দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বিষয়বস্তু বিয়োগ হয়েছে বিষয়বস্তু যোগ হয়েছে
সম্পাদনা সারাংশ নেই
NahidSultanBot (আলোচনা | অবদান)
বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।
১৬ নং লাইন:
 
== বংশ পরিচয় ==
দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ [[কলকাতা|কলকাতার]] [[দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা|দক্ষিণ ২৪টি পরগনা জেলার]] চাংড়িপোতা (বর্তমানে সুভাষগ্রাম) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হরচন্দ্র ন্যায়রত্ন ভট্টাচার্য ছিলেন তার পিতা। দুই পুত্রের মধ্যে দ্বারকানাথ ছিলেন জ্যেষ্ঠ। কনিষ্ঠ শ্রীনাথ চক্রবর্তী। হরচন্দ্র ন্যায়রত্ন ছিলেন দাক্ষিণাত্য বৈদিক সমাজে একজন বিশিষ্ট স্মৃতিশাস্ত্রজ্ঞ ও বৈয়াকরণিক পন্ডিত। দ্বারকানাথ বাল্যকালে তাঁরতার পিতার কাছেই ব্যাকরণ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। দ্বারকানাথের পিতা হরচন্দ্র ন্যায়রত্ন কলকাতায় টোল চতুষ্পাঠি করে অধ্যাপনা করতেন। এটাই ছিল তাঁরতার মূল জীবিকা। হরচন্দ্র ন্যায়রত্নের বহু কৃতী ছাত্রদের মধ্যে [[রামতনু লাহিড়ী]] ও [[ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত]] অন্যতম। [[১৮৩১]] সালে [[সংবাদ প্রভাকর]] পত্রিকা সম্পাদনার কাজে হরচন্দ্র ন্যায়রত্ন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে সাহায্য করতেন।<ref name="শিবনাথ শাস্ত্রী">রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ-[[শিবনাথ শাস্ত্রী]], পৃঃ ১৬৭-১৭০,নিউ এজ্‌ পাবলিসার্স পাঃ লিঃ</ref> দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের জন্ম সাল ১৮১৯ না ১৮২০ সালে তা নিয়ে মতভেদ আছে।<ref name="হরিনাভি">হরিনাভি দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ এ্যাংলো সংস্কৃত উচ্চ বিদ্যালয় ১২৫বছর স্মরনিকা (১৯৯০)</ref>
 
== শিক্ষা ও কর্মজীবন ==
দ্বারকানাথ বাল্যকালে তাঁরতার পিতার কাছেই ব্যাকারণ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। পরে পন্ডিত সর্বানন্দ সার্বভৌম বারো বছর বয়স পর্যন্ত দ্বারকানাথকে ব্যাকরণ শিক্ষা দান করেন।[[১৮৩২]] সালে হরচন্দ্র পুত্র দ্বারকানাথকে কলকাতায় [[সংস্কৃত কলেজ|সংস্কৃত কলেজে]] ভর্তি করে দেন। সংস্কৃত কলেজে ন্যায়, স্মৃতি,বেদান্ত,দর্শন, সাহিত্য অলংকার,কাব্য ও জ্যোতিষ শিক্ষা গ্রহণ করেন। কলেজে ছাত্রবৃত্তি চালু হলে দ্বারকানাথ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে প্রধান বৃত্তি লাভ করেন। ১৮৪৫ সালে তাঁকেতাকে [[বিদ্যাভূষণ]] উপাধি দেওয়া হয়। এই সময় থেকে কলেজে ইংরেজি শিক্ষা ক্রমশঃ পাঠ্য হয়ে ওঠে। দ্বারকানাথ পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষাও শুরু করেন। নিজের কঠোর অধ্যবসায় তিনি বেশি বয়সেও ইংরেজি ভাষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠেন।<ref name="শিবনাথ শাস্ত্রী"/>
 
[[১৮৪৫]] সালে সংস্কৃত কলেজে শিক্ষা শেষ করে তিনি [[ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ|ফোর্ট উইলিয়ামে কলেজে]] শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।<ref name="শিবনাথ শাস্ত্রী"/> ফোর্ট উইলিয়ামে ব্রিটিশ প্রসাশকদের বাংলা ভাষা শেখানো তার কাজ ছিল। এরপরে তিনি সেই সংস্কৃত কলেজেই ফিরে আসেন। সংস্কৃত কলেজে তার প্রথম যোগদান গ্রন্থাগারিক হিসাবে। বেতন ছিল মাসে ৩০ টাকা। পরে পদোন্নতি হয়ে তিনি সাহিত্যশাস্ত্রের অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন। বেতন বেড়ে হয় মাসে ১৫০ টাকা। গ্রন্থাগারিক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হবার সময় [[ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর]] ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ। বিদ্যাসাগরের সুপারিশক্রমেই তাঁরতার পদোন্নতি হয়।<ref name="শিবনাথ শাস্ত্রী"/>
 
দ্বারকানাথ যখন সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়ন করেন ও পরে অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত হন তখন নিজ গ্রাম চাংড়িপোতা (বর্তমানে সুভাষগ্রাম) থেকে কলকাতায় যাবার কোনো যানবাহন ছিল না। [[১৮৬২]] সালে চালু হয় মাতলা রেল (শিয়ালদহ-ক্যানিং শাখা)। রেল চালু হবার আগে তিনি পায়ে হেঁটেই কলকাতায় যাতায়াত করতেন। সেকালে অনেক পদস্থ ব্যক্তি একরকম ছক্কর গাড়িতে চেপে সোমবার [[রাজপুর]]-[[হরিনাভি]] থেকে কলকাতায় যেতেন।আবার শনিবার কলকাতা থেকে ঐ গাড়িতে বাড়ি ফিরতেন। দ্বারকানাথকে কখনো ঐ গাড়িতে চড়তে দেখা যায় নি।
 
বেশ কয়েক বছর সংস্কৃত কলেজে অধ্যাপনার পর বিদ্যাসাগর বিদ্যালয় পরিদর্শনে বেরোলে বিদ্যাসাগরের অবর্তমালে কিছুকাল তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্বও পালন করেন। অবশেষে ভগ্নস্বাস্থ্যের কারণে [[১৮৭৩]] সালে প্রায় ৫৪ বছর বয়সে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তাঁরতার স্বাস্থ্যহানির অন্যতম কারণ তাঁরতার অস্বাভাবিক পরিশ্রম। দ্বারকানাথের ভাগিনেয় [[শিবনাথ শাস্ত্রী]] তাঁরতার ''[[রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ]]'' গ্রন্থে তাঁরতার মাতুল সম্পর্কে লিখেছেন {{cquote|“রাত্রি ১১টার সময় শয়ন করিতে যাইবার পূর্বে দেখিয়াছি তিনি কার্যে মগ্ন আছেন, রাত্রি ৪টার সময়ে উঠিয়া দেখিয়াছি তিনি কার্যে মগ্ন আছেন। আমার বয়সের মধ্যে প্রত্যূষে উঠিয়া তাহাকে কখনো ঘুমাইতে দেখিয়াছি এরূপ মনে হয় না।“}}<ref name="শিবনাথ শাস্ত্রী"/>
 
== সোমপ্রকাশ ==