ব্রেরেটন রিপোর্ট

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স আফগানিস্তান ইনকুইরি রিপোর্ট, যা সাধারণত ব্রেরেটন রিপোর্ট (তদন্ত প্রধানের নামে) নামে পরিচিত, হলো ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনী (এডিএফ) কর্তৃক সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের প্রতিবেদন। [১] তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন পল ব্রেরেটন, যিনি উভয় নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্টের বিচারক এবং সেনা রিজার্ভের একজন মেজর জেনারেল ছিলেন। [২] স্বাধীন কমিশন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স দ্বারা তদন্ত ২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর ৬ নভেম্বর ২০২০ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়। ১৯ নভেম্বর ২০২০ প্রকাশ্যে তা প্রকাশিত হয়। [৩]

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স আফগানিস্তান ইনকুইরি রিপোর্ট
ব্রেরেটন রিপোর্ট কভার.jpg
স্থানআফগানিস্তান
তারিখ২০০৫ (2005)–২০১৬ (2016)
নিহত৩৯+
হামলাকারী দল২৫ জন অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য

প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা (অথবা নির্দেশে) ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক ও বন্দীদের হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, যা এডিএফ কর্মীদের দ্বারা সংগঠিত করা হয়েছিল।.[৪][৫][৬] প্রতিবেদনে বলা হয়, এডিএফের ২৫ জন কর্মী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, যারা এই ঘটনার জন্য "আনুষঙ্গিক" ছিল। জড়িতদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও এডিএফ -এর সাথে কাজ করছেন। [৭] প্রতিবেদনে আলোচিত আইনবিরোধী হত্যাকাণ্ড ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল, যার বেশিরভাগ ২০১২ এবং ২০১৩ সালে ঘটেছিল। [৮]

রিপোর্টসম্পাদনা

প্রতিবেদনটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশটিতে এই অনুসন্ধানের পটভূমি এবং প্রসঙ্গ বর্ণনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে প্রতিবেদনের মূল অংশ রয়েছে, যেখানে ৫৭ টি ঘটনা এবং নোটের বিষয়গুলি বিশদভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রত্যেকটি ঘটনার ক্ষেত্রে মন্তব্য এবং সুপারিশ করা হয়েছে। তৃতীয় অংশে যেসব আনুসাঙ্গিক পরিবেশের প্রভাব এখানে থাকতে পারে বলে মনে হয়, সেসব পদ্ধতিগত বিষয়গুলি রিপোর্টে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পুরো দ্বিতীয় অংশটি পুনঃসম্পাদন করা হয়েছে, আর ব্রেরেটন সুপারিশ করেছেন যে "কমপক্ষে [ফৌজদারি] কার্যক্রম চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে প্রকাশ করা উচিত নয়"। [৯][১০]

প্রাপ্ততথ্যসম্পাদনা

থ্রোডাইউন্সসম্পাদনা

প্রতিবেদনে "থ্রোডাউন্স" অভ্যাসের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যরা যুদ্ধে নিহত বেসামরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে এডিএফ কর্তৃত অনুমতিহীন অস্ত্র ও সরঞ্জাম বহনের প্রমাণ প্রায় তারা। [৯][১১]

ব্লাডিংসম্পাদনা

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, জুনিয়র সৈন্যদের প্রায়ই তাদের উর্ধ্বতনদের নির্দেশে বন্দীদের হত্যা করে 'প্রথম হত্যা' পালন করতো, যা "ব্লাডিং" নামে পরিচিত। ব্রেরেটন এসব কর্মকান্ডকে এভাবে বর্ণনা দিয়েছেন: "সাধারণত, টহল কমান্ডার একজন বন্দিকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং একজন জুনিয়র সদস্যকে [...] তারপর বন্দি ব্যক্তিকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়"। নিরস্ত্র যুদ্ধবন্দীদের হত্যা একটি যুদ্ধাপরাধ[১২]

প্রতিক্রিয়াসম্পাদনা

প্রতিবেদনটি প্রকাশের ফলে তা জাতীয়, আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম, ভুক্তভোগী এবং মানবাধীকার কর্মীদের প্রতিক্রিয়ার সম্মুখিন হয়। [১৩][১৪]

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াসম্পাদনা

 
শিল্পী উহে কিলিন এর কম্পিউটার গ্রাফিক্স কাজ [২], যা 'শান্তি বাহিনী' (和平之师 ) শিরোনামে 'ঝাও লিজিয়ান' টুইটারে শেয়ার করেন॥
 
টু মরিসন (致莫里森) শিরোনাম, শিল্পী উহে কিলিনের প্রতিক্রিয়া চিত্র॥

আফগানিস্তানের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সংস্থার পরিচালক হাদি মারিফাত বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত উরুজগান প্রদেশের প্রায় সাতজন ভুক্তভুগি পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং তার মতে, "উরুজগানে অস্ট্রেলিয়ান সৈন্য কর্তৃক যেসব ঘটনা ঘটেছে, তদন্তের অংশ হিসাবে ভুক্তভোগীদের অংশগ্রহণ ছাড়া এই তদন্ত অসম্পূর্ণ থাকবে ... ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবার প্রাথমিক তথ্য এবং প্রমাণ প্রদান করবে, যা এখন পর্যন্তও অস্ট্রেলিয়ান মহাপরিদর্শক বিবেচনাতে আনে নি"। তিনি বলেন, "আফগানিস্তানে হোক বা বিদেশে হোক, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারগুলিকে তদন্তে বা যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পরামর্শ দেন তিনি বলেন"। তিনি আরো বলেন, ভুক্তভুগিদের কঠোর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার দিতে হবে"। [১]

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র, ঝাও লিজিয়ান, যিনি টুইটারে সবসময় সবর থাকেন, উহু কিলিনের (乌合麒麟) একটি কম্পিউটার গ্রাফিক্স রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট টুইটারে শেয়ার দেন। যেখানে দেখা যায়, একজন অস্ট্রেলিয়ান সৈন্য একটি শিশুর গলায় রক্তমাখা ছুরি ধরে আছে, ছবিতে অস্ট্রেলিয়ান পতাকার উপরে তা দেখানো হয়েছে। এই ছবির ইংরেজি ক্যাপশন ছিল: "ভয় পেয়ো না, আমরা তোমাকে শান্তি দিতে আসছি!" অস্ট্রেলিয়ান সরকার এবং বিভিন্ন দলের সাংসদ ঝাও -এর এই টুইটকে "নিন্দনীয়", "গভীর আপত্তিকর" এবং "সম্পূর্ণরূপে আপত্তিকর" বলে নিন্দা জানায় তারা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন চীনা সরকারের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন,[৩][৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Shams, Housnia (২০২০-১১-২৭)। "'Much more' than 39 alleged unlawful SAS killings in Afghanistan, victims' families say"ABC News। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-২৮ 
  2. "Chinese artist behind doctored image of Australian soldier says he's ready to make more"www.abc.net.au (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-১২-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১২-০৩Mr Fu created the controversial computer graphic on the evening of November 22 
  3. Hurst, Daniel; Davidson, Helen (৩০ নভেম্বর ২০২০)। "Australian MPs unite to condemn 'grossly insulting' Chinese government tweet"The Guardian। ১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০২০ 
  4. "Australian PM demands apology from China over 'repugnant' doctored image"The New Zealand Herald। ৩০ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২০ 
  5. "Paul Brereton inquiry uncovers list of alleged Australian war crimes in Afghanistan"7NEWS.com.au (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-১১-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-২৩ 
  6. Knaus, Christopher (২০২০-১১-১৯)। "Australian special forces involved in murder of 39 Afghan civilians, war crimes report alleges"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-১৯ 
  7. Hitch, Georgia (২০২০-১১-১৯)। "What war crimes did Australian soldiers commit in Afghanistan and will anyone go to jail?"ABC News। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-১৯ 
  8. "Afghanistan Inquiry: Australian war crimes 'made me physically ill', says Defence Minister Linda Reynolds"Perth Now। ২০২০-১১-২০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-২১ 
  9. Inspector-General of the Australian Defence Force Afghanistan Inquiry Report (পিডিএফ)। Australia: Department of Defence। ২০২০। 
  10. "Afghanistan war crimes inquiry includes 'possibly the most disgraceful episode in Australia's military history', but it's completely redacted"ABC News। ২০২০-১১-২১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-২১ 
  11. McCulloch, Daniel (২০২০-১১-১৯)। "Shocking Australian crimes in Afghanistan"The Canberra Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-১৯ 
  12. Letts, David। "Allegations of murder and 'blooding' in Brereton report now face many obstacles to prosecution"The Conversation (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-১৯ 
  13. "Australia finds evidence of war crimes in Afghanistan inquiry"www.aljazeera.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-১৯ 
  14. "Australian 'war crimes': Elite troops killed Afghan civilians, report finds"BBC News (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-১১-১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-১৯