অভিধান বা শব্দকোষ (ইংরেজি: Dictionary, wordbook, lexicon অথবা vocabulary) এক ধরনের বই, যাতে একটি নির্দিষ্ট ভাষার শব্দসমূহ বর্ণানুক্রমে তালিকাভুক্ত থাকে এবং শব্দসমূহের অর্থ, উচ্চারণ, ব্যুৎপত্তি, ব্যবহার ইত্যাদি বর্ণিত ও ব্যাখ্যায়িত থাকে।[১] অভিধান বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন কোনো অভিধানে শব্দের এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ থাকতে পারে, কোনো অভিধানে কোন শব্দ কীভাবে ব্যবহার হবে সেটির বর্ণনা থাকতে পারে; জীবনীর অভিধানে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনীর সংকলন থাকতে পারে, প্রযুক্তি সম্পর্কিত অভিধানে প্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট বিভাগ সম্পর্কিত শব্দসমূহের অর্থ ও ব্যাখ্যা থাকে। অনেক সময় অভিধানের ব্যাপ্তি বিস্তৃত হয়ে বিশ্বকোষের কাছাকাছি চলে যেতে পারে। যদিও বিশ্বকোষে ভুক্তিসমূহের বিস্তৃত ব্যাখ্যা থাকে যেখানে অভিধান শব্দসমূহের ভাষাগত দিক সম্পর্কে মনোযোগ দিয়ে থাকে।

বহুখণ্ডের একটি লাতিন অভিধান

ইতিহাসসম্পাদনা

সবচেয়ে পুরাতন অভিধান পাওয়া গেছে আকাডিয়ান সাম্রাজ্যের সময়কার দ্বিভাষিক সুমেরীয়-আকাডিয়ান শব্দমালার ওপর। আনুমানিক ২৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রচিত এই অভিধান এবলা (বর্তমান সিরিয়া) এলাকাতে সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে জানা মতে, বিশ্বে প্রথম অভিধান লেখা হয় লাতিন ভাষায় ১২২৫ সালে, যার সংকলক ছিলেন জন গারল্যান্ড। তবে ইংরেজি ভাষায় প্রথম ইংরেজি অভিধান সংকলন করেন রিচার্ড হুলোয়েট; ১৫৫২ সালে। এর শব্দ সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬,০০০ এবং এতে প্রথম ইংরেজি শব্দের ইংরেজি অর্থ, পরে তার লাতিন প্রতিশব্দ ছিল। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো অভিধান The Oxford English Dictionary যেটা ২০ খণ্ডে প্রকাশিত। বাংলা ভাষায় (বাংলা থেকে বাংলা) প্রথম অভিধান সংকলন করেন রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ; ১৮১৭ সালে। বাংলা একাডেমি ১৯৯২ সালে অখণ্ড পূর্ণাঙ্গ সংস্করণে 'বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান' নামে অভিধান প্রকাশ করে। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের সময়ে ব্যবলীয়ন অভিধান উর্রা=হুবুল্লু সুমেরীয় ভাষার আরেকটি পুরাতন অভিধান।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Webster's New World College Dictionary, Fourth Edition, 2002

বহিঃসংযোগসম্পাদনা