ফিলিপাইন–সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক

ফিলিপাইন ও সুইজারল্যান্ড রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

ফিলিপাইন–সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক হল ফিলিপাইন এবং সুইজারল্যান্ড রাষ্ট্রদ্বয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কবার্নে অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডে ফিলিপাইন নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করছে, আর ম্যানিলাতে অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ড ফিলিপাইনে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করছে।

ফিলিপাইন–সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক
মানচিত্র Philippines এবং Switzerland অবস্থান নির্দেশ করছে

ফিলিপাইন

সুইজারল্যান্ড

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসম্পাদনা

১৮০০ সালের দিকেও ফিলিপাইন এবং সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়। তখন সুইস ব্যবসায়ী, মিশনারি এবং ভ্রমণকারীরা পূর্ব এশিয়া ঘুরে বেড়াতেন। ১৮৫১ সালে ফিলিপাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে সুইস প্রতিনিধিত্ব চালু করার কথা প্রথম ভাবে সুইস ফেডারেল কাউন্সিল।[১] ১৮৬২ সালের মার্চ মাসে সুইস সরকার ফিলিপাইনে পুরো এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করে। এক মাস পর ম্যানিলাতে সুইস কনস্যুলেট চালু হয়। পিটার জেনির নির্দেশনায় ফিলিপাইনে সুইজারল্যান্ডের প্রথম কনস্যুল জেনারেল চালুর মাধ্যমে এ দুই দেশের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক যাত্রা শুরু করে।[২]

৪ জুলাই, ১৯৪৬ সালে সুইজারল্যান্ড ফিলিপাইনকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৫৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।[৩]

অর্থনৈতিক সম্পর্কসম্পাদনা

সুইজারল্যান্ডের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে, কারণ ফিলিপাইনের প্রথম সারির দশটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হল ৬০টি সুইস কোম্পানি, যা মোট ১৫,০০০ ফিলিপিনোকে চাকরি দেয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণপুর্ব অঞ্চলে অবস্থিত।[২][৩] ভিয়েতনামের লাওসে ৯ম এশিয়া-ইউরোপ বৈঠক চলাকালীন ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি বেনিঙ্গো তৃতীয় অ্যাকুইনো এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি এভালিন উইডমের-স্কালাম্ফ সাক্ষাৎ করেন, যেখানে ফিলিপাইন ও সুইজারল্যান্ডের পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ব্যাপারে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ দুই নেতা ফিলিপাইন–সুইজারল্যান্ড একত্রিত অর্থনৈতিক সংস্থা গঠনের ব্যাপারেও সম্মত হন। এ সংস্থার মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।[৪]

অন্যান্যসম্পাদনা

ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত মারিয়া থেরেসা ল্যাজারো সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত ফিলিপিনো নারীদের অবস্থার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাজে অংশগ্রহণ করেন এবং সেইসাথে সমান্তরাল সমর্থনের মাধ্যমে সুইস সমাজকে একত্রিতও করেন। সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত ফিলিপিনোদের সংখ্যার কথা চিন্তা করে ল্যাজারো মনে করেন সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রবেশ করার সময় এসে গেছে। সেইসাথে তিনি মনোবিদদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আত্মসম্মান, নেতৃত্ব ও দল-গঠন প্রভৃতি বিষয়ের উপরে সেমিনারেরর আয়োজনও করেন।[৫] সুইস পরিচালক থমাস লুচিঙ্গার-দে ক্লার্ক লুমিনাওয়া নামক প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত কলিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর দ্বিতীয় প্রজন্মের পরিচয় সন্ধানের ব্যাপারে আলোচনা করেন।[৬]

অভিবাসনসম্পাদনা

২০০৭ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেখানে সুইজারল্যান্ডে প্রায় ফিলিপিনো বসবাস করেন।[৭] ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফিলিপাইনে প্রায় ৩,১৪০ সুইস বসবাস করেন।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "150 years of Philippines-Switzerland Relations"Philippine Trivia। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৬ 
  2. "Philippine-Swiss relations historical and special"ম্যানিলা টাইমস। জুলাই ১৫, ২০১১। ২১ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৬ 
  3. "Bilateral relations Switzerland–Philippines"। Switzerland: Federal Department of Foreign Affairs FDFA। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  4. "PH, Switzerland eye intensified trade relations at ASEM"ইনকোয়্যারার গ্লোবাল ন্যাশন। নভেম্বর ৬, ২০১২। 
  5. Eviota, Brady (২০০৯-১০-০৯), "Filipino women aim to raise status of Pinays in Switzerland", এবিএস-সিবিএন নিউজ, সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-১১ 
  6. "Pinoy docu film 'Luminawa' captivates Swiss audience", GMA News, ২০১২-০৩-১৬, সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-১১ 
  7. "Overseas Filipinos in Switzerland", Backgrounder: Switzerland, ম্যানিলা: Office of the Press Secretary, ২০০৭, ৭ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১০-২৩ 

টেমপ্লেট:ফিলিপাইনের বৈদেশিক সম্পর্ক টেমপ্লেট:সুইজারল্যান্ডের বৈদেশিক সম্পর্ক