সরমা গুপ্তা

বিপ্লবী নারী।

সরমা গুপ্তা (১৮৮২ - ১৯৫০) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা।

সরমা গুপ্তা
জন্ম১৮৮২
মৃত্যু১৯৫০
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সাল পর্যন্ত)
 পাকিস্তান (১৯৬৪ সাল পর্যন্ত)
 ভারত
পেশারাজনীতিবিদ
পরিচিতির কারণব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের নায়ক
উল্লেখযোগ্য কর্ম
গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি, 'জুড়ান শিক্ষামন্দির' স্থাপন মৃত্যুর পড়ে স্কুলে স্থানান্তর
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন
পিতা-মাতাগিরীশ চন্দ্র সেন ও সরলাসুন্দরী সেন

জন্ম ও পরিবারসম্পাদনা

সরমা গুপ্তা ১৮৮২ সালে ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম গিরীশ চন্দ্র সেন ও মাতার নাম সরলাসুন্দরী সেন। বিবাহের কয়েক বৎসর পরে সরমা গুপ্তা সন্তান ও স্বামীহারা হয়ে ঢাকায় পিত্রালয়ে চলে আসেন। তারপরে তিনি দেশের সেবাতেই নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করেন।

রাজনৈতিক জীবনসম্পাদনা

১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। মহিলাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করার জন্য এবং গান্ধীজীর বাণী প্রচার করার লক্ষ্যে ১৯২৪ সালে তিনি আশালতা সেনসরযূ গুপ্তার মিলে গঠন করেন ‘গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি’। এই সমিতি থেকে চরকা ও খদ্দর প্রচার করা, খাদি ও শিল্প-প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা, সভা-সমিতি আহ্বান করা এবং নানা গঠনমূলক কাজ করা হত। মহিলাদের মধ্যে দেশাত্মবােধ জাগ্রত করা সমিতির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। দুবৃত্তদের হাত থেকে আত্মরক্ষা শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে সমিতিতে লাঠি-ছােরা খেলা শিক্ষা দেবার ব্যবস্থাও করা হয়। শিক্ষাদান করতেন বিপ্লবী আশুতােষ দাশগুপ্ত। গোন্ডারিয়ার দুই মাইল দূরে ১৯২৯ সালে 'জুড়ান শিক্ষামন্দির' স্থাপন করেন। তার মৃত্যুর পরে স্কুলের নাম তার নামে নামকরণ করা হয়। [১] (১৯৩০ সালে লবণ আইন অমান্য আন্দোলনের সময় তিনি নোয়াখালীতে গিয়ে কাজ করেন। তিনি স্বদেশী কাজ ও সমাজ সেবামুলক কাজ করেন।[২] ১৯৩২ সালে আন্দোলন পরিচালন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন।

মৃত্যুসম্পাদনা

সরমা গুপ্তা ১৯৪২ সালে কঠিন রোগে শরীর ভগ্নস্বাস্থ্য হয়। ১৯৫০ সালে তিনি মারা যান। তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশসেবার কাজ করেছিলেন এবং 'বড়দি' নামে পরিচিত ছিলেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বসু, অঞ্জলি (নভেম্বর ২০১৩)। বসু, অঞ্জলি; সেনগুপ্ত, সুবোধচন্দ্র, সম্পাদকগণ। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান (পঞ্চম সংস্করণ, দ্বিতীয় মুদ্রণ সংস্করণ)। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৭৬৭। আইএসবিএন 978-8179551356 
  2. কমলা দাশগুপ্ত (জানুয়ারি ২০১৫)। স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী, অগ্নিযুগ গ্রন্থমালা ৯কলকাতা: র‍্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন। পৃষ্ঠা ১৯৯-২০০। আইএসবিএন 978-81-85459-82-0