ফে ডানাওয়ে

মার্কিন অভিনেত্রী

ডরোথি ফে ডানাওয়ে (ইংরেজি: Dorothy Faye Duanaway; জন্ম ১৪ জানুয়ারি ১৯৪১)[১] হলেন একজন মার্কিন অভিনেত্রী। অভিনয় জীবনে তিনি একটি একাডেমি পুরস্কার, তিনটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, একটি বাফটা পুরস্কার, একটি এমি পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং তিনি লিওপার্ড ক্লাব পুরস্কারের প্রথম বিজেতা। ২০১১ সালে ফ্রান্স সরকার তাকে অর্দ্র দে আর্ত এ দে লেত্রের অফিসার উপাধি প্রদান করে।

ফে ডানাওয়ে
Faye Dunaway Cannes 2011.jpg
২০১১ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডানাওয়ে
জন্ম
ডরথি ফে ডানাওয়ে

(1941-01-14) ১৪ জানুয়ারি ১৯৪১ (বয়স ৭৯)
বাসকম, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র
মাতৃশিক্ষায়তনবস্টন বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাঅভিনেত্রী
কর্মজীবন১৯৬২–বর্তমান
দাম্পত্য সঙ্গীপিটার উল্ফ (বি. ১৯৭৪; বিচ্ছেদ. ১৯৭৯)
টেরি ও'নিল (বি. ১৯৮৩; বিচ্ছেদ. ১৯৮৭)
সন্তানলিয়াম ডানাওয়ে ও'নিল

১৯৬০-এর দশকে ব্রডওয়ে মঞ্চে অভিনয় দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় দ্য হ্যাপেনিং (১৯৬৭) দিয়ে। তিনি বনি অ্যান্ড ক্লাইড চলচ্চিত্রে বনি পার্কার চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন এবং এই কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তার প্রথম একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। নব্য-নোয়া রহস্যমূলক চায়নাটাউন (১৯৭৪) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অপর একটি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং ব্যঙ্গধর্মী নেটওয়ার্ক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হল দ্য টমাস ক্রাউন অ্যাফেয়ার (১৯৬৮), নাট্যধর্মী দি অ্যারেঞ্জমেন্ট (১৯৬৯), পশ্চিমা ধাঁচের লিটল বিগ ম্যান (১৯৭০), আলেক্সাঁদ্র্ দ্যুমার ধ্রুপদী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত দ্য থ্রি মাস্কেটিয়ার্স (১৯৭৩), মারপিঠধর্মী-নাট্য দ্য টাওয়ারিং ইনফার্নো (১৯৭৪), রাজনৈতিক থ্রিলার থ্রি ডেজ অব দ্য কন্ডর (১৯৭৫) এবং থ্রিলার আইজ অব লরা মার্স (১৯৭৮)।

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

ডানাওয়ে ১৯৪১ সালের ১৪ই জানুয়ারি ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ব্যাসকমে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জন ম্যাকডাওয়েল ডানাওয়ে জুনিয়র (১৯২০-১৯৮৪) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নন-কমিশনড অফিসার এবং মাতা গ্রেস এপ্রিল (জন্ম স্মিথ, ১৯২২-২০০৪) ছিলেন একজন গৃহিণী। তিনি স্কট-আইরিশ, ইংরেজ ও জার্মান বংশোদ্ভূত।[২][৩]

কর্মজীবনসম্পাদনা

ডানাওয়ের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকে ব্রডওয়ে মঞ্চে অভিনয় দিয়ে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র হল হাস্যরসাত্মক অপরাধমূলক দ্য হ্যাপেনিং (১৯৬৭), এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন অ্যান্থনি কুইন। তার অভিনয় সমালোচকদের নজর কাড়ে, এবং শিকাগো সান-টাইমস-এর রজার ইবার্ট তার অভিনয়ের প্রশংসা করেন। একই বছর তিনি অটো প্রেমিঞ্জারের নাট্যধর্মী হারি সানডাউন চলচ্চিত্রে মাইকেল কেইনজেন ফন্ডার সাথে পার্শ্ব ভূমিকায় অভিনয় করেন। প্রেমিঞ্জারের সাথে তিনি দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়ায় ডানাওয়ের জন্য এই চলচ্চিত্রে কাজ করা কষ্টকর হয়ে ওঠে, কারণ তিনি অনুভব করতে শুরু করেন যে প্রেমিঞ্জার "অভিনয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানেন না।"[৪] প্রেমিঞ্জারের এই চলচ্চিত্রটি সমালোচনামূলকভাবে বা বক্স অফিসে সফলতা অর্জন করতে পারেনি, তবে ডানাওয়ে বর্ষসেরা নবীন অভিনেত্রী বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।

ডানাওয়ে পরিচালক আর্থার পেন যখন দ্য চেজ (১৯৬৬) চলচ্চিত্র পরিচালনা করছিলেন তখন তার সাথে সাক্ষাৎকারের চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিনয়শিল্পী নির্বাচনকারী পরিচালক মনে করেন তিনি এই চলচ্চিত্রের জন্য সঠিক নির্বাচন নয় তাই তাকে উপেক্ষা করেন।[৫] পেন যখন দ্য হ্যাপেনিং চলচ্চিত্রের মুক্তির পূর্বে তার অভিনীত দৃশ্যগুলো দেখেন তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন তাকে তার পরবর্তী চলচ্চিত্র বনি অ্যান্ড ক্লাইড-এ ব্যাংক ডাকাত বনি পার্কার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিবেন। বনি চরিত্রের জন্য অভিনয়শিল্পী নির্বাচন কষ্টসাধ্য ছিল এবং অনেক অভিনেত্রীকেই এই চরিত্রের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল, তন্মধ্যে রয়েছেন জেন ফন্ডা, টিউজডে ওয়েল্ড, অ্যান-মার্গরেট, ক্যারল লিনলি, লেসলি ক্যারনন্যাটালি উড। পেন ডানাওয়েকে পছন্দ করেছিলেন এবং অভিনেতা ও প্রযোজক ওয়ারেন বেটিকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে তিনিই এই চরিত্রের জন্য সঠিক পছন্দ। ডানাওয়ে এই চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময়ে পেয়েছিলেন এবং যখন তাকে বলা হয়েছিল মন্দাকালীন চেহারা নিয়ে আসতে তাকে ওজন কমাতে হবে, তিনি খাদ্যতালিকা সীমাবদ্ধ করে দেন, খাবার বন্ধ করে দেন এবং ত্রিশ পাউন্ড ওজন কমান।[৬]

চলচ্চিত্রটি ১০টি বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করে এবং ডানাওয়ে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তার প্রথম একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এছাড়া তিনি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নবাগত বিভাগে বাফটা পুরস্কারশ্রেষ্ঠ বিদেশি অভিনেত্রী বিভাগে দাভিদ দি দোনাতেল্লো অর্জন করেন।[৭]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Faye Dunaway"বায়োগ্রাফি (ইংরেজি ভাষায়)। এঅ্যান্ডই টেলিভিশন নেটওয়ার্কস। ৩১ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯ 
  2. "Current Biography Yearbook, Volume 33"। এইচ. ডব্লিউ. উইলসন কোং। ১৯৭৩। Original from the University of Virginia।
  3. জন্স, স্টেফানি বার্নার্ডো (১৯৮১)। "The Ethnic Almanac'. Stephanie Bernardo Johns"। ডাবলডে। পৃ. ৪৪৫। আইএসবিএন ০-৩৮৫-১৪১৪৩-২, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৮৫-১৪১৪৩-৭
  4. ডানাওয়ে ১৯৯৫, পৃ. ১১২।
  5. ডানাওয়ে ১৯৯৫, পৃ. ১২০।
  6. ডানাওয়ে ১৯৯৫, পৃ. ৫৮।
  7. ডানাওয়ে ১৯৯৫, পৃ. ১৪২।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা