প্রধান মেনু খুলুন

সমতট বাংলার একটি প্রাচীন ভৌগোলিক অঞ্চল। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় ব্রহ্মপুত্র নদীর মুখে বঙ্গ জনপদের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে ছিল সমতটের অবস্থান। এ অঞ্চলটি ছিল আর্দ্র নিম্নভূমি। চৈনিক পরিব্রাজক ইিউয়েন সাং সমতটকে কামরূপের দক্ষিণে বিস্তৃত নিম্নদেশ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত উত্তরের উচ্চ এবং উঁচু-নিচু অঞ্চলের চেয়ে এই অঞ্চলের নদী বিধৌত অঞ্চল ছিল সমতল। সেই থেকে সমতট নামটি প্রচলিত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। রোমান জ্যোতির্বিদ টলেমি এ অঞ্চলকে Souanagoura হিসেবে উল্লেখ করেন।

যে সিরিজের অংশ সেটি হল
বাংলার ইতিহাস
Atisha.jpg
প্রাচীন বাংলা
 বৈদিক যুগ 
বাংলার প্রাচীন জনপদসমূহ
গঙ্গারিডাই, বঙ্গ,
পুণ্ড্র, সুহ্ম,
অঙ্গ, হরিকেল

মৌর্যযুগ
ধ্রুপদী বাংলা
ধ্রুপদী যুগ
শশাঙ্ক
সাম্রাজ্যের যুগ
পাল সাম্রাজ্য, সেন সাম্রাজ্য
মধ্যযুগীয় বাংলা
ইসলামের আগমন
বাংলা সুলতানী, দেব রাজ্য
বখতিয়ার খিলজি, রাজা গণেশ, জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ, হুসেন শাহী রাজবংশ

মুঘল যুগ
প্রতাপাদিত্য, রাজা সীতারাম রায়
বাংলার নবাব, বারো ভুঁইয়া, রাণী ভবাণী

আধুনিক বাংলা
কোম্পানি রাজ
পলাশীর যুদ্ধ, জমিদারী ব্যবস্থা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্রিটিশ ভারত
বাংলার নবজাগরণ
ব্রাহ্মসমাজ
স্বামী বিবেকানন্দ, জগদীশচন্দ্র বসু,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু

উত্তর-সাম্রাজ্য যুগ
বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭), বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ
শেখ মুজিবুর রহমান, জ্যোতি বসু, বিধানচন্দ্র রায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা

এছাড়াও দেখুন
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাসসম্পাদনা

 
৩০০ খ্রিস্টাব্দে সমতট

ইতিহাসবিদেরা কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। আবার কেউ কেউ মনে করেন, কুমিলা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে সমতট গঠিত হয়েছিল। আবার অনেকের মতে সমতট এর প্রাণকেন্দ্র ছিল 'লালমাই-ময়নামতি' এবং প্রাচীন কুমিল্লা অঞ্চলের নাম ছিল সমতট। খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দী থেকে (কারও কারও মতে সপ্তম শতাব্দী) দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এই জনপদের বিস্তৃতি ছিল প্রায় ৫০০ মাইল এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা জেলা ছিল সমতটের অন্যতম অংশ।

সপ্তম শতাব্দীতে সমতটের রাজধানী ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের কামড়া অঞ্চলে। এক সময় এ জনপদের পশ্চিম সীমা চব্বিশ পরগনার খাড়ি পরগনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত বলা হতো সমতট। কুমিলা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা নামক স্থানটি সাত শতকে এর রাজধানী ছিল।

চন্দ্রবংশীয় রাজা ভবদেব কুমিল্লায় আনন্দ বিহার বা শালবন বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময়ে বিহার এশিয়ার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিগণিত হয়। সে সময় একে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়। বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং আনন্দ বিহারে আসেন। তখন বিহারে চার হাজার ভিক্ষু ছিল। তিনি ময়নামতী অঞ্চলে ৩৫টি বিহার দেখতে পান।

বর্তমান অবস্থাসম্পাদনা

বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্তর্গত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর,লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলা নিয়ে ছিলো সমতট অঞ্চল। বর্তমানেও এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অভিন্নতা রয়েছে। এই অঞ্চল নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ নামে প্রশাসনিক বিভাগ (প্রস্তাবিত). এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অভিন্নতা অটুট রাখতে এবং আঞ্চলিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় বৃহত্তর সমতট ঐক্য সংসদ নামে সাংস্কৃতিক সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বঙ্গদেশের এক নাম সমতট, বরাহমিহিরের কুর্ম্মবিভাগ গ্রন্থে বঙ্গ,উপবঙ্গ ও সমতটকে পৃথক দেশে ধরা হয়ছে,বোধ হয় বঙ্গের সমুদ্রতীরস্থ অংশই সমতট।তবকৎ-ই-নাসিরী গ্রন্থে সমতটকে সনতট বা সাঁকট নাম লিখিত আছে। আবার হোয়েনসাং লিখেছেন  "সমতটরাজ্য চক্রাকৃতি তাহার বেষ্টন তিন হাজার লি এবং সমুদ্রতীরবর্ত্তী।রাজধানীর বেষ্টন ২০ লি, ভূমি নিম্ন ও উর্বর এবং অপর্য্যাপ্ত শস্য উৎপাদন হয়,জলবায়ু প্রীতিকর, অধিবাসিরা খর্বকায়,কৃষ্ণবর্ণ ও কষ্টসহিষ্ণু, রাজ্যে সত্যধর্ম্ম ও অপধর্ম্ম  উভয়ই প্রচলিত।ত্রিশটি সঙ্ঘারামে প্রায় দুই হাজার ব্রাহ্মণ বাস করতেন, রাজ্যে প্রায় একশত দেবমন্দির আছে, অসংখ্য উলঙ্গ নিগ্রন্থ বাস করে।নগরের নিকট অশোকস্তূপ বর্তমান।পূর্ব্বকালে তথাগত সেখানে সপ্তাহকাল শাস্ত্র ব্যাখ্যা করেন।স্তূপের নিকটস্থ সঙ্ঘারামে হরিৎ প্রস্ত ল্র নির্মিত ৮ ফুট উচ্চ বুদ্ধমূর্ত্তি ছিল।" এইছিল হোয়েনসাং এর বিবরণ।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা