) নিউজিল্যান্ডের একটি স্থানীয় বৃক্ষ। প্রাক-ইউরোপীয় যুগে Kahikatea বৃক্ষের অ্যারিল মাওরিদের জন্য একটি খাদ্য উৎস ছিল এবংএটি ধুয়ে কাচাঁ খাওয়া হত। একে তারা বলত ‘করই’।[২][৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. A contribution to the life history of Litchi chinensis Sonn., ১৯৪৪ উদ্ধৃতি টেমপ্লেট ইংরেজি প্যারামিটার ব্যবহার করেছে (link)
  2. "Dacrycarpus dacrydioides (kahikatea) description"conifers.org। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১১'The small fruit (koroi) are superabundant and highly nutritious. The birds ate them and flocked for miles to do so. 
  3. "Kahikatea, Dacrycarpus"web.auckland.ac.nz। ২০১১। ১২ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১১The juicy, swollen, red stalk which holds the seed is known as koroi. 

আরও পড়ুনসম্পাদনা

  • Anderson, E. & Owens, J. N. (2003). Analysing the reproductive biology of Taxus: should it be included in Coniferales? Acta Hort. 615: 233–234.