মুরাদ বে মুহাম্মদ (আনু. ১৭৫০ - ২২ এপ্রিল ১৮০১) ছিলেন মিশরীয় মামলুক সর্দার (বে), অশ্বারোহী সেনাপতি এবং ইব্রাহিম বেয়ের সাথে মিশরের যুগ্ম শাসক।[১] তাকে একজন সাহসী শক্তিশালী যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি কখনো কখনো নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী শাসক হিসাবে স্মরণ করা হয়।[১]

মুরাদ বে
مراد بك
জন্ম১৭৫০
মৃত্যু২২ এপ্রিল ১৮০১(1801-04-22) (বয়স ৫০–৫১)
মৃত্যুর কারণবিউবনিক প্লেগ
জাতীয়তাউসমানীয় সাম্রাজ্য উসমানীয়
মেয়াদ১৭৮৪-১৭৮৫
পূর্বসূরীমুহাম্মদ পাশা সিলাহদার
উত্তরসূরীইব্রাহিম বে

উদ্ভব সম্পাদনা

 
১৮০৯ সালের দিস্ক্রিপশনে দে ল'ইজিপ্টে বইয়ে দুতেরত্রের অঙ্কিত মুরাদ বে।

যদিও অনেক জর্জীয় ঐতিহাসিক দাবি করেছেন যে, মুরাদ জর্জীয় বংশোদ্ভূত এবং তিবিলিসিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[২][৩] তবে অনেকে বিশ্বাস করেন যে, তিনি একজন সার্কাসীয় ছিলেন।[৪] ১৭৬৮ সালে তিনি মিশরে (সার্কাসীয়) মামলুক মুহাম্মদ বে আবুদ দাহাবের কাছে বিক্রি হন।

ক্যারিয়ার সম্পাদনা

তার মালিক মুহাম্মদ বে আবুদ দাহাবের মৃত্যুর পরে মুরাদ বে মামলুক বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন, তখন ইব্রাহিম বে মিশরের প্রশাসনিক দায়িত্বের দায়িত্বে ছিলেন।[৫] তারা মামলুক শাসন ও নাগরিক কলহকে উৎখাত করার অবিরাম চেষ্টার মধ্যেই সময় পার করেছিলেন।[২] তারা যদিও মিশরের কায়ামাকাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, কিন্তু কয়েক দশক ধরে মিশরে তাদের ক্ষমতাই কার্যকর ছিল, এমনকি মিশরের গভর্নর বা ওয়ালীদের চেয়েও বেশি ছিল।[৬][৭][৮]

১৭৬৮ সালে উসমানীয় সুলতান আবদুল হামিদ প্রথম ইব্রাহিম ও মুরাদ বেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাপুদান পাশা (উসমানীয় নৌবাহিনীর গ্র্যান্ড অ্যাডমিরাল) সেজায়িরলি গাজী হাসান পাশাকে প্রেরণ করেছিলেন।[৯] হাসান পাশা তার প্রচেষ্টায় দৃঢ় ও নিখুঁত ছিলেন এবং স্বল্পমেয়াদে সফল হন এবং মিশরে সরাসরি উসমানীয় সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ইসমাইল বে নতুন মামলুক নেতা এবং শায়খুল বালাদ (সিভিল গভর্নর এবং দে ফাক্তো শাসক) নিযুক্ত হন। তবে হাসান পাশার দ্বারা তাদের বহিষ্কারের মাত্র পাঁচ বছর পরে ১৭৯১ সালে, এই ডুমাভিয়েট দক্ষিণের মিশরে আত্মগোপন করে কায়রোতে ফিরে আসেন এবং দে ফাক্তো নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেন।[১০] এই সময়ে মুরাদ বে আমিরুল হজ্জ (হজ্জের নেতৃত্বদানকারী) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

পরবর্তী জীবন সম্পাদনা

তিনি ১৭৯৮ সালের ১৩ জুলাইয়ে শুবরাখিতের যুদ্ধে মামলুক অশ্বারোহী এবং জেনিসারি পদাতিকদের কমান্ড দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ফরাসী সেনাদলের কাছে পরাজিত হয়ে যুদ্ধ থেকে সরে আসেন। এর আট দিন পরে ২১ জুলাই, তিনি পিরামিডের যুদ্ধের সময় ইব্রাহিম বের সাথে মামলুক অশ্বারোহীদের কমান্ড করেছিলেন এবং নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর হাতে পরাজিত হন। ইব্রাহিম বে সিনাইয়ের দিকে পালিয়ে যান আর মুরাদ প্রথমে কায়রো এবং তারপরে উচ্চ মিশরে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং একটি সংক্ষিপ্ত গেরিলা অভিযান শুরু করেছিলেন, যেটি এক বছরের জন্য দেসাইক্সকে থামিয়ে রেখেছিল।[৫] উচ্চ মিশরে মুরাদ বেকে অনুসরণ করার সময়ই ফরাসিরা ডেনডেরা, থিবেস, এডফু এবং ফিলার স্মৃতিস্তম্ভগুলি আবিষ্কার করে।

মৃত্যু ও পরবর্তী সম্পাদনা

মিশর ছেড়ে যাওয়ার জন্য ফরাসি বাহিনীকে মুরাদ অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং ব্রিটিশদের সাথে আলেকজান্দ্রিয়া, দমইয়াত এবং রোসেটা দখল করতে দেওয়ার পরিবর্তে ব্রিটিশদের সাথে মিত্র হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।[১] ১৮০০ সালে মুরাদ জিন ব্যাপটিস্ট ক্লাবারের সাথে সন্ধিও করেছিলেন এবং গ্যারিসন নিয়ে কায়রোতে যেতে রাজি হন, তবে সেখানে যাত্রায় বিউবনিক প্লেগের কারণে তিনি মারা যান।[২]

আরো দেখুন সম্পাদনা

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. Goldschmidt, Arthur (২০০০)। Biographical dictionary of modern Egypt। Rienner। পৃষ্ঠা 138আইএসবিএন 9781555872298 
  2. Mikaberidze, Alexander, "Murad Bey", in: Gregory Fremont-Barnes (ed., 2006), The Encyclopedia of the French Revolutionary and Napoleonic Wars, Vol. 2, p. 663. ABC-CLIO, Inc.
  3. The Life of J. D. Åkerblad: Egyptian Decipherment and Orientalism, By Fredrik Thomasson, p.80, Hotei Publishing, Netherlands
  4. J. Christopher Herold: Bonaparte in Egypt, pages 70 and 252. New York 1962/2009
  5. Pawly, Ronald (২০১২)। Napoleon's Mamelukes। Osprey Publishing। পৃষ্ঠা 5–6। আইএসবিএন 9781780964195 [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. 'Abd al-Rahman Jabarti; Thomas Philipp (১৯৯৪)। Abd Al-Rahmann Al-Jabarti's History of Egypt। Franz Steiner Verlag Stuttgart। পৃষ্ঠা 93। 
  7. 'Abd al-Rahman Jabarti; Thomas Philipp (১৯৯৪)। Abd Al-Rahmann Al-Jabarti's History of Egypt। Franz Steiner Verlag Stuttgart। পৃষ্ঠা 138। 
  8. 'Abd al-Rahman Jabarti; Thomas Philipp (১৯৯৪)। Abd Al-Rahmann Al-Jabarti's History of Egypt। Franz Steiner Verlag Stuttgart। পৃষ্ঠা 156। 
  9. 'Abd al-Rahman Jabarti; Thomas Philipp (১৯৯৪)। Abd Al-Rahmann Al-Jabarti's History of Egypt। Franz Steiner Verlag Stuttgart। পৃষ্ঠা 181। 
  10. 'Abd al-Rahman Jabarti; Thomas Philipp (১৯৯৪)। Abd Al-Rahmann Al-Jabarti's History of Egypt। Franz Steiner Verlag Stuttgart। পৃষ্ঠা 317–322, 373।