হেরমান স্টাউডিঞ্জার

হেরমান স্টাউডিঞ্জার (Hermann Staudinger, ২৩ মার্চ ১৮৮১ - ৮ সেপটেম্বর ১৯৬৫) ছিলেন একজন জার্মান জৈব রসায়নবিদ যিনি ম্যাক্রোমলিকিউল এর অস্তিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন এবং যেগুলিকে তিনি পলিমার হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। এই কাজের জন্য তিনি ১৯৫৩ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

হেরমান স্টাউডিঞ্জার
Hermann Staudinger.jpg
জন্ম(১৮৮১-০৩-২৩)২৩ মার্চ ১৮৮১
ওয়ার্ম, গ্র্যান্ড ডুচে অফ হেসে, জার্মান সাম্রাজ্য
মৃত্যু৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫(1965-09-08) (বয়স ৮৪)
ফ্রেইবার্গ, পশ্চিম জার্মানী
কর্মক্ষেত্রজৈব এবং পলিমার রসায়ন
প্রতিষ্ঠানস্টারসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়
কার্লসরুহে বিশ্ববিদ্যালয়
ইটিএইচ জুরিখ
ফ্রেইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাক্তন ছাত্রডার্মস্টাড্ট প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হ্যালে বিশ্ববিদ্যালয়
সন্দর্ভসমূহAnlagerung des Malonesters an ungesättigte Verbindungen (১৯০৩)
পিএইচডি উপদেষ্টাড্যানিয়েল ভোরাল্যান্ডার
পিএইচডি ছাত্ররাওয়ার্নার কার্ন
টাদিউজ রেখস্টেইন
লিওপল্ড রুইসিকা
রুডলফ সিগনার
পরিচিতির কারণপলিমার রসায়ন
উল্লেখযোগ্য
পুরস্কার
রসায়নে নোবেল পুরস্কার
স্ত্রী/স্বামীমাগদা স্টাউডিঞ্জার (née Woit)

তিনি কেটিন এবং স্টাউডিঞ্জার বিক্রিয়া আবিষ্কার করার জন্যও পরিচিত। স্টাউডিঞ্জার লিওপল্ড রুইসিকা এর সাথে ১৯২০ এর দশকে পাইরেথ্রিন প্রথম এবং দ্বিতীয়র আণবিক কাঠামোকে বিশদভাবে উল্লেখ করে ১৯৬০ এবং ১৯৭০ এর দশকে পাইরেথ্রয়েড কীটনাশক বিকাশ করতে সক্ষম হন।

প্রথম দিকের কাজসম্পাদনা

স্টাউডিঞ্জার ১৮৮১ সালে জার্মানের ওয়ার্ম এ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। স্টাউডিঞ্জার প্রথমে উদ্ভিদবিজ্ঞানী হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন। তিনি হ্যালে বিশ্ববিদ্যালয়, টিএইচ ডার্মস্টাড্ট এবং এলএমইউ মিউনিখ এ রসায়ন অধ্যয়ন করেন। তিনি টিএইচ ডার্মস্টাড্ট থেকে তাঁর "ভারব্যান্ডসেক্সামেন" (মাস্টার্স ডিগ্রির সাথে সমতুল্য) লাভ করেন। ১৯০৩ সালে হ্যালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর পিএইচডি করার পরে স্টাউডিঞ্জার ১৯০৭ সালে স্টারসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় এ একাডেমিক লেচারার হিসাবে যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। [১]

 
চিত্র ১. কেটিনের সাধারণ গঠন কাঠামো। এখানে R কোনও গ্রুপ বা গোষ্ঠীকে বোঝাচ্ছে।

এখানেই তিনি আবিষ্কার করেছিলেন কেটিনচিত্র ১ এ এই অণু পরিবারের সাধারণ ফর্ম দেখানো হয়েছে।[২] কেটিন পেনিসিলিন এবং অ্যামোক্সিসিলিন এর মতো আবিষ্কারযোগ্য অ্যান্টিবায়োটিকগুলির উৎপাদনের জন্য কৃত্রিমভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মধ্যবর্তী ধাপ কি না তা এখনও প্রমাণ্য যোগ্য রয়েছে।

রল্ফ ম্যালহাপ্ট এর সম্পূর্ণ পর্যালোচনায় এখানে তিনি সফলভাবে বেশ কয়েকটি দরকারী জৈব যৌগকে বিচ্ছিন্ন করতে পেরেছিলেন (কৃত্রিম কফির স্বাদ সহ)।[৩]

স্টাউডিঞ্জার বিক্রিয়াসম্পাদনা

১৯১২ সালে স্টাউডিঞ্জার সুইজারল্যান্ডের জুরিখসুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি তে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এখানেই ১৯১৯ সালে ঘটেছিল তাঁর প্রথমতম আবিষ্কার। তিনি এবং সহকর্মী মেয়ার জানান যে অ্যাজাইডস টাইফিনাইলফসফিন এর সঙ্গে বিক্রিয়ায় ফসফিনিমাইনস গঠিত হয় (চিত্র ২)।[৪] এই বিক্রিয়া - সাধারণত স্টাউডিঞ্জার বিক্রিয়া হিসাবে পরিচিত। এর ফলে একটি উচ্চ ফসফিনিমাইন উৎপাদিত হয়। [৫]

 
চিত্র ২. টাইফিনাইলফসফিন এবং একটি অ্যাজাইড এর ক্রিয়ায় সাধিত স্টাউডিঞ্জার বিক্রিয়ায় একটি ফসফাজাইড এবং গ্যসীয় নাইট্রোজে গঠন দেখানো হয়েছে।

পলিমার রসায়নসম্পাদনা

কার্লসরুহ এবং পরবর্তীকালে জুরিখে স্টাউডিঞ্জার রাবার এর রসায়ন বিষয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। এর জন্য রাউল্ট এবং ভ্যান 'টি হফ ভৌত পদ্ধতি অবলম্বন করে খুব উচ্চ আণবিক ওজন নির্ণয় করে ছিলেন। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে (নীচে দেখুন) স্টাউডিঞ্জার ১৯২০ সালে প্রকাশিত তাঁর দৃষ্টান্তকারী পত্রে প্রস্তাব করেছিলেন যে রাবার সমযোজী বন্ধন দ্বারা অন্যান্য পলিমার যেমন স্টার্চ, সেলুলোজ এবং প্রোটিন এর সাথে সংক্ষিপ্ত পুনরাবৃত্তি করা আণবিক এককের দীর্ঘ শৃঙ্খলে সংযুক্ত হয়। [৬] অন্যভাবে বলা যায়, পলিমারগুলি কাগজের শৃঙ্খলার মতো প্রান্ত থেকে প্রান্তে শেষ পর্যন্ত সংযুক্ত ছোট ছোট উপাদান দ্বারা গঠিত (চিত্র ৩)।

 
চিত্র ৩. কাগজের টুকরো দিয়ে তৈরী একটি শৃঙ্খলা (উপরে) পলিমারের জন্য যেমন পলিল্যাকটিক অ্যাসিড (নীচে) এর জন্য একটি ভাল মডেল। পলিমার শৃঙ্খল ছোট ছোট টুকরো টুকরো একসাথে মাথা থেকে লেজ বিন্যাসে যুক্ত থাকে।

এই সময় এমিল ফিশার এবং হাইনরিখ উইল্যান্ড প্রমুখ শীর্ষস্থানীয় জৈব রসায়নবিদ [৩][৭] বিশ্বাস করতেন যে পরিমাপ করা উচ্চ আণবিক ওজন কেবল কলয়েড এর মধ্যে ক্ষুদ্র অণুগুলির একত্রিতকরণের ফলে কেবল আপাত মান মাত্র। স্টাউডিঞ্জারের বেশিরভাগ সহকর্মী এই সম্ভাবনাটি মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন যে ছোট অণুগুলি সমযোজীভাবে যুক্ত হয়ে উচ্চ-আণবিক ওজনের যৌগিক গঠন করতে পারবে। মূলহাপ্ট যথাযথভাবে উল্লেখ করেছেন যে এটির আংশিক কারণ হতে পারে বিশ শতকের গোড়ার দিকে আণবিক কাঠামো এবং বন্ধন তত্ত্ব তখনো পুরোপুরি বোঝা হয় নি।[৩]

১৯২৬ সালে তিনি ফ্রেইবুর্গ ইম ব্রেইসগাউ (জার্মানি) -এর ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় এ রসায়নের লেকচারার নিযুক্ত হন এবং সেখানেই তিনি তাঁর কর্মজীবনের বাকী সময়টুকু অতিবাহিত করেছিলেন।[৮] ১৯২৭ সালে তিনি লাত্ভিয়ার উদ্ভিদবিজ্ঞানী ম্যাগদা ভোইটা কে বিয়ে করেছিলেন (এছাড়াও তাঁকে দেখানো হয় (জার্মান: Magda Woit হিসাবে )। তিনি তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর সহকর্মী ছিলেন এবং যাঁর অবদান তিনি তাঁর নোবেল পুরস্কার গ্রহণের সময় স্বীকার করেছেন। [৯] তাঁর পলিমার প্রকল্পকে সমর্থন করার আরও প্রমাণ ১৯৩০-এর দশকে উঠে আসে। পলিমারগুলির উচ্চ আণবিক ওজন ঝিল্লি অভিশ্রবণ দ্বারা এবং স্টাউডিঞ্জারের পরিমাপের সান্দ্রতা পরিমাপের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল। হারমান মার্ক দ্বারা পলিমারগুলির এক্স-রে প্রতিসরণ অধ্যয়ন অণু এককগুলি পুনরাবৃত্তি করার দীর্ঘ শৃঙ্খলার জন্য সরাসরি প্রমাণ সরবরাহ করেছিল। ক্যারোদার্স এর নেতৃত্বে কৃত্রিম উপায়ে প্রস্তুতের কাজ প্রমাণ করে যে নাইলন এবং পলিয়েস্টার এর মতো পলিমারগুলি জৈব প্রতিক্রিয়ার দ্বারা প্রস্তুত করা যেতে পারে। তাঁর তত্ত্বটি এই বিষয়টির আরও বিকাশের পথ উন্মুক্ত করেছিল এবং পলিমার বিজ্ঞানকে যথাযথ ভিত্তিতে স্থাপন করতে সহায়তা করেছিল।

মন্তব্যসম্পাদনা

  1. "Hermann Staudinger - Biographical"Nobelprize.org। ১৯৫৩। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০১৮ 
  2. Hermann Staudinger (১৯০৫)। "Ketene, eine neue Körperklasse"Berichte der Deutschen Chemischen Gesellschaft38 (2): 1735–1739। ডিওআই:10.1002/cber.19050380283 
  3. Mülhaupt, R. (২০০৪)। "Hermann Staudinger and the Origin of Macromolecular Chemistry"। Angew. Chem. Int. Ed.43 (9): 1054–1063। ডিওআই:10.1002/anie.200330070পিএমআইডি 14983438 
  4. Staudinger, H.; Meyer, J. (১৯১৯)। "Über neue organische Phosphorverbindungen III. Phosphinmethylenderivate und Phosphinimine"Helv. Chim. Acta2 (1): 635–646। ডিওআই:10.1002/hlca.19190020164 
  5. Breinbauer, R.; Kohn, M. (২০০৪)। "The Staudinger Ligation – A Gift to Chemical Biology"। Angew. Chem. Int. Ed.43 (24): 3106–3116। ডিওআই:10.1002/anie.200401744পিএমআইডি 15199557 
  6. Staudinger, H. (১৯২০)। "Über Polymerisation"Ber. Dtsch. Chem. Ges.53 (6): 1073–1085। ডিওআই:10.1002/cber.19200530627 
  7. Feldman, S. D.; Tauber, A. I. (১৯৯৭)। "Sickle Cell Anemia: Reexamining the First "Molecular Disease""। Bulletin of the History of Medicine17 (4): 623–650। এসটুসিআইডি 46017893ডিওআই:10.1353/bhm.1997.0178পিএমআইডি 9431738 
  8. Biography on Nobel prize website
  9. Ogilvie ও Harvey 2000, পৃ. 1223।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা