প্রধান মেনু খুলুন

শীলা আহমেদ

বাংলাদেশী অভিনেত্রী

শীলা আহমেদ (জন্ম: ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২) হলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেত্রী। তিনি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা। তার অভিনয় জীবন শুরু হয় বহুব্রীহি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি কোথাও কেউ নেই (১৯৯০), প্রিয় পদরেখা (১৯৯২), হিমু (১৯৯৪) ও ওইজা বোর্ড (১৯৯৫) টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৪ সালে আগুনের পরশমণি ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তার অভিনীত সর্বাধিক জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটক হল আজ রবিবার

শীলা আহমেদ
জন্ম (1982-09-09) সেপ্টেম্বর ৯, ১৯৮২ (বয়স ৩৭)
পেশাঅভিনেত্রী
পরিচিতির কারণআজ রবিবার
দাম্পত্য সঙ্গীআসিফ নজরুল (বি. ২০১৩)
সন্তান
পিতা-মাতা
পুরস্কারজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৪)

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

শীলা ১৯৮২ সালে ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) ছিলেন একজন খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক এবং মাতা গুলতেকিন খানও একজন লেখক। চার ভাইবোনের মধ্যে শীলা দ্বিতীয়।[১] তার অন্য দুই বোন বিপাশা আহমেদ ও নোভা আহমেদ, এবং ছোট ভাই নুহাশ হুমায়ুন[২] কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং রম্য লেখক আহসান হাবীব তার চাচা।[৩]

শীলা আহমেদ শৈশব কাল থেকেই অভিনয়ে জড়িয়ে পড়েন এবং অনেক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন। তিনি পড়াশুনা করেছিলেন হলিক্রস গার্লস কলেজে

অভিনয় জীবনসম্পাদনা

শীলা আহমেদ টেলিভিশনে আগমন করেছিলেন বহুব্রীহি নাটকে শিশু অভিনেত্রী চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে।[৪] কোথাও কেউ নেই নাটকেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। এ নাটকে মিমির ছোট বোন হিসেবেও তিনি পরিচিত। এ ছাড়াও বিপাশা হায়াতের সাথে ওইজা বোর্ড নাটকে তার অভিনয় এখনও দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। হুমায়ুন আহমেদের আগুনের পরশমণি ছবিতে অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রের অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।[৫] একই বছর তিনি হিমু টিভি নাটকে অভিনয় করেন। তার সর্বাধিক জনপ্রিয় কাজ হল আজ রবিবার (১৯৯৮) টেলিভিশন নাটকে কংকা চরিত্র। এই নাটকের পর থেকে তাকে আর অভিনয়ে দেখা যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

শীলা ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও কলাম লেখক আসিফ নজরুলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।[৬] এর পূর্বে তিনি আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসারের তার দুটি সন্তান ছিল। অন্যদিকে আসিফ নজরুল এর পূর্বে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীকে বিয়ে করেছিলেন। প্রাচীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর নজরুল শীলাকে বিয়ে করেন।[৭] ২০১৫ সালে ৭ মে নজরুল-শীলা দম্পতির একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে।[৮]

চলচ্চিত্র ও নাটকের তালিকাসম্পাদনা

বছর শিরোনাম ভূমিকা মন্তব্য
১৯৮৮ বহুব্রীহি গায়ে হলুদে বাচ্চা মেয়ে
১৯৯২ কোথাও কেউ নেই লিনা
প্রিয় পদরেখা বিলু
১৯৯৪ আগুনের পরশমণি অপলা বিজয়ী: বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী
হিমু লিনা
১৯৯৫ ওইজা বোর্ড
১৯৯৫ নিমফুল মদিনা
১৯৯৭ নক্ষত্রের রাত পলিন
১৯৯৯ আজ রবিবার কঙ্কা

পুরস্কারসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "বিয়ে করলেন আফিস নজরুল ও হুমায়ূনকন্যা শীলা"যায়যায়দিন। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  2. "হুমায়ূনকে একবারও দেখতে যাননি গুলতেকিন"যায়যায়দিন। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  3. "হুমায়ূনের কবরে স্বজনেরা"দৈনিক প্রথম আলো। ২৪ আগস্ট ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  4. খান, নওয়াজিশ আলি (২৬ জুলাই ২০১২)। "বিদায় হুমায়ূন! যেভাবে শুরু"দৈনিক প্রথম আলো। ২৭ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. "চলচ্চিত্রে হুমায়ূন, হুমায়ূনের চলচ্চিত্র"দেশে বিদেশে। ২১ জুলাই ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০১৭ 
  6. কাদের, মনজুর (২৫ ডিসেম্বর ২০১৩)। "বিয়ের বন্ধনে আসিফ নজরুল ও হুমায়ূনকন্যা শীলা"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  7. "শীলা আরেকবার হাত ধরেছিলেন আসিফ নজরুলের"রাইজিংবিডি ডট কম। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭ 
  8. "সন্তান এলো আসিফ নজরুল -শীলার ঘরে"এনটিভি অনলাইন। ৯ মে ২০১৫। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা