হিসার জেলা

হরিয়ানার একটি জেলা

হিসার জেলা ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ২২টি জেলার মধ্যে একটি জেলা। হিসার শহর জেলা সদর হিসাবে কাজ করে। জেলাটি হিসার বিভাগের একটি অংশ, যেখানে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা নিযুক্ত কমিশনার নেতৃত্বে রয়েছেন।

হিসার জেলা
জেলা
হরিয়ানায় হিসার জেলার অরস্থান
হরিয়ানায় হিসার জেলার অরস্থান
দেশভারত
রাজ্যহরিয়ানা
বিভাগহিসার
সদরদপ্তরহিসার শহর
আয়তন
 • মোট৩,৯৮৩ বর্গকিমি (১,৫৩৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)
 • মোট১৫,৩৭,১১৭
 • জনঘনত্ব৩৯০/বর্গকিমি (১,০০০/বর্গমাইল)
জনমিতি
 • স্বাক্ষরতা৬৪.৮৩%
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
ওয়েবসাইটhttp://hisar.nic.in/

১৯৬৬ সালে হরিয়ানা রাজ্য পুনর্গঠন অবধি হরিয়ানার বৃহত্তম জেলা হিসারের কিছু অংশ নিয়ে জিন্দ জেলা গঠিত হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে বিওয়ানি ও লোহারু তহসিল নিয়ে বিওয়ানী জেলা গঠিত হয়। সিরসা জেলা গঠিত হলে হিসার জেলা আরও দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এ জেলা থেকে আবার ফতেহাবাদ জেলা তৈরি করা হয়েছে।[১]

ইতিহাসসম্পাদনা

হিসার জেলা ১৭৮৩-৮৪ (চল্লিশের দুর্ভিক্ষ),[২] ১৮৩৮, ১৮৬০-৬১,[৩] ১৮৯৬-৯৭ এবং ১৮৯৯-১৯০০-এর দুর্ভিক্ষে পড়েছিল।[৪]

প্রশাসনসম্পাদনা

১৯৬৬ সালে পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের বৃহত্তম জেলা হিসেবে হিসার জেলার সদরদপ্তর ছিল। ১৯৭৮ সালে জেলার কিছু অংশ ভিওয়ানি জেলায় স্থানান্তরিত হয়। এটি আরও দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল যখন সিরসা জেলা পুরোপুরি হিশার জেলা থেকে তৈরি করা হয়েছিল। ফতেয়াবাদ জেলাও এই জেলা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

বর্তমানে হিসার জেলা ৮টি তহসিল নিয়ে গঠিত; আদমপুর, আগরোহা, বরওয়ালা, হিসার, হানসি-১, হানসি-২, নরনান্দউকলনামন্দী। এছাড়া বালসম্যান্ড ও বাসের নামে দুটি উপ-তহসিল । হিশার জেলার জন্য যানবাহনের নিবন্ধন নম্বরগুলি: হিসার এইচআর ২০ এবং এইচআর ৩৯ (বাণিজ্যিক নম্বর), হানসি এইচআর ২১ এবং বরওয়ালা এইচআর ৮০।

জেলাটির সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে; আদমপুর, উকলনা, নরনাউন্ড, হানসি, বরওয়ালা, হিশার ও নলওয়া। এগুলি সবই হিসার লোকসভা কেন্দ্রের অংশ।

জনসংখ্যাসম্পাদনা

২০১১ সালের ভারতীয় জনগণনা অনুসারে জেলা জনসংখ্যা ১৭৪২৮১৫,[৫] যা গাম্বিয়া রাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার সমান[৬] বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা রাজ্যের জনসংখ্যার সমান।[৭] এটি ভারতের ৬৪০টি জেলার মধ্যে ২৭৬তম জনবহুল জেলা। জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৩৮ জন বা প্রতি বর্গমাইলে ১,১৩০ জন। ২০০১-২০১১ এর দশকে এ জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৩.৩৮%। হিসারে প্রতি ১০০০ পুরুষের জন্য ৮৭১ জন মহিলা লিঙ্গ অনুপাত রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার ৭৩.২%।

ভারতের ২০১১ সালের জনগণনার সময়ে, জেলার ৯৬.০৮% লোক হিন্দি এবং ৩.১১% পাঞ্জাবি ভাষাকে তাদের কথনের প্রথম ভাষা হিসাবে ব্যবহার করে।[৮] হরিয়ানভি হল জেলার সর্বাধিক কথ্য উপভাষা।

হিসার জেলার ৯৮% মানুষ হিন্দু ধর্মের অনুসারী এবং প্রায় ৪০,০০০ জন মুসলমান রয়েছে,[৯] বাকী জনসংখ্যার বেশিরভাগই জৈন এবং শিখ ধর্ম পালন করে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৩ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০১৯ 
  2. The Great El Nino of 1789–93 and its Global Consequences: Reconstructing an Extreme Climate Even in World Environmental History, ২০০৭ 
  3. The Cambridge Illustrated History of the British Empire, ১৯৯৬ 
  4. C.A.H. Townsend, Final report of thirds revised revenue settlement of Hisar district from 1905-1910, Gazetteer of Department of Revenue and Disaster Management, Haryana, point 22, page 11.
  5. "District Census 2011"। Census2011.co.in। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০ 
  6. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-০১Gambia, The 1,797,860 July 2011 est. 
  7. "2010 Resident Population Data"। U. S. Census Bureau। ২০১১-০১-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০Nebraska 1,826,341 
  8. 2011 Census of India, Population By Mother Tongue
  9. Times of India। "Free burial grounds of encroachments: Panel to Wakf Board"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-১১-২৫