রিটা মেইবার্গ (২৩ জুন ১৯৫২ - ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭) একজন জার্মান এয়ারলাইন পাইলট ছিলেন।[১] তিনি ১৯৬৭ সালে বিশ্বের ইতিহাসে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের প্রথম মহিলা ক্যাপ্টেন হয়েছিলেন।[২]

রিটা মেইবার্গ
Rita Maiburg
রিটা মেইবার্গ.jpeg
জন্ম(১৯৫২-০৬-২৩)২৩ জুন ১৯৫২
মৃত্যু৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৭(1977-09-09) (বয়স ২৫)
জাতীয়তাজার্মান
পেশাবিমান চালক
নিয়োগকারীডয়েচে লুফ্টভারকেহার্সগেসেলশ্যাফ্ট (ডিএলটি)
পরিচিতির কারণবিশ্বের প্রথম যাত্রীবাহী বিমানের নারী ক্যাপ্টেন

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

রিটা মেইবার্গ ১৯৫২ সালে জার্মানির বনে জন্মগ্রহণ করেন,[১] স্থপতি অ্যালোইস এবং গারট্রুড মাইবুর্গের চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। জার্মানির বন নগরের কাছে হার্সেল শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে তিনি প্রাথমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন, ১৯৬৮ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ফোরগেবারজের একটি গ্লাইডার ক্লাবে বৈমানিকের প্রশিক্ষণ শুরু করেন এবং দুই বছর পরে বন-হ্যাঙ্গেলারের লুফ্ফ্‌ফারসচুলে নর্থ-রাইন ওয়েস্টফালিয়ায় তার ব্যক্তিগত বিমান চালনার লাইসেন্স অর্জন করেন।[৩]

বৈমানিক জীবনসম্পাদনা

রিটা মেইবার্গ বনের ফেডারেল ইনস্টিটিউট ফর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে চাকরি নেন এবং জার্মান এয়ারলাইন লুফ্‌টহানজা এয়ারলাইন্সের বিমান চালক প্রশিক্ষণ কার্যে একটি পদের জন্য আবেদন করেন। বিমান সংস্থাটি তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল; কারণ এটি নারীদের পাইলট হিসেবে নিয়োগ দেয়নি। ১৯৭৪ সালে মেইবার্গ এয়ারলাইন এবং এয়ারলাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হিসাবে রাষ্ট্র উভয়ের বিরুদ্ধে এটি অন্যায্য বৈষম্য দাবি করে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।[৪] তিনি উভয় ম্মলায় হেরে যান, তথাপি তিনি একটি ছোট আঞ্চলিক এয়ারলাইন, ডয়েচে লুফ্টভারকেহার্সগেসেলশ্যাফ্ট (ডিএলটি) কর্তৃক সহ-পাইলট হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।[২][৫] অল্প সময়ের মধ্যে তিনি ১৯৬৭ সালে ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন এবং বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের প্রথম মহিলা ক্যাপ্টেন হন।[২]

তার প্রথম বিমান যাত্রায় ডিএলটি ক্যাপ্টেন হিসেবে তার নাম গোপন রেখেছিল এবং বিমান অবতরণের পর নাম প্রকাশ করেছিল।[২][৫]

মৃত্যু ও সম্মাননাসম্পাদনা

১৯৭৭ সালে মেইবার্গ একটি 'মিল্ক ট্যাংকার' গাড়ি দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রে রক্তজমাট বেঁধে গেলে মৃত্যুবরণ করেন।[২] জার্মানির কোলোনে একটি প্রাক্তন বিমানঘাঁটির একটি রাস্তার নামকরণ তার নামে করা হয়েছে।[৬] ২০১৫ সালে, জর্জ ভন টয়বার্গ পাবলিশার্স ইভা মারিয়া বাডারের লেখা মেইবার্গের একটি জীবনী প্রকাশ করে।[৭]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Wussten Sie schon ... warum es im Kölner Stadtteil Ossendorf eine Rita-Maiburg-Straße gibt?"Welt। ৬ ডিসেম্বর ২০১২। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০২১ 
  2. Haamann, Florian J. (২০১৫-১১-০১)। "Porträt einer Pilotin: Pionierin"sueddeutsche.de (জার্মান ভাষায়)। আইএসএসএন 0174-4917। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৭ 
  3. Probst, Ernst (২০১৪)। Königinnen der Lüfte: Biographien berühmter Fliegerinnen wie Elly Beinhorn, Hanna Reitsch, Amelia Earhart, Jacqueline Auriol und Valentina Tereschkowa। Diplomica Verlag। 
  4. Dornberg, John (১৯৭৬)। The New Germans: Thirty Years After। Macmillan। পৃষ্ঠা 95। 
  5. "Heftarchiv"Lufthansa Media Lounge। Lufthansa। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  6. "Rita-Maiburg-Str. (Köln) im offiziellen koeln.de-Stadtplan"www.koeln.de। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৭ 
  7. "Rita Maiburg, Erster weiblicher Linienflugkapitän der westlichen Welt | Lesejury"www.lesejury.de। ২০১৬-১২-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১২-২৭