বন্যা

পৃথিবী জুড়ে বন্যার অবস্থান।

পানি দ্বারা স্থলভাগ প্লাবিত হওয়াকে বলে বন্যা বা বান। এটি একটি ক্রমপুঞ্জিত জলবায়ু-সম্পর্কিত চরম ঘটনা। একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ  যা নদীমাতৃক বাংলাদেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে প্রায় প্রতিবছরই হয়ে থাকে।

ঘূর্ণিঝড় ক্যাটরিনার প্রভাবে বন্যা কবলিত নিউ অরলিন্স এবং লুসিয়ানা

বাংলাদেশে ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯০, ১৯৯৫, ১৯৯৮, ২০০৪ ও ২০০৭ সালের বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের বন্যায় এত বেশি ক্ষতি হয়েছিল যে সেটি বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার অঞ্চল অর্থাৎ ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড বন্যাকবলিত হয়। ব্যাপকভাবে বন্যা হলে সমগ্র দেশের ৫৫ শতাংশের বেশি ভূখণ্ড বন্যার প্রকোপে পড়ে।[১]

বন্যার প্রকারভেদসম্পাদনা

বাংলাদেশ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চার ধরনের বন্যা হয়। এগুলো হচ্ছে-

(১) মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি জনিত বর্ষাকালীন বন্যা,

(২) আকস্মিক (পাহাড়ী ঢল) বন্যা,

(৩) অপ্রতুল নিস্কাষণ ব্যবস্থা জনিত বন্যা এবং

(৪) সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে ঝড় সৃষ্ট জলোচ্ছাস বা জোয়ারের উচ্চতা জনিত বন্যা।

মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে নদ-নদীর পানি সমতল (উচ্চতা) বৃদ্ধি জনিত বর্ষাকালীন বন্যায় নদ-নদীর পানি সমতল ধীরে ধীরে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। আকস্মিক বন্যা বাংলাদেশের উত্তরের কিছু এলাকা, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশে সংলগ্ন পাহাড়ী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে হয়ে থাকে এবং পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। একই সাথে পানি প্রবাহের গতিবেগ বেশী হয়, বন্যা হয় স্বল্প মেয়াদী। অপ্রতুল নিস্কাষণ ব্যবস্থা বা নিস্কাষণ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হয়ার কারনে মাঝারী বা ভারী বৃষ্টিপাতের দরুন কোন কোন এলাকা বন্যা কবলিত হয়, এই প্রকার বন্যা কবলিত এলাকার পানি সমতল খুব ধীর গতিতে হ্রাস পায় এবং বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। ঝড়-ঘুর্ণীঝড়-সাইক্লোন ইত্যাদির কারনে সৃষ্ট জলোচ্ছাস এবং জোয়ারের উচ্চতার কারনে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় এক বা একাধিক প্রকার বন্যা দেখা দিতে পারে।[২]  

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "বন্যা | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-০৮ 
  2. "সংজ্ঞা"www.ffwc.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-০৮ 

2. https://blog.bdnews24.com/Maizuddin/107313

বহিঃসংযোগসম্পাদনা