যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য

যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য (২৭ মে ১৮৯০ - ১৪ মার্চ ১৯৭৫ ) পল্লীবাংলার এক কবি। [১]

যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য
Jatindraprasad Bhattacharyay.jpg
যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য
জন্ম২৭ মে , ১৮৯০
মৃত্যু১৪ মার্চ, ১৯৭৫ (বয়স ৮৫)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাবাঙালি কবি
পিতা-মাতারোহিণীপ্রসাদ ভট্টাচার্য (পিতা)

জন্ম ও শিক্ষা জীবনসম্পাদনা

যতীন্দ্রপ্রসাদের জন্ম বৃটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার নওগাঁ মহকুমার বালিহার গ্রামে । পিতা রোহিণীপ্রসাদ ভট্টাচার্য । যতীন্দ্রপ্রসাদের প্রথম ছাত্রজীবন কাটে পিতার কর্মক্ষেত্র ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি কাশীপ্রবাসী পিতামহের কাছে চলে যান এবং সেখানে তিন-চার বৎসর পড়াশোনা করেন। এখানেই তাঁর কবিত্বের উন্মেষ ঘটে । পরে পড়াশোনার জন্য কলকাতায় থাকার সময় তৎকালীন উদীয়মান কবি ও সাহিত্যিকদের সাথে পরিচয় ঘনিষ্ঠতর হয় এবং 'ভারতবর্ষ', 'প্রবাসী', ‘মানসী',' ভারতী'প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে থাকেন ।

কর্মজীবন ও সাহিত্যকর্মসম্পাদনা

কর্মজীবন শুরু করতে তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ফিরে যান। তখন গৌরীপুরের জমিদার ছিলেন পরম সংস্কৃতি অনুরাগী অতুল বিত্তশালী ব্রজকিশোর রায়চৌধুরী। আসলে ব্রজকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন রোহিণীপ্রসাদের কনিষ্ঠ সহোদর রজনীপ্রসাদ ভট্টাচার্য । ময়মনসিংহের গৌরীপুরের জমিদার-পত্নী বিশ্বেশ্বর দেবী তাঁকে দত্তক নেন এবং নাম হয় ব্রজকিশোর রায়চৌধুরী। তাঁরই কাছারিতে প্রধান নায়েব বা সদর নায়েব হিসাবে কর্মরত ছিলেন । এই সময় তিনি ধনশালী অথচ সংস্কৃতি অনুরাগী জমিদারের সান্নিধ্য পাওয়ার ফলে শিক্ষা, সংস্কৃতি সম্পর্কে স্বাধীন ও উদার মত পোষণের সুযোগ পেয়েছিলেন। পূর্ববাংলার পল্লী প্রকৃতি সহজ সৌন্দর্য তাঁর সহজ সরল শিশুসুলভ চরিত্রে প্রভাব বিস্তার করেছিল । তিনি রবীন্দ্র প্রভাবিত যুগে জন্ম গ্রহণ করে ভাবে ও রূপে বাংলা কাব্যে যে স্বকীয়তা দেখাতে পেরেছেন, সেজন্য তাঁকে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'উত্তরসাধক' হিসাবে তুলে ধরেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডক্টর আশুতোষ ভট্টাচার্য তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থে । কেবল নির্দিষ্ট সীমার মাঝে থাকার কারণে তিনি পরিচিতি তেমন পাননি [২] ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান সরকার জমিদারিস্বত্ব অবলুপ্ত করে দিলে তিনি নায়েবপদ থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন । এরপর সপরিবারে কলকাতায় চলে আসেন । তাঁর রচিত কাব্য গ্রন্থ গুলি হল-

  • 'মর্মগাথা' - (১৯১৪)
  • 'হাসির হল্লা' - (১৯২৪)
  • 'ছায়াপথ' - (১৯২৬)
  • 'রামধনু' - (১৯২৭)
  • 'নভোরেণু' - (১৯২৮)

১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩১ বঙ্গাব্দে) 'বঙ্গবাসী' পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় 'লেনিন' শীর্ষক কবিতা প্রকাশ হলে তিনি সরকারের বিরাগভাজন হন। রাজরোষ প্রশমনের উদ্দেশ্যে 'ব্রিটন-বীর্য ' কবিতা রচনা করেন। তবে পরবর্তীকালে তাঁর 'লেনিন' কবিতা তাঁকে যথেষ্ট খ্যাতি দান করেছিল এবং কবিতাটি রাশিয়ায় ১৬/১৮ টি প্রাদেশিক ভাষায় অনূদিত হয়েছিল।

মৃত্যুসম্পাদনা

কবি যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ই মার্চ ৮৫ বৎসর বয়সে কলকাতায় প্রয়াত হন ।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা,আগস্ট ২০১৬ পৃষ্ঠা ৫৯৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. ডক্টর আশুতোষ ভট্টাচার্য সম্পাদিত'কবি যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্যের শ্রেষ্ঠ কবিতা' কলিকাতা বুক হাউস, কলিকাতা