বাস্টার্ডো

তিউনিসীয় চলচ্চিত্র

বাস্টার্ডো (আরবি: باستاردو‎‎) একটি তিউনিসীয় নাট্য চলচ্চিত্র। ২০১৩ সালে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি রচনা এবং পরিচালনা করেছেন নাজিব বেলকাদি। এটি ২০১৩ টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমসাময়িক বিদেশী সিনেমা বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে।[১][২]

বাস্টার্ডো
باستاردو
পরিচালকনাজিব বেলকাদি
প্রযোজকইমাদ মারজুক
রচয়িতানাজিব বেলকাদি
চিত্রনাট্যকারগার্গেলি পোহার্নক
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারলোন উলফ (পল মার্শাল)
সম্পাদকপ্যাস্কেল চ্যাভেন্স
বাদি শৌকা
পরিবেশকপ্রোপাগান্ডা প্রোডাকশন
মুক্তি
দৈর্ঘ্য১০৬ মিনিট
দেশতিউনিসিয়া
ভাষাআরবি

প্রেক্ষাপটসম্পাদনা

বাস্টার্ডো চলচ্চিত্রটির কাহিনী মোহসিন ওরফে "বাস্টার্ডো"-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। মোহসিন এমন একজন মানুষ যে নিজের জন্ম-পরিচয় জানে না। সে যেই দারিদ্রপ্রবণ পাড়ায় বসবাস করে, সেখানকার বাসিন্দারা তাকে জারজ (বাস্টার্ডো) বলে তাচ্ছিল্য করে এবং তাকে এড়িয়ে চলে।

চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর মোহসিন, তার বন্ধু খলিফার সাথে পরামর্শ করে নিজেদের বাড়ির ছাদে একটি জিএসএম রিলে স্থাপন করে, যার মাধ্যমে তার মাসিক আয়ের ব্যবস্থা হয়। এই রিলে অ্যান্টেনা ঐ অঞ্চলের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে আধুনিকতার স্বাদ নিতে দেয়, যা থেকে তারা ততদিন পর্যন্ত বঞ্চিত ছিল। এভাবে ক্রমশঃই মোহসিনের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটতে থাকে এবং সমাজে তার প্রভাব বাড়তে থাকে। এটি জীবনে এটি একটি চ্যালেঞ্জ ডেকে আনে। কেননা মোহসেনের শৈশবের বন্ধু লার্নুবা এটি মেনে নিতে পারেনি। লার্নুবা ছিল এলাকার এক নীতিহীন মাস্তান প্রধান, যে মোহসিনের উত্থানকে নিজের আধিপত্যের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখে। এলাকার নিয়ন্ত্রণে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে সে মোহসিনের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। রহস্যময়ী মেয়ে বিনত এসেঙ্গরা, যে গোপনে মহসিনকে ভালোবাসে, এই দ্বন্দ্বে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে এবং প্রেমের জন্য দুঃসাধ্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোহসিনের পক্ষে দাঁড়ায়। এক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে পরিত্রাণ পেয়ে বন্ধু খলিফার সমর্থনে মোহসিনের এলাকার সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সম্মানিত ব্যক্তি হয়ে উঠতে থাকে।[৩]

কুশীলবসম্পাদনা

নির্মাণসম্পাদনা

২০১১ সালে দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট চলচ্চিত্রটির জন্য অর্থ অনুদান করে।[৪] নাজিব বেলকাদির রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছেন ইমাদ মারজুক। তিউনিসীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রোপাগান্ডা প্রোডাকশন এই চলচ্চিত্রের দায়িত্বে ছিল। এর পাশাপাশি ফরাসি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মিলে এত উনে প্রোডাকশন সহ-প্রযোজক হিসেবে কাজ করে। চলচ্চিত্রটির মূল কর্তনবিহীন সংস্করণটি ছিল ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট দীর্ঘ।[৫]

পুরস্কার ও মনোনয়নসম্পাদনা

উৎসব পুরস্কার বিভাগ ফলাফল তথ্যসূত্র
আবুধাবি চলচ্চিত্র উৎসব ব্ল্যাক পার্ল অ্যাওয়ার্ড নিউ হরাইজনস কম্পিটীশন মনোনীত [৬]
গ্রানাডা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সিনেস দে সুর গোল্ডেন আলহাম্বরা মনোনীত
তিতওয়ান আন্তর্জাতিক ভূমধ্যসাগরীয় চলচ্চিত্র উৎসব গ্র্যান্ড প্রাইজ চলচ্চিত্র বিজয়ী [৭]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Bastardo"টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০১৩ 
  2. নেগ্ট, পিটার (১৩ আগস্ট ২০১৩)। "Toronto Adds 75+ Titles To 2013 Edition"ইন্ডেওয়্যার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২১ 
  3. "বাস্টার্ডো"এল-সিনেমা (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০২১ 
  4. "Bastardo"দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২১ 
  5. "Film preview: Bastardo at Hyde Park Picture House, Leeds"ইয়র্কশায়ার ইভিনিং পোস্ট (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ মার্চ ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০১৪ 
  6. খলিফি, রুনা (১০ মে ২০১৪)। "Newfound cinematic freedom tested in Tunisia"আল জাজিরা (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২১ 
  7. "Awards"ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ – আইএমডিবি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২১ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা