বিজয়া রায়

ভারতীয় অভিনেত্রী

বিজয়া রায় (অক্টোবর ১৯১৭ - ২ জুন, ২০১৫)[১] একজন ভারতীয় লেখিকা ও অভিনেত্রী ছিলেন। তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী ছিলেন। তাদের পুত্র সন্দীপ রায় একজন চলচ্চিত্র পরিচালক।[২][৩] বিয়ের আগে বিজয় ও সত্যজিৎ সম্পর্কে আত্মীয় ছিলেন। দীর্ঘ প্রেমের পর ১৯৪৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিজয়া রায় ১৯৪৪ সালে শেষ রক্ষা নামে একটি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন এবং নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে ক্যাথরিন বার্গের গাছ নামের প্রামাণ্যচিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ৯৯ বছর বয়সে কলকাতায় মারা যান।

বিজয়া রায়
জন্ম
বিজয়া দাশ

(১৯১৭-১০-০০) অক্টোবর ১৯১৭
মৃত্যু২ জুন ২০১৫(2015-06-02) (বয়স ৯৭)
মৃত্যুর কারণনিউমোনিয়া
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাঅভিনেত্রী, লেখিকা
দাম্পত্য সঙ্গীসত্যজিৎ রায় (বি. ১৯৪৯–৯২)
সন্তানসন্দীপ রায় (পুত্র)
পিতা-মাতাচারুচন্দ্র দাস (পিতা)
মাধুরী দেবী (মাতা)

প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষাসম্পাদনা

বিজয়া রায় ১৯১৭ সালে চারু চন্দ্র দাস ও মাধুরী দেবীর ঘরে জন্ম নেন। তার পিতা একজন ব্যারিস্টার ছিলেন এবং মাতা জাতীয়তাবাদী নেতা 'দেশবন্ধু' সি আর দাসের স্ত্রী বাসন্তী দেবীর ছোট বোন ছিলেন। বিজয়া রায় চার বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁর বড় বোন সতী দেবীও একজন বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ছিলেন যিনি উদয় শঙ্করের সাথে আলমোরায় এবং বোম্বেয়ের পৃথ্বী থিয়েটারে কাজ করেছিলেন এবং সতী দেবীর মেয়ে রুমা গুহ ঠাকুর্তা সংগীত ও অভিনয় জগতের এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারকে বিয়ে করেছিলেন। বিজয়া রায় বহু ছবিতে কাজ না করলেও তাঁর বহুমুখী অভিনয়ের প্রতিভা ছিল। তৎকালীন বিখ্যাত গায়িকা কনক দাস (বিশ্বাস) তাঁর পিতৃ-খালা ছিলেন।[১]

বিজয়া রায় পাটনায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই শিক্ষা লাভ করেন। তার প্রতিভাশালী কণ্ঠ ছিল এবং তার বাবা তাকে সোফ্রানো শিখতে এবং পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রশিক্ষণ লাভের জন্য প্যারিস পাঠাতে চেয়েছিলেন। ১৯৩৩ সালে, তার যখন তেরো বছর বয়স তখন তার পিতা মারা যান। তখন তিনি তাঁর মা ও বোনদের সাথে কলকাতায় তাঁর পিতৃ মামা প্রসন্ত দাসের বাড়িতে চলে আসেন। এখানেই তার চাচাতো ভাই সত্যজিতের সাথে তার দেখা হয়েছিল। তারা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তাদের উভয়ের চলচ্চিত্র ও পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সংগীত নিয়ে আগ্রহ ছিল। তিনি কলকাতার মহিলা কলেজ যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে স্নাতক লাভ করেন। স্নাতক শেষ করার পর, তিনি কলকাতার বেথুন স্কুল এবং কমলা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসাবে এবং অল্প সময়ের জন্য একটি সরকারী অফিসে ক্লার্ক হিসাবে কাজ করেছিলেন। পরে তিনি তার চাকরি ছেড়ে চলচ্চিত্র নিয়ে কর্মজীবন শুরু করার জন্য বোম্বে চলে যান।[১]

ব্যক্তিজীবনসম্পাদনা

তিনি সাফল্য বা সন্তুষ্টি ছাড়া কয়েক চলচ্চিত্রে কাজ করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি সত্যজিৎ রায়কে বিয়ে করেন যিনি সম্পর্কে তার পিসতুতো ভাই। তাদের একমাত্র পুত্র সন্দীপ ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বিজয়া রায় সত্যজিৎ রায়ের জীবনের অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিলেন। ১৯৯২ সালে তার স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তার পুত্র সন্দীপ, পুত্রবধূ ললিতা এবং নাতি সৌরদীপ সঙ্গে কলকাতায় বাস করতেন। তিনি "আমাদের কথা" ISBN 81-7756-687-3 নামে একটি আত্মজীবনী লেখেন যা আনন্দ পাবলিশার্স দ্বারা প্রকাশিত হয়। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২ জুন ২০১৫ সালে মারা যান।[৪][৫]

চলচ্চিত্রসম্পাদনা

  • শেষ  রক্ষা (১৯৪৪) 
  • মশাল (১৯৫০)
  • রজনী

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. রায় ২০১৪
  2. সত্যজিৎ রায় (১৫ জানুয়ারি ১৯৮৩)। Phatik Chand। Orient Paperbacks। পৃষ্ঠা ১১২–। আইএসবিএন 978-81-222-0420-9। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১২ 
  3. সত্যজিৎ রায়; বার্ট কার্ডুল্লো (১ মার্চ ২০০৭)। Satyajit Ray: Interviews। Univ. Press of Mississippi। পৃষ্ঠা ১৮–। আইএসবিএন 978-1-57806-937-8। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১২ 
  4. "Satyajit Ray's wife Bijoya Ray passes away"The Times of India। ২ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০১৫ 
  5. "নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায়"Zee24Ghanta.com। ২ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মে ২০২০ 

গ্রন্থপঞ্জীসম্পাদনা

  • রায়, বিজয়া (২০১৪), আমাদের কথা, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, আইএসবিএন 81-7756-687-3 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা