শরীফ ইমাম শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এর স্বামী ও শহীদ শাফি ইমাম রুমী বীর বিক্রমের পিতা।

জীবনসম্পাদনা

শরীফ ইমামের ৩০ অক্টোবর, ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আদিনিবাস নীলফামারী জেলায় ডোমার উপজেলার খাটুরিয়া গ্রামে। রংপুর শহরের মুন্সিপাড়ায় তার পৈতৃক আবাস ছিলো। তার পিতা মোহাম্মদ আলী ছিলেন পেশায় আইনজীবী।

শরীফ ইমামের জন্মের দুই বছর পর তার মা মারা যান। মাতৃহারা চারটি সন্তানকে লেখাপড়ার দায়িত্ব নেন তার পিতা।

১৯৪৮ সালে ৯ আগস্ট তিনি জাহানারা ইমামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই পুত্রসন্তান শাফী ইমাম রুমী ও সাইফ ইমাম জামী।

শিক্ষা ও কর্মজীবনসম্পাদনা

শরীফ ইমাম রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৪২ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর রংপুর কারমাইকেল কলেজ-এ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে প্রথম বিভাগে আইএসসি ও কলকাতার শিরপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাস করেন। ডিজাইনে বিভাগে তিনি সোনার মেডেল পান।

১৯৫০ সালে শরীফ ইমাম ঢাকায় সিএন্ডবিতে ডিজাইন বিভাগে যোগদান করেছিলেন। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে দি ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডে যোগদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানসম্পাদনা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ইমাম পরিবার সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। শরীফ ইমাম ও তার বন্ধু সাজেদুর রহমান খান টাকা সংগ্রহ করে অল্প অল্প করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাঠাতেন। বিভিন্ন প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধারা শরীফ ইমামের ‘কণিকা’ বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। জুন মাসের শেষের দিকে দুই নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ এর একটি চিঠি নিয়ে শাহাদাত চৌধুরীহাবিবুল আলম আসেন শরীফ ইমামের বাড়িতে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চলাচল ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে খালেদ মোশাররফ তার কাছে বাংলাদেশের ব্রিজ ও কালভার্টের ব্যাপারে তথ্য চেয়ে পাঠান। শরীফ ইমাম ব্রিজের ঠিক কোন কোন পয়েন্টে এক্সপ্লসিভ বেঁধে ওড়ালে ব্রিজ ভাঙবে অথচ কম ক্ষতি হবে অর্থাৎ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সহজে মেরামত করা যাবে, সেভাবে বিস্তারিত তথ্য দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের।

১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট রুমী ও পরিবারের অন্য সদস্যে সঙ্গে শরীফ ইমামকেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শরীফ ইমামকে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আহত অবস্থায় ছেড়ে দেয়।

পুত্র রুমীকে উদ্ধার করার জন্য শরীফ ইমাম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে দাক্ষিণ্য কামনা করতে রাজি হননি। এর ফলস্বরূপ পাকিস্তান সেনাবাহিনী গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা রুমীকে হত্যা করে।

মৃত্যুসম্পাদনা

১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭১ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শরীফ ইমাম মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

Hensher, Philip (১ মার্চ ২০১৩)। "Bangladesh's bestseller about its brutal birth"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ 

দৈনিক প্রথম আলো, "মুক্তিযুদ্ধের নিভৃত এক সহযাত্রী", প্রশান্ত কর্মকার | তারিখ: ৩০-১০-২০০৯

Imam, Jahanara (১৯৮৬), Ekattorer Dingulee, Shandhani Prakashani, Dhaka, আইএসবিএন 984-480-000-5  (বাংলা)