সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চল

সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চল (埼玉県? সাইতামা কেন্‌) হল জাপানের মূল দ্বীপ হোনশুর কান্তোও অঞ্চলে অবস্থিত একটি স্থলবেষ্টিত প্রশাসনিক অঞ্চল।[১] এর রাজধানী সাইতামা নগর।[২]

সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চল
埼玉県
প্রশাসনিক অঞ্চল
জাপানি প্রতিলিপি
 • জাপানি埼玉県
 • রোমাজিSaitama-ken
সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চল পতাকা
পতাকা
সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চল অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ৩৫°৫৭′ উত্তর ১৩৯°৩৩′ পূর্ব / ৩৫.৯৫০° উত্তর ১৩৯.৫৫০° পূর্ব / 35.950; 139.550স্থানাঙ্ক: ৩৫°৫৭′ উত্তর ১৩৯°৩৩′ পূর্ব / ৩৫.৯৫০° উত্তর ১৩৯.৫৫০° পূর্ব / 35.950; 139.550
দেশজাপান
অঞ্চলকান্তোও
দ্বীপহোনশু
রাজধানীসাইতামা
আয়তন
 • মোট৩,৭৯৮.০৮ বর্গকিমি (১,৪৬৬.৪৫ বর্গমাইল)
এলাকার ক্রম৩৯ তম
জনসংখ্যা (১লা অক্টোবর, ২০১৪)
 • মোট৭২,৩৭,৭৩৪
 • ক্রম৫ম
 • জনঘনত্ব১,৮৯৩.৮২/বর্গকিমি (৪,৯০৫.০/বর্গমাইল)
আইএসও ৩১৬৬ কোডJP-11
জেলা
পৌরসভা৬৩
ফুলপ্রিম্রোজ (প্রাইমুলা সিবোল্ডিয়াই)
গাছকেয়াকি (যেলকোভা সেরাটা)
পাখিএউরেশীয় কলার্ড ঘুঘু (স্ট্রেপ্টোপেলিয়া ডেকাঅক্টো)
ওয়েবসাইটwww.pref.saitama.lg.jp

ইতিহাসসম্পাদনা

কুজিকি গ্রন্থ অনুযায়ী সম্রাট সুজিনের রাজত্বে ১৩৭ টি প্রদেশের মধ্যে অন্যতম ছিল চিচিবু।[৩] চিচিবু প্রদেশ ছিল আধুনিক সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চলের পশ্চিম ভাগ। মেইজি পুনর্গঠনের আগে সাইতামা, মুসাশি প্রদেশের অংশ ছিল।[৪]

ঐতিহাসিকভাবে সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চল উর্বর কৃষিজমি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। তাই একে কান্তোও অঞ্চলের ভাঁড়ার বলা হয়। এদো যুগে অনেক ফুদাই দাইমিয়ো এই অঞ্চলের শাসক ছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টোকিও মহানগরের দ্রুত পরিবরধন নিকটবর্তী সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চলের উপর প্রভাব ফেলে। ১৯৬০ খ্রিঃ থেকে এখানকার জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। এখানকার অধিকাংশ নগর রেলপথে টোকিওর সাথে সংযুক্ত, এবং এগুলি কার্যত টোকিওর বসতি ও বাণিজ্য এলাকারই পরিবর্ধন হিসেবে কাজ করে।

ভূগোলসম্পাদনা

সাইতামার পার্শ্বস্থ প্রশাসনিক অঞ্চলগুলি হল টোকিও, চিবা, তোচিগি, গুন্‌মা, নাগানো এবং য়ামানাশি। এর বিস্তার পূর্ব-পশ্চিমে ১০৩ কিমি ও উত্তর-দক্ষিণে ৫২ কিমি; আয়তন ৩৭৯৮ বর্গ কিমি।

সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চলের ভূমিরূপ প্রধানত হাচোওজি টেকটনিক রেখা দ্বারা প্রভাবিত। এই রেখাটি পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলের মধ্য দিয়ে পূর্বের নিম্নভূমি পর্যন্ত প্রসারিত আছে। সমগ্র অঞ্চলটির ভূমিঢাল পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে। পূর্বাঞ্চলের নিম্নভূমি ও নিচু মালভূমি সাইতামার ৬৭.৩ শতাংশ অধিকার করে আছে।[৫]

পূর্বে অবস্থিত কান্তোও সমতলের অংশটিকে পুনরায় নয়টি ছোট ছোট অংশে ভাগ করা যায়। হিকি পাহাড় ও সায়ামা পাহাড় কান্তোও পর্বতমালা সংলগ্ন। অন্যান্য উপাঞ্চলগুলি পলল সমভূমি। দক্ষিণ প্রান্তে ফুরুতোনে নদী ও আরাকাওয়া নদীর মাঝখানে আছে ওওমিয়া মালভূমি।[৬]

প্রশাসনিক অঞ্চলটির পশ্চিম ভাগে আছে কান্তোও পর্বতমালা। এর কেন্দ্রে আছে চিচিবু উপত্যকা। উচ্চতম শৃঙ্গগুলি হল সান্‌পোও পর্বত (২৪৮৩ মি) এবং কোওবুশি পর্বত (২৪৭৫ মি)। আরাকাওয়া নদী কোওবুশি পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়েছে। চিচিবু উপত্যকার পূর্বের অংশটি নিচু পাহাড়বিশিষ্ট।

পর্যটনসম্পাদনা

সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির অধিকাংশই উত্তর-পশ্চিমে চিচিবু অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। এটি একটি পাহাড়ময় ও নাতিউচ্চ পর্বতবিশিষ্ট অঞ্চল, এবং প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সহজ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এই অঞ্চলটিকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

ম্যাসকটসম্পাদনা

কোবাতোন নামক একটি ইউরেশীয় কলার্ড ঘুঘুপাখি সাইতামা প্রশাসনিক অঞ্চলের ম্যাসকট তথা প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রতীকী পাখি। প্রকৃতপক্ষে ২০০৪ এ অনুষ্ঠিত ঊনষষ্টিতম বার্ষিক জাতীয় অ্যাথলেটিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ম্যাসকট হিসেবে পাখিটিকে নির্বাচন করা হয়েছিল। পরের বছর রীতিমত গভর্নরের চিঠি ও সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে প্রশাসনিক আঞ্চলিক ম্যাসকটের মর্যাদা দেওয়া হয়।[৭]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Nussbaum, Louis-Frédéric. (2005). "Saitama prefecture" in গুগল বইয়ে Japan Encyclopedia, p. 808, পৃ. 808,; "Kantō" in গুগল বইয়ে p. 479, পৃ. 479,.
  2. "Saitama City Profile, overview"। ১৯ মার্চ ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০০৮ 
  3. Enbutsu, Sumiko. (1990). Chichibu: Japan's hidden treasure, p. 13.
  4. Nussbaum, "Provinces and prefectures" at গুগল বইয়ে p. 780, পৃ. 780,.
  5. 埼玉県総務部広聴広報課 (২০০৮-০২-০৬)। "埼玉県/彩の国わくわくこどもページ/県のあらまし/土地・気象"। Web.archive.org। ২০০৮-০২-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১২-০৭ 
  6. "地形と歴史"। Web.archive.org। ২০০৪-০৯-২৮। ২০০৪-০৯-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১২-০৭ 
  7. 埼玉県総務部広聴広報課 (২০০৮-০২-২১)। "埼玉県/埼玉県のマスコット コバトン"। Web.archive.org। ২০০৮-০২-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১২-০৭