ম্যাজি ও. টাইসন

আমেরিকান ভৌগলিক

ম্যাজি ওয়লি টাইসন (জন্ম: ১৯০০ - ৩রা মার্চ ১৯৭৫ ) ছিলেন একজন মার্কিন ভূগোলবিদ। তিনি ১৯২০-এর দশক থেকে ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণাঙ্গ কলেজগুলোতে (হিস্টোরিক্যালি ব্ল্যাক কলেজ) অধ্যাপনা করেছিলেন, যার মধ্যে টেনেসি স্টেট কলেজেই বিশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছিলেন।

ম্যাজি ও. টাইসন
Yearbook photograph of a young African-American woman in 1921.
ম্যাজি ও. টাইসন, হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষপঞ্জি বা ইয়ারবুক হতে (১৯২১ খ্রিস্টাব্দ)
জন্ম±১৯০০ খ্রিস্টাব্দ
মৃত্যু৩ রা মার্চ, ১৯৭৫
ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তামার্কিন
অন্যান্য নামম্যাজি টাইসন-স্কট
পেশাভূগোলের অধ্যাপক
কর্মজীবন১৯২০-১৯৭০

প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষাসম্পাদনা

টাইসন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলের একজন বাসিন্দা।[১] তিনি ফ্লোরিডা এ অ্যান্ড এম কলেজে দুই বছর পড়াশোনা করেছেন এবং ১৯২২ সালে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।[২] ১৯৩৭ সালে তিনি ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ভূগোল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তার সন্দর্ভের শিরোনাম ছিল "এ ফ্লোরিডা ফসফেট ল্যান্ডস্কেপ"।[৩] তিনি সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেটাল কাজ করেছেন,[৪] তবে আকস্মিকভাবে স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিয়েছিলো। যার কারণে তিনি ডক্টরেট শেষ করতে পারেন নি।[৫]

কর্মজীবনসম্পাদনা

টাইসন ১৯৪৬ সালে টেনেসি স্টেট কলেজের ভূগোল বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বে বেনেট কলেজ,[৬] বেথুন-কুকম্যান কলেজ,[৭] ফ্লোরিডা এ অ্যান্ড এম কলেজ এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছিলেন।[৮] তিনি ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত সেখানে পাঠদান করেছিলেন [৯][১০] এবং দীর্ঘ শিক্ষকতার ক্যারিয়ারের জন্য সহকর্মীরা তাকে "কিংবদন্তি" হিসেবে বিবেচনা করেছিলো।[১১]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় টাইসন ফ্লোরিডার লিওন কাউন্টিতে একটি প্যানেলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, প্যানেলটির কাজ ছিলো যুদ্ধের সময় (দ্রব্য)মূল্য বিধিমালার সাথে কালো ব্যবসার (ব্ল্যাক বিজনেস) উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা।[১২] তিনি "ভূগোলবিদদের নিকট যুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জসমূহ" (ওয়ার অ্যান্ড পোস্ট-ওয়ার চ্যালেঞ্জেস টু জিওগ্রাফার্স) (১৯৪৪),[১৩] এবং "শান্তির জন্য সংহতি যুদ্ধের জন্য সংহতি থেকে যা শিখতে পারে" (হোয়াট মোবিলাইজেশন ফর পিস ক্যান লার্ন ফ্রম মোবিলাইজেশন ফর ওয়ার) (১৯৪৫) নিবন্ধগুলিতে যুদ্ধের কাজ সম্পর্কে লিখেছেন।[১৪]

টাইসন এএইউডাব্লিউ-এর ন্যাশভিল শাখায়[১৫][১৬] এবং ভগিনীসঙ্ঘ জিটা ফাই বিটাতে সক্রিয় ছিলেন।[১৭] ১৯৫৪ এবং ১৯৫৫ সালে[১৮] তিনি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে শিক্ষক এবং পরামর্শক হিসাবে কাজ করার জন্য কলেজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন।[১৯]

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ম্যাজি টাইসন ১৯২৮ সালে ফেলো-অধ্যাপক অরেলিয়াস সাউথাল স্কটের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন;[১] তারা ওহাইওতে একসাথে একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প সঞ্চালনা করেছিলেন এবং ১৯৩০ এর দশকে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার আগপর্যন্ত [২০] বেথুন-কুকম্যান কলেজের অনুষদে দুজনে একসাথেই ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে শিক্ষকতার পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেন[২১] এবং [২১] ১৯৭৫ সালে ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট থমাসের একটি হাসপাতালে ক্যান্সার সমস্যা এবং হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার কারণে মারা যান।[২২]

সন্দর্ভ (থিসিস)সম্পাদনা

ম্যাজি ওয়লি টাইসন এ ফ্লোরিডা ফসফেট ল্যান্ডস্কেপ (A Florida Phosphate Landscape) বা একটি ফ্লোরিডা ফসফেট ভূদৃশ্য শিরোনামে একটি সন্দর্ভ রচনা করেছেন যা প্রকাশিত হয় ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে। এতে তাকে সহযোগিতা করেছিলেন রাইট, এ.জে.।[২৩] এছাড়াও ১৯৪৪ সালে তিনি "ভূগোলবিদদের নিকট যুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জসমূহ" (War and Post-War Challenges to Geographers) একটি প্রবন্ধ লিখেন। এরপর ১৯৪৫ সালে "শান্তির জন্য সংহতি যুদ্ধের জন্য সংহতি থেকে যা শিখতে পারে" (What Mobilization For Peace Can Learn From Mobilization For War) নামে আরো একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। দুটো প্রবন্ধেরই মূল বিষয়বস্তু ছিলো যুদ্ধ যাতে যুদ্ধের কার্যাদি, প্রভাব, প্রয়োজনীয়তা, অপ্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছিলো।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Tyson-Scott Wedding"The Evening Review। ১৯২৮-০৬-১৬। পৃষ্ঠা 5। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  2. The Enopron (Howard University yearbook, 1921): 36.
  3. Alumni, 1930-1939, Department of Geography, Ohio State University.
  4. "Tenn. State Teachers Study for High Degrees"Alabama Tribune। ১৯৪৮-১২-৩১। পৃষ্ঠা 6। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  5. Choi, Andrea. "Geography, Geographers, and the Geographies of Antiracism" (PhD thesis, Queen's University 2018): 82-83.
  6. Senior High School of Bennett College. (১৯২৬)। The Bennettite। Bennett College। পৃষ্ঠা 25 
  7. Annual Catalogue, 1930-1931 (Bethune-Cookman College 1930): 12.
  8. Monk, Janice (২০০৪-০৩-০১)। "Women, Gender, and the Histories of American Geography": 1–22। আইএসএসএন 0004-5608ডিওআই:10.1111/j.1467-8306.2004.09401001.x 
  9. "Instructor of the Month" The Meter (University of Tennessee newspaper) (May 28, 1951): 2.
  10. Bulletin 1970-1971 (Tennessee State University 1970): 19.
  11. Prunty, Merle C. (১৯৭৯)। "Geography in the South": 54। আইএসএসএন 0004-5608জেস্টোর 2569547ডিওআই:10.1111/j.1467-8306.1979.tb01229.x 
  12. "Negro Panel is Named"Tallahassee Democrat (ইংরেজি ভাষায়)। মে ২৮, ১৯৪৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  13. Tyson, M. (1944). War and post-war challenges to geographers. The Quarterly Review of Higher Education among Negroes, 12(3), 160. via ProQuest.
  14. Tyson, M. (1945). What mobilization for peace can learn from mobilization for war. The Quarterly Review of Higher Education among Negroes, 13(3), 205. via ProQuest.
  15. "AAUW Plans for Year Announced"The Tennessean। ১৯৫৯-১০-১১। পৃষ্ঠা 41। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১২ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  16. "AAUW Groups Will Meet This Month"Nashville Banner। ১৯৫৯-১১-০৪। পৃষ্ঠা 16। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  17. "Miss Tyson Rites Saturday"The Tennessean। ১৯৭৫-০৩-০৬। পৃষ্ঠা 78। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  18. "Geography Specialist on Leave"The Tennessean। ১৯৫৪-০৯-২৬। পৃষ্ঠা 26। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  19. Crooks, Mabel (১৯৫৫-০৬-১২)। "The Week at Tennessee State"The Tennessean। পৃষ্ঠা 82। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  20. The Wildcat (Bethune-Cookman College 1930): 17.
  21. "Honors Set for Retiring TSU Group"The Tennessean। ১৯৭০-০৬-০৩। পৃষ্ঠা 38। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  22. "Death notice: Mazie O. Tyson"The Pittsburgh Courier। ১৯৭৫-০৪-১২। পৃষ্ঠা 11। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০২-১৩ – Newspapers.com-এর মাধ্যমে। 
  23. "Alumni 1930-1939"Department of Geography (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৪-০৫-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-০৬