সবরকাণ্ঠা জেলা

গুজরাটের একটি জেলা

সবরকাণ্ঠা জেলা হল ভারতের গুজরাট রাজ্যের ৩৩টি জেলার একটি এবং এটি রাজ্যের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।[১] এই জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর হিম্মতনগরে অবস্থিত।[১]

সবরকাণ্ঠা জেলা
জেলা
গুজরাতে সবরকাণ্ঠা জেলার অবস্থান
গুজরাতে সবরকাণ্ঠা জেলার অবস্থান
দেশ ভারত
রাজ্যগুজরাট
সদরহিমাতনগর
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২৪,২৮,৫৮৯
ভাষা
 • সরকারীগুজরাটি, হিন্দি, ইংলিশ
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
আইএসও ৩১৬৬ কোডGJ-IN
যানবাহন নিবন্ধনGJ-9
ওয়েবসাইটgujaratindia.com
হিমাতনগর পাবলিক লাইব্রেরী

ভৌগলিক অঞ্চলসম্পাদনা

সবরকাণ্ঠা জেলার উত্তর এবং উত্তর-পূর্বে রাজস্থান রাজ্য, বনাসকাণ্ঠা জেলা ও পশ্চিমে মেহসানা জেলা, দক্ষিণে গান্ধীনগর জেলা এবং দক্ষিণ-পূর্বে পাঁচমহল জেলা দ্বারা সীমাবদ্ধ রয়েছে।[২]

এই জেলাটি ৮টি তালুক নিয়ে গঠিত। যেমন - হিমতনগর জেলা সদর, ইদর, প্রান্তিজ, তালোদ, খেদব্রহ্মা, ভাদলি, বিজয়নগর এবং পোশীনা। এই জেলাটি প্রায় ৭৩৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

 
হার্নভ বাঁধ

ইতিহাসসম্পাদনা

পশ্চিমাংশে সাতরাপ শাসনকালে এই অঞ্চলটি শ্বভ্র (গুজরাটি: શ્વભ્ર) নামে পরিচিত ছিল। এই অঞ্চলটি ১৫০ অ্যানো ডোমিনি বা খ্রিস্টপূর্বতে সাতরাপ রুদ্রদমার অধীনে ছিল যা জুনাগড়ে অশোকের মেজর রক এডিকেটস এ ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই অঞ্চলের নদীটির নামকরণ করা হয়েছে শুভ্রবতী যা বর্তমানে সাবরমতী নদী নামে পরিচিত।

ব্রিটিশ রাজত্বকালে সবরকান্ঠা জেলার বিজয়নগর ছিল বিজয়নগর রাজ্যের রাজধানী অথবা পোল রাজ্যের অন্যতম দেশীয় রাজ্য হল মাহি কাঁথা এজেন্সি[৩]

বর্তমানে সবরকান্ঠা জেলা ১৯৪৯ সালে ২৯টি দেশীয় রাজ্য ও ব্রিটিশ শাসনকালে আহমেদাবাদ জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল।[৪] ১৯৬০ সালে যখন বোম্বে রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছিল তখন গুজরাটের একটি অংশ সবরকান্ঠায় নতুনভাবে গঠিত হয়।[৪]

অর্থনীতিসম্পাদনা

২০০৬ সালে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের অধীনস্থ সবরকাণ্ঠা জেলা দেশের ২৫০টি পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির মধ্যে একটি (মোট ৬৪০ এর মধ্যে)।[৫] গুজরাটের ছয়টি জেলার মধ্যে একটি জেলা যা অনগ্রসর এলাকা অনুদান তহবিল প্রোগ্রাম (বিআরজিএফ) থেকে তহবিল গ্রহণ করে।[৫]

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে সবরকাণ্ঠা জেলার জনসংখ্যা ২,৪২৮,৫৮৯ জন[৬] কুয়েত[৭] বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো রাজ্যের সমান জনসংখ্যা।[৮] এই জেলাটি ভারতে ১৮৩তম স্থান (মোট ৬৪০ এর মধ্যে)।[৬] এই জেলাটির জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩২৮ জন প্রতি বর্গকিলোমিটারে(৮৫০/বর্গমাইল) এ।[৬] ২০০১-২০০১১ সালের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৬.৫৬%।[৬] সবরকান্ঠা জেলায় প্রতি ১০০০ জন পুরুষের মধ্যে ৯৫০ জন মহিলার লিঙ্গ অনুপাত রয়েছে[৬] এবং এই জেলার সাক্ষরতার হার ৭৬.৬%।[৬]

ভারতে ২০১১ সালের আদমশুমারির অনুসারে, এই জেলার জনসংখ্যার ৯৭.৮৬% গুজরাটি এবং ১.৬৩% হিন্দি, তারা তাদের মাতৃভাষায় কথা বলেন।[৯]

গুজরাটের সবরকাণ্ঠা জেলার ছোট্ট গ্রাম পুনসারি সেরা গ্রাম হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিল।[১০]

দুর্গসম্পাদনা

ইডারিও গাধ বা ইলভা দুর্গা (প্রাচীন দুর্গ) - ইদার একটি প্রাচীন দুর্গ, এটি 'ইলভা দুর্গা' নামে পরিচিত এবং এটি মহাভারতেও উল্লেখিত রয়েছে এবং ব্রিটিশ রাজত্বের সময়ে মাহি কাঁথা এজেন্সির রাঠোর রাজপুতদের ভ্রমণস্থান হিসাবে জানা যেত। এটি প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে সুরক্ষিত পাহাড়ি দুর্গের ক্লাসিক উদাহরণ যা আরাবল্লি পর্বতের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। ইদার শহরে প্রবেশে পথে তিনতলা বিশিষ্ট ঘড়ি টাওয়ারসহ প্রবেশদ্বার এবং উপরে একটি বিশাল তোরণ ও অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজ রয়েছে। রাস্তাটির উভয় পাশে রঙিন বাজার রয়েছে যা টাওয়ার থেকে শুরু করে ইডার দুর্গের পাদদেশে শেষ হয়েছে।[১১]

ঐতিহ্য স্থানসম্পাদনা

 
জৈন মন্দির পোলো স্মৃতিস্তম্ভ

বিজয় বিলাস বিজয়নগর - বিজয় বিলাস বিজয়নগর আরাবল্লি পর্বতের পাদদেশে বাসা নির্মান রয়েছে এবং গুজরাটের সবরকান্ঠা জেলায় বেশ কয়েকটি ঘন অরণ্য রয়েছে যা গুজরাট ও রাজস্থানের সীমান্তে অবস্থিত। প্রকৃতি এবং বন্য জীবন প্রশংসকদের জন্য একটি স্বর্গ মনে হয়। মনোরম পরিবেশের জন্য অদ্বিতীয় যা উদ্ভিদ এবং প্রাণীজগতের আকর্ষণীয় প্রজাতির আশ্রয়স্থল রয়েছে, বিরল পাখি এবং বন্য প্রাণীদের অভয়ারণ্য, সুন্দর ক্ষুদ্র নদী প্রবাহিত হয় ও বিশুদ্ধ হ্রদ দ্বারা সজ্জিত যা মনুষ্য ইন্দ্রিয়কে পূর্ণ করে তোলে।[১২]

দরবারগড় - সবরকান্ঠা জেলার আম্বাজি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, পোশিনার ঐতিহ্যবাহী গ্রামের জীবন সাধারণ সৌন্দর্য ফিরিয়ে নিয়ে যায়, গারাসিয়াস, ভিল এবং যাজক রাবারিসদের বর্ণময় উপজাতির সম্প্রদায়ের মনমুগ্ধকর মলাঞ্জ জনজাতি রয়েছে। পোশিনায় একটি উপজাতির মন্দির রয়েছে যেখানে স্থানীয় দেবদেবীর উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য হিসাবে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার পোড়ামাটির ঘোড়ার বিস্ময়কর দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। আশেপাশের গ্রামগুলিতে তাদের দেবতার প্রতি শ্রদ্ধার সাথে খোদাই করা অনুরূপ ঘোড়া রয়েছে। কুমোররা যারা এই আকর্ষণীয় ঘোড়াগুলি তৈরি করেন তাদের বাড়িতে গিয়ে উপজাতি সংস্কৃতির একটি দুর্দান্ত ঝলক দেখা যায়।

এখানে পার্শ্বভনাথ এবং নেমিনাথের পুরানো জৈন বেলেপাথরের মন্দির ও একটি পুরানো শিব মন্দির রয়েছে।

হোলির কয়েক সপ্তাহ পরে সবরকান্ঠা জেলায় গুনভাখাড়ি গ্রামে বিখ্যাত চিত্র বিচিত্র মেলার আয়োজন হয়।[১৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Districts of Gujarat"Districts of India। National Informatics Centre। ৭ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৯ 
  2. District Census Handbook Sabar Kantha Part XII-B (PDF)। Directorate of Census Operations। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৯ 
  3. Rajput Provinces of India - Vijaynagar State (Princely State)
  4. Rajyagor, S B (১৯৭৪)। Gujarat State Gazetteers Sabarkantha District। Ahmedabad: Director, Government Printing। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০১৯ 
  5. Ministry of Panchayati Raj (সেপ্টেম্বর ৮, ২০০৯)। "A Note on the Backward Regions Grant Fund Programme" (PDF)। National Institute of Rural Development। এপ্রিল ৫, ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১১ 
  6. "District Census 2011"। Census2011.co.in। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০ 
  7. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-০১Kuwait 2,595,62 
  8. "2010 Resident Population Data"। U. S. Census Bureau। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০New Mexico - 2,059,179 
  9. 2011 Census of India, Population By Mother Tongue
  10. Bharat Yagnik (২০ মে ২০১২)। "Gujarat village that puts metros to shame"। The Times of India। 
  11. http://gujaratindia.com/about-gujarat/forts-1.htm#Idar
  12. "Archived copy"। ২০১২-০১-০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৩-২২ 
  13. "Archived copy"। ২০১৪-০৩-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৩-২২