আলাপ:প্রধান পাতা: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Dr.SM.Asaduzzaman-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে Nafiul adeeb-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত)
ট্যাগ: পুনর্বহাল
ট্যাগ: পুনর্বহালকৃত মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
|বার্তা-প্রদর্শন=না
}}{{আলাপ:প্রধান পাতা/শীর্ষ}}
 
== আফগানিস্তান ও আঙুর ফল টক ==
 
ইরান সীমান্ত থেকে পামির মালভূমি , আমুদরিয়ার সুবিস্তৃত উপত্যকা। প্রায় ৪০,০০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে যার বিস্তৃতি । গড়ে ২,০০০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট এ উর্বর অঞ্চলটিকে দক্ষিণ আফগানিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে সুউচ্চ হিন্দুকুশ পর্বতমালা । যে পর্বতমালাটি রাজধানী কাবুলের কাছে এসে একটি পাখার মত চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তারপর সে পাখার বেশ কিছু শাখা এগিয়েছে পশ্চিম দিকে। এরপর সেসব শাখা থেকে অজস্র প্রশাখা বের হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র আফগানিস্তানে । প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও রহস্যময়তার আশ্চর্য এ লীলাভূমির মায়াবী হাতছানি শুধু দেশটির জন্যই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও সৃষ্টি করে চলেছে বিস্ময়ের ক্রমাগত অনন্য ইতিহাস । এ এমন একটি দেশ যাকে কেউই উপেক্ষা করতে পারেনি । দূর্গম ও দুরতিক্রম্য বলে কেউ কখনোই দেশটিকে তার নিজের জায়গায় রেখে দেয়ার কথা ভাবতে পারেননি। সবাই একে পেতে চেয়েছেন, না পেয়ে অন্তত স্পর্শ করতে চেয়েছেন। আবার কিছুই করতে না পেরে বেদনাহত হয়ে গল্পের ব্যর্থ লোভী শেয়ালের মত ' আঙুর ফল টক ' বলে নিজেদের পরাজয়ের গ্লানি মুছতে চেয়েছেন। যুগের পর যুগ আফগানিস্তান ও এর অধিবাসীদের নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার কারণটি মূলত ' আঙুর ফল টক ' প্রবাদ বাক্যেরই হীনমন্য অশ্লীল প্রকাশ। যারা আফগানিস্তান বিষয়ে মিডিয়ার অব্যাহত মিথ্যাচারিতার কারণ বুঝতে অক্ষম তাদেরকে অবশ্যই লোভী শেয়ালের ব্যর্থতার গল্পটি আরও একবার পড়ে নেয়া আবশ্যক মনে করি ।
 
আফগানিস্তানে ১৫৭৮ মাইল দীর্ঘ একটি নদী আছে, যার নাম আমুদরিয়া। নদীটি সর্পিল ভঙ্গিমায় উত্তর পূর্ব আফগানিস্তানের প্রায় ৯৩,০০০ বর্গমাইলের অববাহিকাকে উর্বরতা দান করেছে। তবে সর্পিল আমুদরিয়া আফগানিস্তানকে উর্বর করলেও মিডিয়ার সর্পিল মিথ্যার প্রবাহ আফগানিস্তান বিষয়ে কখনোই ইতিবাচক ধারণার উর্বরতা তৈরি করতে পারেননি। বরং তারা গোয়েবলসীয় ' এক মিথ্যা হাজার বার বললে তা সত্য হয়ে যায় ' সূত্রের উপর দাড়িয়ে আফগানিস্তান বিষয়ে তাদের মিথ্যাচারিতাকে ক্রমাগত নাব্যতা দিয়ে যাচ্ছেন। যেহেতু স্বভাবগতভাবেই মানুষ উর্বর ও নাব্য অববাহিকার আশেপাশেই তাদের বসতি তৈরি করেন সেকারণে মিডিয়ার চাকচিক্যময় নাব্য ও উর্বর মিথ্যা স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে প্রভাবিত করেছে। তাই মিডিয়া যখন আফগানিস্তানের একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে পপি চাষকেই দেখানোর চেষ্টা করে তখন সাধারণ মানুষ জানতেও পারেনা যে আফগানিস্তানে যতটুকু এলাকা জুড়ে চাষ হয় তার আয়তন গোটা বাংলাদেশের চাইতেও বেশি , এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের পরেই দেশটির দ্বিতীয় আয়ের উৎস কৃষি। যেখানে মূল কৃষিপন্যের মধ্যে রয়েছে গম, ভুট্টা , ধান, সবজি ও ফল ।
 
আজকের যুগে অধিকাংশ মানুষের চিন্তা যখন মিডিয়া প্রভাবিত, যখন মিডিয়ার কারণে মানুষ তার নিজস্ব চিন্তা করার ক্ষমতাটুকুও হারিয়ে ফেলেছে , তখন তারা খুব সহজ প্রশ্নটিও মিডিয়ার দিকে ছুড়ে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা এই প্রশ্নটিও করতে পারছেনা যে তাহলে তৈমুর লং থেকে বৃটিশ সাম্রাজ্য, সোভিয়েত রাশিয়া থেকে মার্কিন সাম্রাজ্য - এরা সবাই কি মাদকের লোভেই আফগানিস্তান দখল করতে এসেছিল? দেশটির মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা অজস্র খনিজসম্পদ ও এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব কি কিছুই নয়? কিন্তু মানুষ এমন প্রশ্ন করার যোগ্যতা হারিয়ে ভা.র.তীয় শিক্ষক তমাল ভট্টাচার্যের প্রত্যক্ষ ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করছে এবং একটা অদ্ভুত ও অতি সরল প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে, ' তাহলে এতদিন ধরে প্রচার করা এতগুলো মিডিয়ার সব প্রতিবেদন মিথ্যা হয়ে যাবে, আর উনার একার কথা সত্য হয়ে যাবে ? '
 
আফগানিস্তান ও নিজ দেশ দখল মুক্ত করা তা.লি.বা.ন মুজাহিদদের বিষয়ে ভা.র.তীয় মিডিয়ার অব্যাহত মিথ্যাচারিতা ও সংবাদ তারল্যের কারণ ভা.র.তের মানুষ না জানলেও আমরা তা জানি। মার্কিন নেতৃত্বাধীন দখলদার ন্যাটো বাহিনীর আফগানিস্তান দখল করার পর নিজের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করার জন্য ভা.র.তও তাদের অন্যতম সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। কিন্তু তা.লি.বা.নদের বিজয়ের কারণে ভারতের ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার বাসনা অপূর্ণই রয়ে গেল। এ অপূর্ণতাই আফগানিস্তান ও তা.লি.বান বিষয়ে তাদের মর্মপীড়ার কারণ। যে মর্মবেদনা তার চিরশত্রু পাকিস্তানকে দোষারোপের মাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু নিজের ব্যর্থতার জন্য তা.লি.বা.ন ও পাকিস্তানকে দোষারোপ করতে গিয়ে ভা.র.ত তার ইতিহাস ও ভৌগলিক বাধাকে স্বীকার করতে পারেনি। ইতিহাস এটাই বলে যে ভা.র.ত কখনোই আফগানিস্তানে তার প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি, বরং আহমদ শাহ আবদালী ও সুলতান মাহমুদদের মাধ্যমে আফগানিস্তানই একাধিকবার ভা.র.তে তার প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আর ভূগোলের কথা বললে বলতে হয় আফগানিস্তান ভা.র.তের সীমান্তবর্তী কোন দেশও নয়। তাছাড়া প্রাকৃতিক বাধা সৃষ্টি করে আফগানিস্তান নিজেও তার পূর্বপ্রান্তের সকল প্রভাবকে প্রতিহত করে যাচ্ছে। যারা আফগানিস্তানের ভুগোল ভালো করে জানেন তারা এটাও ভালো করে জানেন যে আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তে এমন কয়েকটি পর্বতশ্রেণী রয়েছে যেগুলো ভা.র.ত সাগরে হতে আগত সমস্ত জলীয় বাষ্পবাহী বাতাস থেকে আফগানিস্তানকে দূরে রাখে। একারণে দেশটি বৃষ্টিহীন ও শুষ্ক জেনেও অতিদরদী হয়ে যারা আফগানিস্তানকে নিজের পছন্দমত দেখতে চান তারা হয়তো আফগানিস্তানের পর্বতশ্রেণীর প্রাকৃতিক বাধাকে ভেঙে দিতে চান। [[ব্যবহারকারী:Masum Sayeed Khan|Masum Sayeed Khan]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:Masum Sayeed Khan|আলাপ]]) ১৭:৪৪, ২৫ আগস্ট ২০২১ (ইউটিসি)
১টি

সম্পাদনা