বাহাদুর গাঁওবুঢ়া

বাহাদুর গাঁওবুঢ়া আসামের একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর জন্ম ১৮১৯ সালে হয়েছিল। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ বাহদিল। তাঁর পরিবার পরম্পরাগতভাবে "আখরকটা বরুয়া"র পদবী পেয়েছিলেন এবং সত্রসমূহের অধিকার বা সত্রাধিকারসমূহকে জমির অনুমোদন দেওয়া তাম্রফলক লেখার দায়িত্ব এই পরিবারের উপরে ন্যস্ত ছিল। বাহাদুর গাঁওবুঢ়া প্রথমে মালিয়ারিতে বনুয়া হিসাবে এবং তারপরে একজন রাজনৈতিক প্রধানের বাড়িতে সুরক্ষা কর্মী হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। পরে ইংরেজরা তাঁকে যোরহাট এবং তিতাবরের গাঁওবুঢ়া করে। তাঁর সাহসের জন্য মানুষ তাঁকে "বাহাদুর" নাম দিয়েছিল।[১]

বাহাদুর গাঁওবুঢ়া
জন্ম
শ্বেইখ বাহদিল

১৮১৯
মৃত্যু১৮৯১
দফলাটিং, তিতাবর
জাতীয়তাভারতীয়
পরিচিতির কারণব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় মণিরাম দেওয়ান আসামকে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত করতে চেষ্টা করেছিলেন। বাহাদুর গাঁওবুঢ়াকে মুসলমানদের সমর্থন আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের দেশী সৈনিকদের সহযোগিতায় অস্ত্র-শস্ত্রের যোগাড়েও তিনি জড়িত ছিলেন।[১] বাহাদুর ফর্মুদ আলীনুর মহম্মদ নামের একজন সেনা প্রধানকে কন্দর্পেশ্বর সিংহের কাছে বিদ্রোহের আলোচনার জন্য নিয়ে গিয়েছিল।[২] ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অপরাধে মণিরাম দেওয়ান, পিয়লী বরুয়া ইত্যাদির সাথে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দেওয়ান এবং বরুয়াকে যোরহাটে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং বাহাদুর গাঁওবুঢ়াকে দুখনরাম বরুয়া, ফর্মুদ আলী, বিনয় লস্কর, গোপেন রয় ইত্যাদির সাথে কালাপানীতে (আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সেলুলার জেল) নির্বাসন দেওয়া হয়।

আন্দামান থেকে মুক্তি পেয়ে আসার দুই দশক পরে ১৮৯১ সালে তিতাবরের কাছের দফলাটিঙে কনিষ্ঠ পুত্র দোস্ত মহম্মদের বাসভবনে তাঁর মৃত্যু ঘটে। যোরহাটের নতুন বালিবাটে তাঁকে সমাধি করা হয়। এই পথটি বর্তমানে তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তিতাবরে তাঁর নামে এক স্মারক নির্মাণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Wasim Rahman (১৩ নভেম্বর ২০১০)। "Titabor memorial to honour freedom fighter"। The Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭ 
  2. "Jorhat remembers heroes of Sepoy Mutiny"। The Telegraph। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭