বৈশ্বিক উত্তর ও বৈশ্বিক দক্ষিণ

আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে দেশ গোষ্ঠী
(বৈশ্বিক দক্ষিণ থেকে পুনর্নির্দেশিত)

বৈশ্বিক উত্তর (ইংরেজি: Global North) ও বৈশ্বিক দক্ষিণ (ইংরেজি: Global South) হচ্ছে আর্থসামাজিকরাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে দুই দেশ গোষ্ঠীদের বোঝায়। জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (UNCTAD) অনুযায়ী "বৈশ্বিক দক্ষিণ" মূলত আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকাক্যারিবীয় অঞ্চল, এশিয়া (ইসরায়েল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ব্যতীত) এবং ওশেনিয়ার (অস্ট্রেলিয়ানিউজিল্যান্ড ব্যতীত) দেশ নিয়ে গঠিত।[১][২] বৈশ্বিক দক্ষিণের বেশিরভাগ দেশ সাধারণত জীবনযাত্রার মানের অভাব দ্বারা চিহ্নিত, যার মধ্যে নিম্ন আয়, উচ্চ দারিদ্র্য, উচ্চ জনঘনত্ব, সীমিত শিক্ষাগত সুযোগ, নিম্নমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইত্যাদি অন্তর্গত।[ক] বৈশ্বিক দক্ষিণের শহরগুলোর পরিকাঠামো নিম্নমানের।[খ] বৈশ্বিক দক্ষিণ বিশ্বের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজনের একাংশকে বোঝাচ্ছে এবং এর অন্য অংশ হচ্ছে "বৈশ্বিক উত্তর", যা উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, ইসরায়েল, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিয়ে গঠিত।[১][২][গ] সুতরাং, "বৈশ্বিক উত্তর" ও "বৈশ্বিক দক্ষিণ" শব্দের মাধ্যমে উত্তরদক্ষিণের মতো কার্ডিনাল অভিমুখ বোঝায় না এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের অনেক দেশ ভৌগোলিকভাবে উত্তর গোলার্ধের অন্তর্গত।[৩]

UNCTAD-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী বিশ্ব অর্থনীতির শ্রেণিবিভাগ। হাল্কা নীল রঙের দেশগুলো হচ্ছে "বৈশ্বিক উত্তর" এবং লাল রঙের দেশগুলো হচ্ছে "বৈশ্বিক দক্ষিণ"।[১][২]

উন্নত দেশগুলো বৈশ্বিক উত্তরের দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশ হিসাবে বিবেচিত।[২][৪] সরকারি ও উন্নয়ন সংগঠন দ্বারা ব্যবহৃত এই "বৈশ্বিক দক্ষিণ" শব্দটি "তৃতীয় বিশ্ব" শব্দের আরও উন্মুক্ত ও মানহীন বিকল্প হিসাবে চালু হয়েছিল।[৫] বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশদের সদ্য শিল্পায়িত কিংবা শিল্পায়নের প্রক্রিয়ায় আছে বলে বর্ণনা করা হয়, এবং এরা অনেকসময় উপনিবেশবাদের বর্তমান বা প্রাক্তন শিকার।[৬]

বৈশ্বিক উত্তর সাধারণত পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত,[৭] অন্যদিকে বৈশ্বিক দক্ষিণ সাধারণত উন্নয়নশীল দেশ ও প্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দুই দেশ গোষ্ঠীদের অনেকসময় তাদের ভিন্নমানের সম্পদ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আয়ের বৈষম্য, গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিকঅর্থনৈতিক স্বাধীনতা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। বৈশ্বিক উত্তরের অংশ মনে করা হয় এমন রাষ্ট্রগুলো সাধারণত ধনী ও কম বৈষম্যমূলক হয়। এরা হচ্ছে উন্নত দেশ, যারা প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক উৎপাদিত পণ্য রফতানি করে। বৈশ্বিক দক্ষিণের রাষ্ট্রগুলো সাধারণত দরিদ্র উন্নয়নশীল দেশ, যাদের গণতন্ত্র তুলনায় তরুণ ও ভগ্ন এবং প্রাথমিক খাতের কৃষিভিত্তিক রফতানির উপর নির্ভরশীল।[ঘ] কিছু পণ্ডিতদের মত যে বিশ্বায়নের জন্য বৈশ্বিক উত্তর ও বৈশ্বিক দক্ষিণের মধ্যে বৈষম্য কমে এসেছে।[৮] আবার, অন্যান্য পণ্ডিতেরা এই ধারণার বিরোধিতা করে বলেছেন যে বিশ্বায়নের পর বৈশ্বিক দক্ষিণ আদতে আরও দরিদ্র হয়ে গেছে।[৯][১০][১১][১২]

টীকা সম্পাদনা

    • Thomas-Slayter, Barbara P. (২০০৩)। Southern Exposure: International Development and the Global South in the Twenty-First Century। United States: Kumarian Press। পৃষ্ঠা 9-10। আইএসবিএন 9781565491748among the countries of the Global South, there are also some common characteristics. First and foremost is a continuing struggle for secure livelihoods amidst conditions of serious poverty for a large number of people in these nations. For many, incomes are low, access to resources is limited, housing is inadequate, health is poor, educational opportunities are insufficient, and there are high infant mortality rates along with low life expectancy. ... In addition to the attributes associated with a low standard of living, several other characteristics are common to the Global South. One is the high rate of population growth and a consequent high dependency burden — that is, the responsibility for dependents, largely young children. In many countries almost half the population is under fifteen years old. This population composition represents not only a significant responsibility, but in the immediate future, it creates demands on services for schools, transport, new jobs, and related infrastructure. If a nation’s gross national income (GNI) is growing at 2 percent a year and its population is growing at that rate too, then any gains are wiped out. 
    • Speth, James Gustave; Haas, Peter (২০১৩)। Global Environmental Governance: Foundations of Contemporary Environmental Studies। Island Press। পৃষ্ঠা 58। আইএসবিএন 9781597266055Poverty, lower life expectancies, illiteracy, lack of basic health amenities, and high population growth rates meant that national priorities in these countries were firmly oriented toward economic and social objectives.The global “South,” as these nations came to be known, considered their development priorities to be imperative; they wanted to “catch up” with the richer nations.They also asserted that the responsibility of protecting the environment was primarily on the shoulders of the richer “Northern” nations 
    • Graham, Stephen (২০১০)। Disrupted Cities: When Infrastructure Fails। Routledge। পৃষ্ঠা 131। আইএসবিএন 9781135851996In much debate on cities in the Global South, infrastructure is synonymous with breakdown, failure, interruption, and improvisation. The categorization of poorer cities through a lens of developmentalism has often meant that they are constructed as “problem.” These are cities, as Anjaria has argued, discursively exemplified by their crowds, their dilapidated buildings, and their “slums.” 
    • Adey, Peter; Bissell, David; Hannam, Kevin; Merriman, Peter; Sheller, Mimi, সম্পাদকগণ (২০১৪)। The Routledge Handbook of Mobilities। Routledge। পৃষ্ঠা 470। আইএসবিএন 9781317934134In many global south cities, for example, access to networked infrastructures has always been highly fragmented, highly unreliable and problematic, even for relatively wealthy or powerful groups and neighbourhoods. In contemporary Mumbai, for example, many upper-middle-class residents have to deal with water or power supplies which operate for only a few hours per day. Their efforts to move into gated communities are often motivated as much by their desires for continuous power and water supplies as by hopes for better security. 
    • Lynch, Andrew P. (২০১৮)। Global Catholicism in the Twenty-first Century। Springer Singapore। পৃষ্ঠা 9। আইএসবিএন 9789811078026The global south remains very poor relative to the north, and many countries continue to lack critical infrastructure and social services in health and education. Also, a great deal of political instability and violence inhibits many nations in the global south. 
  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; HKSGTW নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; agri নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; UNCTAD নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. "Handbook of Statistics 2022" (পিডিএফ) (ইংরেজি ভাষায়)। unctad.org। পৃষ্ঠা 21। ২০২২-১২-১২ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। Note: North refers to developed economies, South to developing economies; trade is measured from the export side; deliveries to ship stores and bunkers as well as minor and special-category exports with unspecified destination are not included. 
  3. "Introduction: Concepts of the Global South"। gssc.uni-koeln.de। ২০১৬-০৯-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১০-১৮ 
  4. Nora, Mareï; Michel, Savy (জানুয়ারি ২০২১)। "Global South countries: The dark side of city logistics. Dualisation vs Bipolarisation."। Transport Policy100: 150–160। এসটুসিআইডি 228984747ডিওআই:10.1016/j.tranpol.2020.11.001This article aims to appraise the unevenness of logistics development throughout the world, by comparing city logistics (notion that we define) between developing countries (or Global South countries) (where 'modern' and 'traditional' models often coexist) and developed countries (or Global North countries) 
  5. Mitlin, Diana; Satterthwaite, David (২০১৩)। Urban Poverty in the Global South: Scale and NatureRoutledge। পৃষ্ঠা 13। আইএসবিএন 9780415624664Google Books-এর মাধ্যমে। 
  6. Mimiko, Nahzeem Oluwafemi (২০১২)। Globalization: The Politics of Global Economic Relations and International Business। Carolina Academic Press। পৃষ্ঠা 47আইএসবিএন 978-1-61163-129-6 
  7. Nayak, Meghana; Selbin, Eric (২০১০)। Decentering International RelationsBloomsbury Publishing। পৃষ্ঠা 2। আইএসবিএন 9781848132405Google Books-এর মাধ্যমে। When we say 'North/West,' we mean primarily the US, but also Great Britain, 'Western' European countries, and, depending on context, limited others. 
  8. Therien, Jean-Philippe (১৯৯৯)। "Beyond the North-South divide: The two tales of world poverty"Third World Quarterly (ইংরেজি ভাষায়)। 20 (4): 723–742। আইএসএসএন 0143-6597ডিওআই:10.1080/01436599913523 
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Wade 2004 pp. 381–414 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  10. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Hickel2016 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  11. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Hickel2020 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  12. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Hickel 2021 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

বহিঃসংযোগ সম্পাদনা