মোবারক আহমদ খান

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

মোবারক আহমদ খান একজন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী যিনি পাটের বাণিজ্যিক ব্যবহার ও সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯০-এর দশক থেকে গবেষণা করছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ডাটাবেজ স্কোপাসের তথ্যানুসারে, বৈশ্বিকভাবে পাট বিষয়ক গবেষণায় তাঁকে প্রধান একজন বিজ্ঞানী বলে মনে করা হয়।[৩][৪] তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।[১][৫] তাঁর বিভিন্ন আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, পাট থেকে উদ্ভাবিত সোনালী ব্যাগ[৬][৭], পাটের তৈরি জুটিন নামক ঢেউটিন, পাটের তৈরি হেলমেট ও টাইল্‌স।[৫]

মোবারক আহমদ খান
জাতীয়তাবাংলাদেশি
নাগরিকত্ববাংলাদেশি
পরিচিতির কারণসোনালী ব্যাগ[১], জুটিন আবিষ্কারক
পুরস্কারবাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি স্বর্ণপদক (২০১৫)
বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন
কর্মক্ষেত্রকৃষি ও জৈব বিজ্ঞান, পরিবেশ বিজ্ঞান[২]
প্রতিষ্ঠানসমূহবাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন
ওয়েবসাইটwww.mubarakahmadkhan.com

শিক্ষা ও কর্মজীবন সম্পাদনা

মোবারক আহমদ খান শিক্ষাজীবনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতোকত্তর ডিগ্রী নেওয়ার পর পলিমার এবং তেজস্ক্রিয় রসায়নে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রধান বৈজ্ঞানীক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।[১][৮]

আবিষ্কার সম্পাদনা

মোবারক আহমদ খান ২০০৯ সালে পাটের তেরি ঢেউটিন উদ্ভাবন করেন যা জুটিন নামে পরিচিত।[৫] জুটিন তৈরিতে তিনি পাটের সঙ্গে ব্যবহার করেনে পলিমারের মিশ্রণ। ২০১৬ সালে তিনি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ফরমালিনের বিকল্প হিসেবে অ-ক্ষতিকারক চিতোজান তৈরি করেন। সম্প্রতি তিনি পাট থেকে পরিবেশবান্ধব সোনালী ব্যাগ তৈরি করেছেন। এছাড়াও তিনি পাট দিয়ে অসংখ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস উদ্ভাবন করেছেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা সম্পাদনা

পাট বিষয়ক গবেষণায় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরুপ বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি মোবারক আহমদকে ২০১৫ সালে স্বর্ণপদক প্রদান করে।[৫] এছাড়া তিনি ২০১৬ সালে জাতীয় পাট পুরস্কার ও ২০১৭ সালে ফেডারেশন অব এশিয়ান কেমিক্যাল সোসাইটি পুরস্কারে ভূষিত হন।[৩] বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তার কাজের উপর নথিপত্র প্রকাশ করে। ১৯৯৮ সালে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্যসূত্রের প্রকাশনা ‘হুজ হুতে’ তার নাম প্রকাশ করা হয়।[৩]

তথ্যসূত্র সম্পাদনা