সপ্ততি (লাতিন: Septuaginta; গ্রিক:  Ἑβδομήκοντα; ইংরেজি: Septuagint, /ˈsɛptjuəɪnt/,[১] /sɛpˈtjəɪnt/)[২] বা গ্রীক পুরাতন নিয়ম হল ইব্রীয় বাইবেল, বিভিন্ন বাইবেলীয় অপ্রামাণিক রচনা ও দ্বিতীয় ধর্মসম্মত পুস্তকসমূহের আদিমতম কোইনীয় গ্রীক অনুবাদ।[৩] হিব্রু বাইবেলের পাঁচটি পুস্তক, যেগুলো তৌরত বা পঞ্চপুস্তক নামে পরিচিত, খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের মাঝামাঝি সময়ে অনুদিত হয়েছিল। গ্রীক পুরাতন নিয়মের অবশিষ্ট পুস্তকগুলি সম্ভবত খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের অনুবাদ।[৪][৫][৬]

সপ্ততি
Septuaginta
Codex Vaticanus (1 Esdras 1-55 to 2-5) (The S.S. Teacher's Edition-The Holy Bible).jpg
সপ্ততির একটি টুকরো: বাতিকান ব্যবস্থা-সংহিতায় ১ ইষ্রার অসম্পূর্ণ পুস্তকের একটি কলাম, আনু. ৩২৫–৩৫০ খ্রীষ্টাব্দ, স্যার ল্যান্সলট চার্লস লি ব্রেন্টনের গ্রীক সংস্করণ এবং ইংরেজি অনুবাদের ভিত্তি
সাধারণ তথ্য
নামেও পরিচিত
তারিখআনু. খ্রীষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী
ভাষাকোইনীয় গ্রীক
বিষয়বস্তু

পুরো শিরোনাম (প্রাচীন গ্রিকἩ μετάφρασις τῶν Ἑβδομήκοντα "সপ্ততির অনুবাদ") আরিস্তেয়াসের চিঠিতে লিপিবদ্ধ গল্প থেকে এসেছে যে টলেমি দ্বিতীয় ফিলাডেলফাসের (২৮৫–২৪৭ খ্রী.পূ.) অনুরোধে হিব্রু তোরাহকে ৭০ জন ইহুদি পণ্ডিতের দ্বারা গ্রীক ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল বা পরবর্তী ঐতিহ্য অনুসারে, ৭২ জন: ইস্রায়েলের দ্বাদশ বংশের প্রত্যেক বংশ থেকে ছয়জন পণ্ডিত যারা স্বতন্ত্রভাবে অভিন্ন অনুবাদ তৈরি করেছিলেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] আরিস্তেয়াসের কিংবদন্তীর অলৌকিক চরিত্র শ্রদ্ধা ও অবজ্ঞাকে ইঙ্গিত করে যে সময়ে অনুবাদ সংঘটিত হয়েছিল; আলেক্সান্দ্রীয় ইহুদিদের মধ্যে হিব্রু ধর্মগ্রন্থসমূহের গ্রীক অনুবাদ প্রচলিত ছিল।[৭] সেই যুগের মিশরীয় নলখাগড়াগুলো বেশিরভাগ পণ্ডিতদের সম্ভাব্য আরিস্তেয়াসের পঞ্চপুস্তককে তৃতীয় খ্রীষ্টপূর্ব শতাব্দীতে অনুবাদ করার দিকে পরিচালিত করেছে। অনুবাদে টলেমীয় আদালতের যত ভাগই থাকুক না কেন, এটি ইহুদি সম্প্রদায়ের চাহিদা পূরণ করেছিল, যাদের মধ্যে হিব্রু ভাষার জ্ঞান হ্রাস পাচ্ছিল।[৮] যাই হোক, আরিস্তেয়াসের চিঠির সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে; “তিনি ছিলেন ইংরেজ সন্ন্যাসী হামফ্রি হোডি (১৬৮৪) যিনি নিশ্চিতভাবে দেখাতে পেরেছিলেন যে চিঠিটি ফিলাদেলফুসের সমসাময়িক ছিল না।”[৯]

দ্বিতীয় মন্দিরের আমলে গ্রীক ধর্মগ্রন্থগুলি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হত, কারণ সেই সময় খুব কম লোকই হিব্রু পড়তে পারত। গ্রীক পুরাতন নিয়মের পাঠ্যটি প্রেরিতীয় পিতাদের দ্বারা এবং পরবর্তী গ্রীক মণ্ডলী পিতাদের দ্বারা গ্রীক নূতন নিয়মের মূল হিব্রু বাইবেলের পাঠ্যের চেয়ে প্রায়শই অধিক উদ্ধৃত হয়[১০][১১] (বিশেষভাবে পৌলীয় পত্রসমূহ)।[১২] গ্রীক পুরাতন নিয়মের আধুনিক সমালোচনামূলক সংস্করণগুলি আলেক্সান্দ্রিনুস, সীনয়তিকুস ও বাতিনাকুস ব্যবস্থা-সংহিতার উপর নির্ভর করে। এই চতুর্থ এবং পঞ্চম শতাব্দীর গ্রীক পুরাতন নিয়মের পাণ্ডুলিপির দৈর্ঘ্য ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, আলেক্সান্দ্রিনুস ব্যবস্থা-সংহিতায় মকবীয়দের চারটি পুস্তক রয়েছে; সীনয়তিকুস ব্যবস্থা-সংহিতায় ১ ও ৪ মকবীয় রয়েছে এবং বাতিকানুস ব্যবস্থা-সংহিতায় চারটি পুস্তকের কোনটিই নেই।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Wells, John C. (২০০৮)। Longman Pronunciation Dictionary (3তম সংস্করণ)। Longman। আইএসবিএন 978-1-4058-8118-0 
  2. "Septuagint"মেরিয়াম-ওয়েবস্টের ডিকশনারি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০২০ 
  3. "Septuagint"Dictionary। Merriam-Webster। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ৭, ২০১৮ 
  4. Beckwith, Roger T. (২০০৮)। The Old Testament Canon of the New Testament Church। Eugene, Oregon: Wipf and Stock Publishers। পৃষ্ঠা 382, 383। 
  5. Mulder, M. J. (১৯৮৮)। Mikra : text, translation, reading, and interpretation of the Hebrew Bible in ancient Judaism and early Christianity। Phil.: Van Gorcum। পৃষ্ঠা 81। আইএসবিএন 978-0800606046 
  6. "Septuagint"Encyclopedia Britannica। জুন ১৫, ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৯ 
  7. "CATHOLIC ENCYCLOPEDIA: Septuagint Version"www.newadvent.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-২৪ 
  8. Sigfried, Carl; Gottheil, Richard (১৯০৬)। "Hellenism"Jewish Encyclopedia। The Kopelman Foundation। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১৯ 
  9. Alan T., Levenson (২০১২)। The Wiley-Blackwell History of Jews and Judaism। UK: Wiley-Blackwell। পৃষ্ঠা 121–141। আইএসবিএন 978-1405196376 
  10. Nicole, Roger, New Testament Use of the Old Testament Revelation and the Bible, ed. Carl. F.H. Henry (Grand Rapids: Baker, 1958), pp. 137–51.
  11. Toy, Crawford; Gottheil, Richard (১৯০৬)। "Bible Translations – The Septuagint"Jewish Encyclopedia। The Kopleman Foundation। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  12. "Saul of Tarsus"Jewish Encyclopedia। The Kopleman Foundation। ১৯০৬। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২