প্রধান মেনু খুলুন

অজাতশত্রু (সংস্কৃত: अजातशत्रु) বা অজাতসত্তু (পালি: अजातसत्तु) হর্য্যঙ্ক রাজবংশের রাজা ছিলেন, যিনি 493 খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে 462 খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত মগধ শাসন করেন। তাঁর শাসনকালে হর্য্যঙ্ক রাজবংশের শাসন সর্বাধিক বিস্তৃত হয়।

পরিচ্ছেদসমূহ

পিতার মৃত্যু ও সিংহাসনারোহণসম্পাদনা

অজাতশত্রু হর্য্যঙ্ক রাজবংশের রাজা বিম্বিসারকোশল রাজকন্যা চেলেনার পুত্র ছিলেন। ৯২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গৌতম বুদ্ধের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ বৌদ্ধ ভিক্ষু দেবদত্তের প্ররোচনায় অজাতশত্রু বুদ্ধ ও বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক বিম্বিসারকে হত্যার চেষ্টা করেন। বুদ্ধের মতাদর্শে বিশ্বাসী বিম্বিসার এই ঘটনায় তাঁর পুত্রকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু পুনরায় দেবদত্তের প্ররোচনায় অজাতশত্রু বিম্বিসার ও তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলীকে গৃহবন্দী করে নিজেকে মগধের শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন। ৪৯১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গৃহবন্দী অবস্থায় বিম্বিসারের মৃত্যু ঘটে। এই সময় দেবদত্তের প্ররোচনায় তিনি গৌতম বুদ্ধকে হত্যার চেষ্টা করেন। পিতার মৃত্যুর পর অনুশোচনায় দগ্ধ অজাতশত্রু শান্তিলাভের আশায় বিভিন্ন ধর্ম উপদেষ্টা ও দার্শনিকের শরণাপন্ন হন। কিন্তু তাঁদের উপদেশে শান্তিলাভে ব্যর্থ হয়ে রাজবৈদ্য জীবকের উপদেশে গৌতম বুদ্ধের শরণাপন্ন হলে বুদ্ধ তাঁকে সামঞ্ঞফলসুত্ত ব্যাখ্যা করেন।

কোশলের সঙ্গে যুদ্ধসম্পাদনা

বিম্বিসারের বন্দীত্ব ও মৃত্যুর ঘটনায় ক্রুদ্ধ কোশল রাজ প্রসেনজিৎ একদা উপহার হিসেবে প্রদত্ত কাশী রাজ্য পুনরায় নিজের অধীনে নিয়ে নিলে অজাতশত্রু কোশল রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। প্রথম যুদ্ধে তিনি বিজয়ী হলেও পরের যুদ্ধে পরাজিত হন। কিন্তু গৌতম বুদ্ধের মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রসেনজিৎ তাঁকে মুক্ত করে তাঁর কন্যা বজিরাকে তাঁর সাথে বিবাহ দিয়ে[১][২] যৌতুক হিসেবে কাশী রাজ্য ফিরিয়ে দেন।[৩]

বৃজি অধিকারসম্পাদনা

বুদ্ধঘোষের বর্ণনা অণুযায়ী, গঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি বন্দর এলাকার অর্ধেক অংশ অজাতশত্রুর অধিকারে এবং অর্ধেক অংশ বৃজি মহজনপদের অধিকারে ছিল। এই বন্দরের নিকটবর্তী একটি পাহাড়ে প্রাপ্ত গন্ধভাণ্ড নামক এক ধরনের সুগন্ধী দ্রব্যের অধিকার নিয়ে মগধবৃজি মহজনপদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। বেশ কয়েক বার অজাতশত্রুর পূর্বেই লিচ্ছবিরা সম্পূর্ণ গন্ধভাণ্ড অধিকার করে নিজের দেশে চলে গেলে অজাতশত্রু প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ করেন। দীঘনিকায়ের মহাপরিনিব্বানসুত্ত অনুসারে, তিনি তাঁর মন্ত্রী বস্সকারকে গৌতম বুদ্ধের নিকট প্রেরণ করে লিচ্ছবিদের পরাজিত করার উপায়ের সন্ধান করতে বলেন। গৌতম বুদ্ধ মত দেন যে, যতদিন লিচ্ছবিরা যতদিন সম্মিলিত ভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্বন্ধে আলোচনা করে একত্রিত ভাবে মতগ্রহণ করবেন, নিজের দেশের আইন ও জৈষ্ঠ্যদের উপদেশ মেনে চলবেন, নারীদের বিরুদ্ধে কোন হিংসামূলক অপরাধে জড়িত থাকবেন না, ধর্মস্থান ও অর্হতদের সম্মান করবেন,। ততদিন কোন বৈদেশিক শক্তি তাঁদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এই উপদেশের ফলে অজাতশত্রু এরপর সামরিক শক্তির বদলে লিচ্ছবিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করে সফল হন এবং মগধের সেনা বৃজি মহজনপদ অধিকার করতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Manoj Kumar Pal (২০০৮)। Old Wisdom and New Horizon। Viva Books Private Ltd। পৃষ্ঠা 162। 
  2. Tripathi, Rama Shankar (১৯৪২)। History of Ancient India (1st. ed., repr. সংস্করণ)। Delhi: Motinal Banarsidass। পৃষ্ঠা 95। আইএসবিএন 9788120800182 
  3. The Journal of the Bihar Research Society। Bihar Research Society। পৃষ্ঠা 127। 

আরো পড়ুনসম্পাদনা

  • Ācharya Nagrajji D.Litt. "Agama and Tripitaka- A comparative study of Lord Mahavira and Lord Buddha", vol. 1, History and Tradition, chapter 14 "Follower Kings" pg.355-377. (English version by Muni Mahendrakumarji) published by Concept Publishing Company, New Delhi 110059.
  • G.P.Singh,2004. "Early Indian Historical Tradition and Archaeology". D.K.Printworld (P) Ltd- New Delhi 110015; pp. 164, 165
অজাতশত্রু
রাজত্বকাল শিরোনাম
পূর্বসূরী
বিম্বিসার
মগধের রাজা উত্তরসূরী
উদায়িভদ্দক