প্রশান্তকুমার পাল

প্রশান্তকুমার পাল (১৮ মে ১৯৩৮ - ২৬ নভেম্বর, ২০০৭) ছিলেন একজন রবীন্দ্রজীবনীকার। [১]

প্রশান্তকুমার পাল
জন্ম(১৯৩৮-০৫-১৮)১৮ মে ১৯৩৮
মৃত্যু২৬ নভেম্বর ২০০৭(2007-11-26) (বয়স ৬৯)
মাতৃশিক্ষায়তনপ্রেসিডেন্সি কলেজ
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাবিশ্বভারতীর অধ্যাপক ও প্রখ্যাত রবীন্দ্রজীবনীকার
পিতা-মাতামদনমোহন পাল (পিতা)
বীণাপাণি দেবী (মাতা)
পুরস্কারআনন্দ পুরস্কার
নরসিংহদাস পুরস্কার (১৯৮৫)
রবীন্দ্র পুরস্কার(২০০১)
ওয়েবসাইটprasantakumarpaul.com

জন্ম ও শিক্ষা জীবনসম্পাদনা

প্রশান্তকুমার পালের জন্ম ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই মে (৩রা জ্যেষ্ঠ, ১৩৪৫ বঙ্গাব্দ) অবিভক্ত বাংলার অধুনা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় তবে তার শৈশব কেটেছে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে পড়াশোনা কলকাতার স্কুল-কলেজে। স্কটিশচার্চ কলেজিয়েট স্কুল থেকে স্কুল ফাইনাল পাশ করে, ভরতি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় অনার্স নিয়ে বি.এ পাশ করে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ পাশ করেন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

এম.এ পাশের পর তিনি ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার আনন্দমোহন কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। অধ্যাপনা করতে করতে রবীন্দ্রজীবনের বিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে ধারাবাহিক ভাবে রবীন্দ্ররচনা পড়তে গিয়ে পাঠ্যসূচির রূপরেখায় অসঙ্গতি, সাল তারিখ নিয়ে নানান বিভ্রান্তি অনুভব করেন। [২] তিনি মনে করেন রবীন্দ্রজীবনের এক বিশাল অংশ তমসাবৃত অবস্থায় রয়েছে। উৎসাহী হয়ে শুরু করেন গবেষণা ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ হতে। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দেই প্রকাশিত হয় রবিজীবনী(১২৬৮-৮৪)-র প্রথম খণ্ড এবং প্রকাশমাত্রই সর্বস্তরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত দ্বিতীয় খণ্ড একইভাবে সমাদৃত হয়। রবিজীবনীর প্রথম থেকে নবম খন্ডে আলোচিত হয়েছে রবীন্দ্র-জীবনের পঁয়ষট্টি বছর (১৮৬১-১৯২৬ খ্রি.)। রবিজীবনীর জন্য অধ্যাপক প্রশান্তকুমার পাল খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।

প্রশান্তকুমার পালের রবিজীবনী-র গুরুত্ব স্বীকার করে বুদ্ধদেব বসু লিখেছেন-

" একজন অমৃতপুত্রকে আমরা তথনই আবার সহজভাবে তাঁর মর্ত্য-রূপে ভাবতে পারি, যখন সময়ের ব্যবধানে অনেক অবান্তর সঞ্চয় ঝরে পড়ে, আবার সমস্ত তথ্য প্রকাশিত হবারও বাধা থাকে না। রবীন্দ্রনাথকে তাই অপেক্ষা করতে হবে হয়তো দীর্ঘকাল - অন্তত যতদিন না রবীন্দ্রজীবনী পরিবর্ধিত হবার পরেও নতুনতর তথ্য নিয়ে অনুরূপ গ্রন্থ আরও বেরোয়।"

[৩]

বাংলা সাহিত্যে তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে আনন্দবাজার গোষ্ঠীর সুরেশচন্দ্র- স্মৃতি আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ওই বছরেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ নরসিংহদাস পুরস্কার প্রদান করে।

অধ্যাপক প্রশান্তকুমার পালের রবিজীবনী ছাড়া অন্য রচিত গ্রন্থ হল-

  • পারিবারিক স্মৃতিলিপি পুস্তক
  • কল্যাণীয়েষু প্রশান্ত ( রবীন্দ্রনাথ-প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের পত্র বিনিময়) সম্পাদিত গ্রন্থ।

বিশ্বভারতীতে আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর প্রবর্তিত অশোককুমার সরকার স্মৃতি-বৃত্তির প্রথম প্রাপক হিসাবে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ হতে তিন বৎসর রবীন্দ্রভবনে গবেষণার কাজ করেন তিনি।

জীবনাবসানসম্পাদনা

শেষজীবনে অধ্যাপক পাল শান্তিনিকেতনে বসবাস করতে থাকেন, কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন গলায় ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। শেষে অত্যন্ত অসুস্থ হলে পড়লে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে নভেম্বর পরলোক গমন করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯ পৃষ্ঠা ২৩৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  2. "Interview - Prasanta Kumar Pal"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-১৬ 
  3. প্রশান্তকুমার পাল রচিত, আনন্দ পাবলিশার্স কলকাতা প্রকাশিত', প্রথম খণ্ড আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭২১৫-২৭৪-১