হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ও মহাকাব্য মহাভারত অনুযায়ী ভীষ্মক (দেবনাগরী:भीष्मक) ছিলেন বিদর্ভের রাজা এবং কৃষ্ণের প্রথমা পত্নী রুক্মিণীর পিতা৷ [১]

কৃষ্ণ এবং বিদর্ভরাজ ভীষ্মকের সাক্ষাৎ

ভীষ্মকের পুত্র রুক্মী ছিলেন রুক্মিণীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা৷ [২] তাঁর অন্য চার পুত্র হলেন রুক্মরথ, রুক্মবাহু, রুক্মকেশ ও রুক্মমালী৷

পূর্বজন্ম সম্পাদনা

একদা একজন শিব ঠাকুরের ভক্ত ও মন্দিরের পূজারী বাস করতেন৷ তিনি প্রত্যেকদিন নিয়ম করে শিবের পদ পূজা করতেন৷ নিজের নিত্যপূজা শেষ করে মন্দির পরিষ্কার করে ও মূলফটক বন্ধ করে শিবের কাছে নিবেদিত ভোগপ্রসাদ নিয়ে সেই পূজারী প্রত্যেকদিন মন্দিরের বাইরে থাকা অপেক্ষারত কুকুরটিকে সেই প্রসাদ খাওয়াতেন৷ কুকুর যেহেতু আনুগত্যের প্রতীক তাই কুকুরটি পূজারির দেওয়া প্রসাদ খেয়ে তিনি ঘরে পৌঁছানো পর্যন্ত তার সঙ্গ দিতো৷ বহুদিন এরকম চলার পর কুকুরটির প্রতি পূজারীর বিশেষ স্নেহ জন্মায়৷

এক অমাবস্যার রাতে পূজারীটির মন্দিরের কাজে দেরি হয় এবং কাজ করে তিনি দ্রুত গতিতেই প্রসাদ নিয়ে মন্দির থেকে বেরিয়ে যান৷ এমতাবস্থায় ভুলবশত পূজারির পা কুকুরের গায়ে আঘাত করে৷ কুকুরে প্রতিবর্ত্মক্রিয়ার দরুন অমাবস্যার অন্ধকারে কোনোকিছু বোঝায় আগেই কুকুরটি পুরোহিতকে আঘাত করে বসে৷ পরে কৃতকার্যের কথা উপলব্ধি করে কুকুরটি লজ্জিত হয় এবং স্বেচ্ছায় দীর্ঘ দিন না খেয়ে মন্দির সমূখেই প্রাণত্যাগ করে৷ বেশ কিছু বছর পর কুকুরটির স্মৃতিতে পূজারীও মারা যান৷ পরের জন্মে এই পূজারীই শিবভক্তি ও শ্রদ্ধার কারণে বিদর্ভ রাজ্যের রাজা ভীষ্মক রূপে জন্মলাভ করেন৷ [৩]

রুক্মিণীর শিবপাদপূজা সম্পাদনা

রাজা ভীষ্মকের পাঁচ পুত্র ও এককন্যা ছিলো, তার মধ্যে রুক্মী ছিলো জ্যেষ্ঠপুত্র৷ [৪] সূর্যদেব বিবস্বান পূর্বজন্মের কথা মাথায় রেখে রাজা ভীষ্মকের সাথে সাক্ষাৎ করতে এক ঋষির রূপ ধরে মর্তে অবতরণ করেন৷ রাজা ভীষ্মকও পূর্বজন্মের মতোই ঋষিকে দেখে বেশ আপ্লুত হন এবং সাদরে ঋষিকে স্বাগত জানান৷ রাজপ্রাসাদে নিয়ে গেলে রাজকন্যা রুক্মিণী ঋষির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করলে ঋষি তাঁকে শিবের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য শিবপাদপূজা করার পরামর্শ দেন৷ রুক্মিণী ঋষির কথা মতো শিবের জন্য মালা গেঁথে গন্ধচন্দন সহযোগে শিবের নিত্যপূজা শুরু করেন৷ পূজায় তুষ্ট হয়ে শিব তাঁকে বিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃৃষ্ণের সাথে বিবাহ হওয়ার বর দেন৷ রাজা ভীষ্মক এই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও রুক্মী বাঁধ সাধেন, কারণ রাজনৈতিক কারণে তিনি রুক্মিণীর বিবাহ দিতে চান চেদীরাজ শিশুপালের সাথে৷ [৫] এখনো শিবের আশীর্বাদধন্য হতে বহু নারী শিব মন্দিরে শিবপাদপূজা করে থাকেন৷

তথ্যসূত্র সম্পাদনা