মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তি

অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (জন্ম: ১ জানুয়ারি ১৯৩৭)[২] হলেন একজন বাংলাদেশী অধ্যাপক ও গবেষক। তিনি বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক সংস্কার ও জনপ্রশাসন সংক্রান্ত বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন সরকারকে যেগুলোর কিছু কিছু পরামর্শ বিভিন্ন সময় গৃহীত হয়েছে[২] এবং জনপ্রশাসন সংক্রান্ত অনন্য অবদানের জন্য ২০১৭ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।[১]

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান
জন্ম (1937-01-01) ১ জানুয়ারি ১৯৩৭ (বয়স ৮৪)
মাদারীপুর জেলা
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পুরস্কারস্বাধীনতা পুরস্কার[১] (২০১৭)

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতিসম্পাদনা

আসাদুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি তদাননীত ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানঃ বাংলাদেশ) মাদারীপুরের কালকিনীর সাহেবরামপুরের সাহেবরামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তার পিতার নাম আব্দুর রহমান রাঢ়ি ও মাতা জোবেদা খাতুন। ছয় ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড় আসাদুজ্জামান কিশোর বয়সেই প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগম বুনুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

তিনি মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া হাইস্কুল থেকে ১৯৫২ সালে মাধ্যমিক, সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ থেকে ১৯৫৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় সন্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।[২]

কর্মজীবনসম্পাদনা

আসাদুজ্জামানের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৫৮ সালে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে প্রভাষক হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে। এরপর আনন্দমোহন কলেজ, বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুরের কারমাইকেল কলেজে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুরের সরকারি নাজিমুদ্দিন কলেজ, কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ, নরসিংদী সরকারি কলেজ ও টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দত কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) পরিচালক হিসেবে কর্মরত থেকে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি'র চেয়ারম্যান নির্বচিত হন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে দলটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।[২]

গ্রন্থসম্পাদনা

তার লেখা দুটি গ্রন্থ হল:

  • প্রশাসন কাঠামো ও সিস্টেমে রূপান্তর: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
  • ঔপনিবেশিক প্রশাসন কাঠামো: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
অনূদিত গ্রন্থ
  • কোম্পানি আমলের ঢাকা
  • বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)

পুরস্কার ও সম্মননাসম্পাদনা

তিনি জনপ্রশাসনে[৩] অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তালিকা"মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১৭ 
  2. "জনপ্রশাসন : প্রফেসর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান"জাগোনিউজ২৪.কম অনলাইন। ১৯ এপ্রিল ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ 
  3. "'স্বাধীনতা পুরস্কার' -২০১৭ প্রদান" (PDF)মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ 
  4. "স্বাধীনতা পুরস্কার: ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে মনোনীত"দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

  • রকমারী-তে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের পুস্তকাবলী।