পুত্র ঈশ্বর (গ্রিক: Θεὸς ὁ υἱός; থিওস ও য়োস, লাতিন: Deus Filius; দিউস ফিলিউস) হলেন খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বে ত্রিত্ববাদের দ্বিতীয় চরিত্র।[১] ত্রিত্ব মতবাদে যীশুকে দেখা হয় ঈশ্বরের অবতার হিসেবে, যারা সারবস্তুতে একতাবদ্ধ (সমসংহত) কিন্তু পিতা ঈশ্বর এবং পবিত্র আত্মা ঈশ্বরের (ত্রিত্বের প্রথম এবং তৃতীয় ব্যক্তি) বিষয়ে সত্ত্বাগতভাবে স্বতন্ত্র।

সিসিলির মনরেয়ালে বাইজেন্টাইন মোজাইকে আঁকা চিত্রকর্ম সৃষ্টির পর ঈশ্বরের বিশ্রাম — যেখানে খ্রীষ্টকে ঈশ্বর হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

উৎসসম্পাদনা

"পুত্র ঈশ্বর" বাক্যাংশটি বাইবেলে পাওয়া যায় না,[২][৩] তবে পরবর্তী খ্রিস্টান উৎসগুলিতে পাওয়া যায়।[৪] মুদ্রক দোষের কারণে একটিমাত্র মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি পাওয়া যায়, MS No.1985, যেখানে গালাতীয় ২:২০-এ "ঈশ্বরের পুত্র" এর পরিবর্তে হয়েছে "পুত্র ঈশ্বর"। [৫]

ইংরেজি শব্দটি ল্যাটিন ব্যবহারের অনুসরণে এসেছে যেমনটি অ্যাথানাসিয়ান মতবাদ এবং প্রাচীন চার্চের অন্যান্য গ্রন্থে পাওয়া যায়: গ্রিক ভাষায় "পুত্র ঈশ্বর" শব্দটির রূপ হল হো থিওস হো হুইওস (ὁ Θεόςυἱός), যা কর্তা পদ হো হুইওস , সম্বন্ধপদ তঔ থিউ, υἱός τοῦ Θεοῦ, "ঈশ্বরের পুত্র" থেকে ভিন্ন স্বতন্ত্র। ল্যাটিন ভাষায় "পুত্র ঈশ্বর" এর জন্য ব্যবহৃত পরিভাষাটি হল Deus (কর্তৃপদ) ফিলিউস (কর্তৃপদ)। দিউস ফিলিউস শব্দটি অ্যাথানাসিয়ান মতবাদে পাওয়া যায়, যথা: "Et tamen non tres omnipotentes, sed unus omnipotens. Ita Deus Pater, Deus Filius, Deus [et] Spiritus Sanctus" (যা "ঈশ্বরের পুত্র" সম্বন্ধপদ ফিলিউস দেই থেকে আলাদা), কিন্তু এই বাক্যাংশটিরও অনুবাদ করা হয়েছে এভাবে "সুতরাং পিতা হলেন ঈশ্বর: পুত্র হলেন ঈশ্বর: এবং পবিত্র ভূত হলেন ঈশ্বর"।[৬]

ব্যবহারসম্পাদনা

শব্দটি সেন্ট অগাস্টিন কর্তৃক তার অন দ্য ট্রিনিটিতে ব্যবহৃত হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ পিতা ঈশ্বরের প্রতি পুত্রের আনুগত্যের আলোচনায়: দেও পাত্রি দেউস ফিলিউস ওবেদিয়েন্স[৭] এবং নিউ টেস্টামেন্টের ধর্মোপদেশ ৯০-এ "। এই দৃঢ় এবং প্রতিষ্ঠিত সত্যের মত হিসাবে মানতে হলে, যদি আপনি ক্যাথলিক হন, তাহলে বিশ্বাস করতে হবে, সেই পিতা ঈশ্বর সময়ের উর্ধ্বে পুত্র ঈশ্বরকে জন্ম দিয়েছিলেন এবং সময়মতো তাকে কুমারীর গর্ভে স্থানান্তর করেছেন।"[৮]

অগসবার্গ স্বীকারোক্তি (১৫৩০) শব্দগুচ্ছটিকেগট দের সোহন হিসাবে গ্রহণ করে।[৯]

জ্যাক ফরগেট (১৯১০) ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া নিবন্ধ "পবিত্র ভূত" এ উল্লেখ করেন যে, "অফিলজিস্টদের মধ্যে, এথেনাগোরাস পিতা ও পুত্রের বরাবরে এবং একই তলে পবিত্র আত্মাকে উল্লেখ করেছেন৷ 'কেই বা বিস্মিত হতেন না', তিনি আরো বলেন, (খ্রিস্টানদের জন্য একটি আবেদন কিতাবে 10), 'আমাদেরকে শুনতে হয় যে আমরা নাকি নাস্তিক, সেই আমরা যারা পিতা ঈশ্বর, পুত্র ঈশ্বর এবং পবিত্র আত্মাতে স্বীকার করি এবং আমরা তাদেরকে ক্ষমতাগত একক এবং হুকুমগত ভিন্ন মানি।' " [১০]

নববিধানসম্পাদনা

"ঈশ্বরের পুত্র" শব্দটি মার্কের গসপেল 1:1 অনুচ্ছেদের শুরুতে এবং ১৫তম অধ্যায় ৩৯তম শ্লোকের শেষের দিকে যীশুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ম্যাক্স বোটনার লিখেছেন, "প্রকৃতপক্ষে, যদি মার্ক ১:১ যীশুর পরিচয়ের "নিয়মাত্মক মাফহুম" উপস্থাপন করে, তাহলে পাঠ্যে যা রয়েছে তা একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নির্ণয় করে"।[১১]

যোহন ১:১-এর লোগোস (কালেমা) পরিভাষাটি প্রায়শই ব্যাখ্যা করা হয় এর সাথে প্রাক-অস্তিত্বশীল যীশুকে চিহ্নিত করার জন্য, বিশেষ করে ত্রিত্ববাদীরা।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

বিতর্কিত কমা জোহানিয়াম (১ যোহন ৫:৭) শ্লোকে পুত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে: "কেননা স্বর্গে তিনজন সাক্ষ্য দেয়: পিতা, কালেমা এবং পবিত্র আত্মা; এবং এই তিনটি এক।" [১২]

খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যে যীশু হলেন ঈশ্বরের একমাত্র জন্মদান করা পুত্র (যোহন ৩:১৬)।[১৩] যীশু নিউ টেস্টামেন্ট ক্যানোনিকাল লেখায় নিজেকে চিহ্নিত করেছেন। "যীশু তাদের বললেন, 'অবশ্যই, আমি তোমাদের বলছি, আব্রাহাম যখন ছিল, তার পূর্বে আমিই আছি৷' " (যোহন ৮:৫৮),[১৪] যাকে কিছু ত্রিত্ববাদীরা বিশ্বাস করেন যে, এভাবে মূসাকেও উল্লেখ করা হয়েছে ওল্ড টেস্টামেন্টে পূর্বজন্মপ্রাপ্ত ঈশ্বরের সাথে তার মিথস্ক্রিয়ায়।  "এবং ঈশ্বর মূসাকে বললেন, 'আমি যে-ই সে-ই।' আর তিনি বললেন, 'এইভাবে তুমি ইস্রায়েল-সন্তানদের বলবে, 'আমিই আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি৷' "[যাত্রাপুস্তক ৩:১৪] [১৫]

যোহন ১:১৮-এ একটি পাণ্ডুলিপির ভিন্নরূপ (Θεὸν οὐδεὶς ἑώρακεν πώποτε· μονογενὴς Θεὸς ὁ ὢν εἰς τὸν κόλπον τοῦ Πατρὸς, ἐκεῖνος ἐξηγήσατο) এর কারণে পুত্রকে উল্লেখ করতে গিয়ে "এক ও একমাত্র ঈশ্বর" (NIV, 1984) অনুবাদ করা হয়েছে (NIV, 1984)।[১৬]

এই অভিব্যক্তিটির পরবর্তী ধর্মতাত্ত্বিক ব্যবহার (ল্যাটিন: Deus Filius তুলনা করুন) নিউ টেস্টামেন্টের রেফারেন্সগুলির আদর্শ ব্যাখ্যা হিসাবে আসা ব্যাখ্যাগুলিকে প্রতিফলিত করে যা যিশুর দেবত্বকে বোঝাতে প্রতীত, তবে পিতা নামক ট্রিনিটির অন্য একজন ব্যক্তির থেকে তার ব্যক্তির পার্থক্যসহ। যেমন,উপাধিটি ত্রিত্বের মতবাদের বিকাশের সাথে আরও বেশি জড়িত। ত্রিত্ববাদীরা বিশ্বাস করেন যে Matthew 28:19 এ ত্রিত্বের একটি স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়, "অতএব, যাও এবং সমস্ত জাতি থেকে শিষ্য বানাও, তাদের পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মার নামে বাপ্তিস্ম দাও।"

মতদ্বৈধিক রায়সম্পাদনা

ত্রিত্ববাদী এবং ত্রিত্ববিরোধীতাবাদী খ্রিস্টান উভয়ের দলই যীশু খ্রীষ্টকে বর্ণনা করার জন্য 'পুত্র ঈশ্বর' শব্দটিকে প্রত্যাখ্যান করে (পাশাপাশি পবিত্র আত্মাকে বর্ণনা করার জন্য 'পবিত্র আত্মা ঈশ্বর' শব্দটিকেও)। যিহোবার সাক্ষীরা খ্রিস্টের দেবতার সাথে 'ট্রিনিটি' শব্দটিকে বাইবেল বহির্ভূত পরিভাষা হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান করে। তবুও, একাত্বতা অর্ঘ্যসমাজ, যারা যীশুর দৈবত্ব মানে, তারা এই শব্দটিকে ধর্মগ্রন্থের ভাষার অননুমোদিত বিপরীত হিসাবে আপত্তি করে থাকে যেখানে তা ৪০ বার "ঈশ্বরের পুত্র" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।[১৭][১৮] চার্চ অফ খ্রিস্ট, যারা দেবতা এবং ত্রিত্ব মতবাদ উভয়ই গ্রহণ করে, তারাও এই "পুত্র ঈশ্বর" শব্দটিকে এড়িয়ে যায়, কারণ তারা 'বাইবেলের বিষয়গুলিকে বাইবেলের নাম দিয়ে ডাকার এবং বাইবেলের উপায়ে কথা বলার' উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। [১৯]

আরো দেখুনসম্পাদনা

 
ত্রিত্বের একটি রূপায়ণ

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Gilles Emery (২০১১)। The Trinity: An Introduction to Catholic Doctrine on the Triune God। Catholic University of America Press। আইএসবিএন 978-0-8132-1864-9 
  2. Burnap, George Washington (১৮৪৫)। Expository lectures on the principal passages of the Scriptures which relate। James Munroe and Company। পৃষ্ঠা 19। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০১-১৮ 
  3. Rhodes, Ron (২০০১)। The Challenge of the Cults and New Religions: The Essential Guide to Their History, Their Doctrine, and Our ResponseZondervan। পৃষ্ঠা 258। আইএসবিএন 0310232171। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০১-১৮ 
  4. Hick, John (১৯৯৩)। The Metaphor of God Incarnate: Christology in a Pluralistic Age (2nd সংস্করণ)। Westminster John Knox Press। পৃষ্ঠা 31। আইএসবিএন 0664230377। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০১-১৮ 
  5. Ehrman, Bart D. (১৯৯৩)। The Orthodox Corruption of Scripture: The Effect of Early Christological Controversies On The Text of The New TestamentOxford University Press। পৃষ্ঠা 86। আইএসবিএন 9780195102796। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০১-১৮ 
  6. Philip Schaff (1877b), The Creeds of Christendom.
  7. Luigi Gioia The theological epistemology of Augustine's De Trinitate 2008 "... the obedience of Christ on the cross is the obedience of God the Son to God the Father: 'what greater example of obedience' ... exemplum qui per inobedientiam perieramus quam deo patri deus filius obediens usque ad mortem crucis?"
  8. MacMullen translation 1888 http://www.newadvent.org/fathers/160390.htm
  9. The Augsburg Confession: a commentary Leif Grane, John H. Rasmussen – 1987 "GT: "Dass Gott der Sohn sei Mensch worden, geborn aus der reinen Jungfrauen Maria" (that God the Son became man, born of the virgin Mary)."
  10. Jacques Forget (1910) in the Catholic Encyclopedia article "Holy Ghost"
  11. Botner, Max (জুলাই ২০১৫)। "The Role of Transcriptional Probability in the Text-Critical Debateon Mark 1:1": 468, 467–480। 
  12. "1 John 5:7"Biblia.com। Faithlife। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৭ 
  13. "John 3:16 | The New King James Version"Biblia। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৬-২১ 
  14. "John 8:58 | The New King James Version"Biblia। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৬-২১ 
  15. "Exodus 3:14 | The New King James Version"Biblia। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৬-২১ 
  16. "John 1:18 No one has ever seen God, but the one and only Son, who is himself God and is in closest relationship with the Father, has made him known."bible.cc 
  17. Son of God: The Title Son of God Affirms Jesus Christ's Divine Nature
  18. Jesus is the Son of God; not God the Son
  19. New Philadelphia Church of Christ

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

টেমপ্লেট:খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ব