মীরা মুখোপাধ্যায়

মীরা মুখোপাধ্যায় (১৯২৩-১৯৯৮) একজন ভারতীয় বাঙালি ভাস্কর শিল্পী[১] এবং লেখক। তিনি প্রাচীন বাংলা ভাস্কর্য শিল্পে আধুনিকতা আনার জন্য পরিচিত।[২] ছত্তিশগড়ের বস্তার ভাস্কর্যের ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় উদ্ভাবনী ব্রোঞ্জ কাস্টিং কৌশল ব্যবহার করার প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি লৌহ-মোম কাস্টিং দ্বারা ডোকরা পদ্ধতির উন্নতি ঘটান।[২] শিল্পকর্মে তার অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে ভারত সরকারের থেকে তিনি  চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী পদক লাভ করেন।[৩]

মীরা মুখোপাধ্যায়
জন্ম১৯২৩
মৃত্যু১৯৯৮
যেখানের শিক্ষার্থীগভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট এন্ড ক্র্যাফট, দিল্লী পলিটেকনিক (এখন দিল্লি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
পেশাভাস্কর্য শিল্পী
পিতা-মাতাদ্বিজেন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়
বীণাপানি দেবী
পুরস্কারপদ্মশ্রী
প্রেস পুরস্কার
কলকাতা লেডিস’ স্টাডি গ্রুপ অ্যাওয়ার্ড
অবনীন্দ্র পুরস্কার

জীবনীসম্পাদনা

১৯২৩ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী মীরা মুখোপাধ্যায়, ১৯৪১ সালে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ওরিয়েন্টাল আর্ট" প্রতিষ্ঠানে শিল্পকলা বিষয়ে তার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।[৪] তার বিবাহিত জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত এবং মীয়া মুখোপাধ্যায় বিবাহ বিচ্ছেদের পর, কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট এন্ড ক্র্যাফট এবং দিল্লির দিল্লি পলিটেকনিক'য়ে (বর্তমানে দিল্লি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)[৫] যোগদান করে তার শিল্প অধ্যয়ন শুরু করেন এবং চিত্রকলার, গ্রাফিক্স ও ভাস্কর্য বিষয়ে  ডিপ্লোমা অর্জন করেন।[৬] পরে তিনি শান্তিনিকেতনে ইফেন্ডি নামে একজন ইন্দোনেশিয়ার শিল্পীকে সহায়তা করেন। যেহেতু তিনি ১৯৫৩ সালে মিউনিখে গবেষণার জন্য বৃত্তি পেয়েছিলেন, যার ফলে টনি স্ট্যাডলার ও হেনরিচ কারচনারের অধীনে কাজ করার জন্য তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। টনি স্তাডলার এমন একজন ভাস্কর শিল্পী যে মীরা মুখোপাধ্যায়'কে চিত্রশিল্পী থেকে ভাস্কর শিল্পীতে রূপান্তরের সমর্থন দেন।[৭] তিনি ১৯৫৭ সালে ভারতবর্ষে ফিরে এসে কার্শিয়ংয়ের ডোহিল স্কুল'য়ে একজন আর্ট শিক্ষিকা বা চিত্রশিল্পী হিসেবে চাকরি গ্রহণ করেন, যেখানে তিনি ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন। তিনি এক বছরের জন্য কলকাতায় প্রাট মেমোরিয়াল স্কুল'য়ে ছিলেন।[৪]

মীয়া মুখোপাধ্যায় ১৯৬০ সালে প্রাট মেমোরিয়াল স্কুল থেকে তার নিয়মিত চাকরির পদত্যাগ করেন এবং ছত্তিশগড়ের বাস্তর উপজাতীয় কারিগরদের অধীনে ডোকরা কাস্টিং কৌশল প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন।[৮] ১৯৬২ সালে ভারতের অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে থেকে একটি সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ লাভ করে, তিনি ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ভারত ও নেপালের বেল্ট আর্টেল পণ্য নিয়ে গবেষণা করেন।[৪] এই সময়ে, তিনি ভারত ও বিদেশে বিভিন্ন স্থানে তার কাজকর্ম প্রদর্শন করতে শুরু করেন।[৯] মাত্র এক বছরে কয়েকটি শিল্পকর্ম তৈরি করতে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন। এই সময়ে তার বিখ্যাত কাজগুলি হল অশোক ইন কালিঙ্গা, আর্থ ক্যারিয়ার, স্মিথস ওয়ার্কিং আন্ডার আ ট্রি, মাদার এন্ড চাইল্ড, সৃষ্টি, দি রুমুর এন্ড পোর্ট্রেট অফ নির্মল সেনগুপ্ত (কালিঙ্গার অশোক, আর্থ ক্যারিয়ার, স্মিথস একটি বৃক্ষ, মাতা ও শিশু, শ্রুতি, গুজরাট এবং নির্মল সেনগুপ্তের)।[১] তার সৃষ্টিকে "সম্রাট অশোক" নয়া দিল্লির আইটিসি মৌর্য-এর নন্দীয়া গার্ডেনে প্রদর্শশীত হয়েছে।[৫] তার কাজগুলি অনেক আন্তর্জাতিক নিলামে প্রদর্শিত হয়েছে যেমন ক্রিস্টি এন্ড ইনভ্যালুয়েবল।[১০] একই সাথে তিনি শিশুদের গল্প লেখক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং কয়েকটি বই যেমন লিটল ফ্লাওয়ার শেফালী ও অন্যান্য গল্প প্রকাশ করেন।[১১] তার উল্লেখযোগ্য কিছু বই হচ্ছে কালো এন্ড দি কোয়েল[১২] এন্ড ক্যাটাচিং ফিশ এন্ড আদার স্টোরিজ।[১৩] তিনি ১৯৭৮ সালে মেটাল ক্র্যাফট ইন ইন্ডিয়া নামে একটি প্রকরণগ্রন্থ প্রকাশ করেন এবং  ভারতের ঐতিহ্যবাহী ধাতব নৈপুণ্যের দুটি বই যথা: ১৯৭৯ সালে মেটাল কার্ফটম্যান ইন ইন্ডিয়া [১৪] এবং ১৯৯৪ সালে ইন সার্চ ওফ বিশ্বকর্মা প্রকাশ করেন। [১৫]

মীরা মুখোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে মারা যান, ৭৫ বছর বয়সে।

পুরস্কার ও সম্মাননাসম্পাদনা

মীরা মুখোপাধ্যায় ১৯৬৮ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে মাস্টার কারিগর হিসাবে প্রেস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। তিনি ভারত সরকারের একজন এমারিতাস ফেলো। তিনি ১৯৭৬ সালে এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন কলকাতা লেডিস’ স্টাডি গ্রুপ থেকে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে ১৯৮১ সালে অবনীন্দ পুরস্কার লাভ করেন। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে ফেলোশিপ অর্জন করেন ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে। ভারত সরকার ১৯৯২ সালে তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রদান করা।

গ্রন্থপঞ্জীসম্পাদনা

  • মীরা মুখোপাধ্যায় (১৯৯৮)। লিটল ফ্লাওয়ার শেফালি এন্ড আদার স্টোরিজ। সিগুল্ল বুকস। পৃষ্ঠা ৫২। আইএসবিএন 978-8170461791 
  • মীরা মুখোপাধ্যায় (১৯৯৮)। কালো এন্ড দি কোয়েল। সিগুল্ল বুকস। পৃষ্ঠা ৩২। আইএসবিএন 978-8170461548 
  • মীরা মুখোপাধ্যায় (২০০০)। লিটল ফ্লাওয়ার শেফালি এন্ড আদার স্টোরিজ। সিগুল্ল বুকস। পৃষ্ঠা ৫১। আইএসবিএন 978-8170461807 
  • মীরা মুখোপাধ্যায় (১৯৭৮)। মেটাল ক্রাফ্টসমেন ইন ইন্ডিয়া। এনথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। পৃষ্ঠা ৪৬১। 
  • মীরা মুখোপাধ্যায় (১৯৭৯)। মেটাল ক্র্যাফট ইন ইন্ডিয়া। এনথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। পৃষ্ঠা ৪৬১। 
  • মীরা মুখোপাধ্যায় (১৯৯৪)। ইন সার্চ ওফ বিশ্বকর্মা। পৃষ্ঠা ১২০। 

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Blouinartinfo profile"। Blouinartinfo। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  2. "Christie's the Art People profile"। Christie's the Art People। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  3. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। নভেম্বর ১৫, ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২১, ২০১৫ 
  4. "MEERA MUKHERJEE (1923–1998)"। Stree Shakti। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  5. "Meera Mukherjee's sculpture at Nandiya Garden"। Welcome Zest Lounge। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  6. "Meera Mukherjee"। Contemporary Indian Art। ২০১৫। ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  7. "Shapes of a legacy"। The Hindu। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  8. "Meera Mukherjee (1923 – 1998)"। Akar Prakar। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  9. "Meera Mukherjee – A Life's Work"। Welcome Zest Lounge। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  10. "Invaluable profile"। Invaluable। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫ 
  11. Meera Mukherjee (১৯৯৮)। Kalo and the Koel। Seagull Books। পৃষ্ঠা 32। আইএসবিএন 978-8170461548 
  12. Meera Mukherjee (১৯৭৮)। Metal Craftsmen in India (PDF)। Anthropological Survey of India। পৃষ্ঠা 461। ২০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০১৮ 
  13. Meera Mukherjee (১৯৯৪)। In Search of Viswakarma। পৃষ্ঠা 120। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

  • "Sculpture gallery"Web mages। Blouinart Info। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৩, ২০১৫