মখদুম শাহদৌলা শহীদ ছিলেন দ্বাদশ শতকের শেষের দিকে একজন আউলিয়া-দরবেশ।[১] বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে পুরানো শাহী মসজিদের পাশের কবরস্থানে তিনি শায়িত আছেন।

মখদুম শাহ সাহাবী মুয়াজ বিন জাবালের বংশধর এবং ইয়েমেনের তৎকালীন রাজার দ্বিতীয় পুুুত্র ছিলেন।

হযরত মখদুম শাহ দৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহঃ) এর মাজার শরীফ
Tomb of Shah Shams Tabrez & Makhdum Shah Doula
হযরত শাহ শামসুদ্দিন তাব্রিজ (রহঃ) এবং হযরত মখদুম শাহ দৌলা শহীদ ইয়ামেনী (রহঃ) এর মাজার শরীফ

তিনি ১১৯২-৯৬ সালের মধ্যে ইয়েমেন থেকে ধর্মপ্রচারার্থে যাত্রা শুরু করে বোখারা শহরে আগমন করেন। বোখারা শহরে হযরত জালাল উদ্দিন বোখারী এর দরবার শরীফে কিছু সময় অতিবাহিত করে তিনি বাংলার পথে যাত্রা শুরু করে বাংলার শাহজাদপুর অঞ্চলে আসেন।

তিনি বাংলায় প্রবেশ করে ইসলাম প্রচার শুরু করলে তৎকালীন সুবা বিহারের অমুসলিম অধিপতি "রাজা বিক্রম কেশরী" হযরত মখদুম শাহদৌলার আগমনে রাগান্বিত হয়ে তার সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু সৈন্যবাহিনী পরাজিত হয়ে ফিরে যায়। রাজা বিক্রম কেশরী বেশ কয়েকবার সৈন্য প্রেরণ করে পরাজিত হয়, ইতোমধ্যে হযরত মখদুম শাহদৌলা শাহজাদপুরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন।

তার আধ্যাত্মিক শক্তি দ্বারা এই অঞ্চলকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করেন। শেষ যুদ্ধে হযরত মখদুম শাহদৌলা এবং তার বহু সঙ্গী ও অনুসারী যোদ্ধা শহীদ হন, এই ধর্ম যুদ্ধে তার শহীদ হবার কারণে তিনি হযরত মখদুম শাহদৌলা শহীদ ইয়ামেনী নামে পরিচিত লাভ করেন। তার পীর মুর্শিদ হলেন ওস্তাদ শাহ শামসুদ্দিন তাবরেজি [যিনি বিখ্যাত মসনবী শরীফের লেখক জালালুদ্দিন রুমিরও পীর মুর্শিদ ছিলেন] তার মাজার শরীফ মখদুম শাহের মাজারের একই আঙ্গিনাতেই অবস্থিত।

মখদুম শাহের মৃত্যুর পর তার অনুচররা ইসলাম প্রচার অব্যাহত রাখেন। উত্তরসূরী ইউসুফ শাহ ,শাহ হাবিবুল্লাহ ,শাহ বদর এর প্রচেষ্টায় দিন দিন ইসলাম ব্যাপকভাবে বিস্তার করে।

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ইসমাইল, এম (১৯৮৯)। Development of Sufism in Bengal (Doctoral dissertation) [বাংলায় সুফিবাদের বিকাশ (গবেষণা প্রবন্ধ)] (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। আলিগড়, ভারত: আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা