অ্যাডমিরাল আহসান মিশন

অ্যাডমিরাল আহসান মিশন (বা আহসান ফর্মুলা নামেও পরিচিত) হলো ১৯৭১ সালের প্রথমদিকে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি শান্তি পরিকল্পনা।[১]:১০২–১০৩ পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে পূর্ব পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর কমান্ডার ও পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর ভাইস অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ আহসানের নেতৃত্বে এই মিশন গঠিত হয়।[১]:১০৯–১১০

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পর আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বিপরীতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি করতে থাকে। এর প্রেক্ষিতে দলটির নানামুখী আন্দোলন ও পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম অংশের বিরুদ্ধে গণ-অসন্তোষ পাকিস্তানের দুই অংশের সম্পর্কে চিড় সৃষ্টি করতে থাকে।[২] সেনাবাহিনীর সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের আক্রমণের পর ভারত মধ্যস্থতার কথা জানায়। পাকিস্তান সরকার তারযোগে ভারতীয় মধ্যস্থতার তদন্ত করে পূর্ব পাকিস্তান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য অ্যাডমিরাল আহসানকে নির্দেশ দেয়।[১]:১০২[৩]

অ্যাডমিরাল আহসান মূলত আওয়ামী লীগ কর্তৃক ১৯৬৬ সালে প্রদত্ত ছয় দফা কর্মসূচির আলোকে প্রস্তাবনা প্রদান করে:

  • কেন্দ্র দেশের প্রতিরক্ষা, সেনাবাহিনী, বৈদেশিক নীতি, জাতীয় নিরাপত্তামুদ্রা নিয়ন্ত্রণ করবে।[১]:১০২
  • প্রদেশগুলো স্ব-স্ব রাজস্ব নির্ধারণের ক্ষমতা লাভ করবে এবং কেন্দ্রীয় খাতে একটি নির্দিষ্ট অর্থ জমা দেবে।[১]:১০২
  • পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি নাগরিক ও কূটনীতিক এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে বাঙালি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন।
  • জনসংখ্যার ভিত্তিতে পূর্ব ও পশ্চিমে জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন।

এছাড়াও মিশন পাকিস্তান কো-ফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব দেয়, যেখানে ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হবেন এবং মুজিব ও ভুট্টো হবেন যথাক্রমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।[১]:১০২ পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারি কর্মচারীদের পশ্চিমে প্রত্যাবসন এবং পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টনের প্রস্তাবও করা হয়।[১]:১০২ প্রস্তাবনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত হয় এবং ভারত অনিচ্ছা সত্ত্বেও সম্মতি জানায়।[১]:১০২ জুলফিকার আলী ভুট্টো ছাড়া অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানি নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।:১০২[১] তবে, ইয়াহিয়া খানের সামরিক প্রশাসন মিশনকে সমর্থন প্রদান না করে এর কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র বিরোধিতা শুরু করে।[৪]

প্রস্তাবনাগুলো উপেক্ষিত হওয়ায় ১৯৭১ সালের মার্চে অ্যাডমিরাল আহসান পদত্যাগ করেন এবং পাকিস্তানে ফিরে যান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াকুব আলি খানের পদত্যাগের পর তিনি পাকিস্তানে আবার পদাসীন হন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Ehtisham, S. Akhtar (১৯৯৮)। A Medical Doctor Examines Life on Three Continents: A Pakistani View। Algora Publishing। আইএসবিএন 9780875866345। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  2. Rao, K. V. Krishna (১৯৯১)। Prepare Or Perish: A Study of National Security। Lancer Publishers। পৃষ্ঠা 156। আইএসবিএন 9788172120016 
  3. Rizvi, Hasan Askari। Internal Strife and External Intervention: India's Role in the Civil War in East Pakistan (Bangladesh)। Progressive Publishers। 
  4. Ahmed, Moudud (১৯৭৯)। Bangladesh: constitutional quest for autonomy, 1950-1971। University Press। পৃষ্ঠা 206–207। আইএসবিএন 3515029087 

গ্রন্থপঞ্জিসম্পাদনা