বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী বাংলাদেশের একটি সাম্রাজ্যবাদ-সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ বিরোধী প্রগতিশীল ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন হতে নানা বিভক্তি ও একীকরণের মাধ্যমে এই দলটির উদ্ভব ঘটেছে।

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী
সভাপতিফারুক আহমেদ রুবেল
সাধারণ সম্পাদককাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল
প্রতিষ্ঠাতাফজলে হোসেন বাদশা
স্লোগান" মেহনতী জনতার সাথে একাত্ম হও "
প্রতিষ্ঠা৬ ডিসেম্বর ১৯৮০ (৩৯ বছর আগে) (1980-12-06)
সদর দপ্তর২১/১ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
সংবাদপত্রছাত্রমৈত্রী
সাংস্কৃতিক শাখাগণ সংস্কৃতিক মৈত্রী
মতাদর্শসমাজতন্ত্র,
সাম্যবাদ
দলীয় পতাকা
বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর পতাকা.svg
ওয়েবসাইট
studentsunitybd.com

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে সে বছরের ২৬ এপ্রিল জন্মলাভ করা পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের গর্বিত উত্তরসূরি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী। ষাটের দশকের আন্তর্জাতিক মহাবিতর্কে বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট আন্দোলনের ভাঙ্গনের মুখে পড়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নেও। সুবিধাবাদ, পশ্চাৎপদ ভ্রান্ত ধারনা, কূপমুন্ডকতা ও লেজুরবৃত্তিক মনোভাব সচেতনভাবে এড়িয়ে ১৯৬৫ সালে যাত্রা শুরু করে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে সংগঠনের নামকরণ হয় পূর্ব বাংলা বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন (উল্লেখ্য, পাকিস্তানী শাসন ও পাকিস্তান রাষ্ট্রচেতনাকে সর্বপ্রথম অস্বীকার করে এই সংগঠনই ‘পূর্ব পাকিস্তান’ বাদ দিয়ে ‘পূর্ব বাংলা’ শব্দযুগল সংগঠনের নামে যুক্ত করে)। স্বাধীনতার আগে-পরে বিভিন্ন ভ্রান্ত বিতর্কে বহুধাবিভক্ত হয় বাংলাদেশের প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে সত্তরের দশকের শেষভাগে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের এসব বহুধাবিভক্ত ধারাকে ঐক্যের মোহনায় মিলিত করার মহান তাগিদ থেকে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই পথ ধরে ১৯৮০ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ঐক্য সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় আন্দোলন, জাতীয় ছাত্রদলের দুইটি অংশ এবং বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন মিলিত যাত্রা শুরু করে। সংগঠনের না ধারন করা হয় “বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী“। পরবর্তীতে এই ঐক্যের ধারাবহিকতায় ১৯৮১ সনে জাতীয় ছাত্র ইউনিয়নের সাথে ঐক্য হয় এবং সংগঠনের নাম “বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী“ অপরিবর্তিত থাকে। ১৯৮৪ সনে ২২ সেপ্টেম্বর বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের একটি অংশের সাথে ঐক্য হলে সংগঠনের নাম পরিবর্তন হয়ে “বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী” নামটি ধারণ করে। ১৯৮৮ সনে ৭ এপ্রিল বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের আরেকটি অংশের সঙ্গে ঐক্যের মধ্যদিয়ে “বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী” নাম ধারণ করে সংগঠনটি। এরপর আরো দুই দফায়; ১৯৮৮ সনে ২১ নভেম্বর জাতীয় ছাত্র সংসদের সঙ্গে এবং ১৯৯২ সনে ২৩-২৪ অক্টোবর গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে ঐক্য হয় বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর। সংগ্ঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির নাম ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য।

৮০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (রাকসু) ছাত্রলীগ ও জাসদের বিরুদ্ধে প্যানেল ঘোষণা করে সংগঠনটি। নির্বাচনে ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা ভিপি পদে বিপুল ভোটে জয়ী হন। এই পর্যন্ত ছাত্রমৈত্রীর ১৯টি কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ফারুক আহমেদ রুবেল সভাপতি এবং কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।[১] সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট এবং ৩১ সদস্যবিশিষ্ট সাংগঠনিক জেলা কাঠামোর সংখ্যা ৫৪।

সংগঠনের লক্ষ্যসমূহসম্পাদনা

প্রধানত সংগঠনের লক্ষ্য জনগণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সংগ্রামে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সর্বাত্মক সংগ্রাম অব্যাহত রাখা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র সমাজকে সহায়ক শক্তি হিসাবে গড়ে তোলা। এছাড়াও সংগঠন সাধারণসত নিম্নোক্ত লক্ষ্যে কাজ করে- ক) ছাত্রসমাজের বিভিন্নমুখী সমস্যা নিয়ে নিরলসভাবে ব্যাপক ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন গড়ে তোলা। খ) জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলে তাদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। গ) শ্রমিক, কৃষক, মেহনতী জনতাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সংগ্রামে শক্তি যোগানোর পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সংগ্রামে অংশগ্রহণ করা। ঘ) বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রগতিশীল ছাত্র ও যুবসমাজের সাথে সাম্রাজ্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামে ঐক্য ও সংহতি জোরদার করা। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ চক্রান্তের বিরুদ্ধে লেখক, শিল্পী, কৃষক, শ্রমিক জনতার বিশ্বব্যাপী সংগ্রামের সাথে সক্রিয়ভাবে একাত্ম হওয়া। ঙ) আন্তর্জাতিক সর্বহারার আদর্শ মার্কসবাদ, লেনিনবাদের শিক্ষায় ছাত্রসমাজকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করা।

সংগঠনের শহীদগণসম্পাদনা

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী শিক্ষা-কাজের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এবং সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়ােই-সংগ্রামের কারণে স্বভাবতই শোষক-শাসকগোষ্ঠী এবং একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী অপশক্তি জামায়াতে ইসলাম ও তোর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের রোষানলে পতিত হয়। দীর্ঘপথচলায় ছাত্র মৈত্রীর আদর্শের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয় শহীদ জামিল আকতার রতন, শহীদ জুবায়ের চৌধুরী রিমু, শহীদ ফারুকুজ্জামান ফারুক, শহীদ দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য রূপম, শহীদ বনি আমিন পান্না, শহীদ আশরাফুল ইসলাম নাসিম, শহীদ আসলাম, শহীদ আতিকুল বারী, শহীদ রাজু আহম্মেদ বাবলু, শহীদ আইয়ুব হোসেন, শহীদ সেলিম, শহীদ শামীম আহমেদ, শহীদ রেজওয়ানুল ইসলাম চৌধুরী সানিসহ অসংখ্য নেতাকর্মী এবং শারীরিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে অসংখ্য নেতাকর্মী।

বিভিন্ন সময়ের নেতৃত্ব ও মেয়াদকালসম্পাদনা

প্রতিষ্ঠাকালঃ ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮০ স্থানঃ অপরাচেয় বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সম্মেলনের ক্রমিক সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মেয়াদকাল
প্রথম ফজলে হোসেন বাদশা আতাউর রহমান ঢালী ১৯৮০ - ১৯৮৪
দ্বিতীয় ফজলে হোসেন বাদশা জহির উদ্দিন স্বপন ১৯৮৪ - ১৯৮৬
তৃতীয়      জহির উদ্দিন স্বপন জাহাঙ্গীর আলম রুবেল ১৯৮৬ - ১৯৮৮
চতুর্থ      জহির উদ্দিন স্বপন নুর আহমদ বকুল ১৯৮৮ - ১৯৯১
পঞ্চম           নুর আহমদ বকুল রাগীব আহসান মুন্না ১৯৯১ - ১৯৯৩
ষষ্ট           রাগীব আহসান মুন্না মাহমুদ হাসান বুলু      ১৯৯৩ - ১৯৯৪
সপ্তম           আতাউর রহমান আতা জিয়াউল হক জিয়া      ১৯৯৫ - ১৯৯৬
অষ্টম         মিজানুর রহমান চন্দন জিয়াউল হক জিয়া   ১৯৯৫ - ১৯৯৬
নবম           জিয়াউল হক জিয়া দীপঙ্কর সাহা দীপু      ১৯৯৬ - ১৯৯৭
দশম                জিয়াউল হক জিয়া দীপঙ্কর সাহা দীপু ১৯৯৭ - ১৯৯৯
একাদশতম          দীপঙ্কর সাহা দীপু সাব্বাহ আলী খান কলিন্স      ১৯৯৯ - ২০০২
দ্বাদশতম           সাব্বাহ আলী খান কলিন্স আব্দূল আহাদ মিনার      ২০০২ - ২০০৪
ত্রয়োদশতম           রফিকুল ইসলাম সুজন মামুনুর রশীদ      ২০০৪ - ২০০৫
চর্তুদশতম          রফিকুল ইসলাম সুজন মুক্তার হোসেন নাহিদ      ২০০৫ - ২০০৮
পঞ্চদশতম         রফিকুল ইসলাম সুজন বিপ্লব রায়      ২০০৮ - ২০১০
ষোড়শতম           বাপ্পাদিত্য বসু তানভীর রুসমত      ২০১০ - ২০১২
সপ্তদশতম           বাপ্পাদিত্য বসু তানভীর রুসমত      ২০১২ - ২০১৫
অষ্টদশতম আবুল কালাম আজাদ অর্ণব দেবনাথ ২০১৫ - ২০১৬
ঊনবিংশতম         ফারুক আহমেদ রুবেল কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েল     ১৯ মে, ২০১৭ - চলমান

তথ্যসূত্রসম্পাদনা


  • http://jugobarta.com/%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%88%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87/
  • ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত “ঘোষণা-কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র”
  • বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় বুলেটিন “ছাত্রমৈত্রী”