পানাম নগর নারায়ণগঞ্জ জেলার, সোনারগাঁতে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর -প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়।[১] এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। সোনারগাঁর ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নগরী গড়ে ওঠে।[২]

পানাম নগরীর পুরাতাত্ত্বিক ঐতিহ্যবহ দালান কাশীনাথ ভবন সন-১৩০৫

অবস্থানসম্পাদনা

 
পানাম নগরের প্রধান সড়ক ও দুপাশের ভবন

সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর থেকে উত্তর দিকে[৩] হাঁটাপথেই পৌঁছানো যায় অর্ধ্বচন্দ্রাকৃতি পানাম পুলে। (যদিও পুলটি ধ্বংস হয়ে গেছে)। পুলটির দৈর্ঘ্য ছিলো ৭২ ফুট আর প্রস্থ ছিলো ১৫.৫ ফুট[৪], মাঝখানটা ছিলো উঁচু। এই পুল পেরিয়েই পানাম নগর এবং নগরী চিরে চলে যাওয়া পানাম সড়ক। আর সড়কের দুপাশে সারি সারি আবাসিক একতলা ও দ্বিতল বাড়িতে ভরপুর পানাম নগর।[১]

ইতিহাসসম্পাদনা

 
পানাম নগরে টিকে থাকা ভবনের অবশেষ

১৫ শতকে ঈসা খাঁ বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন সোনাগাঁওয়ে। পূর্বে মেঘনা আর পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদীপথে বিলেত থেকে আসতো বিলাতি থানকাপড়, দেশ থেকে যেতো মসলিন। শীতলক্ষ্যা আর মেঘনার ঘাটে প্রতিদিনই ভিড়তো পালতোলা নৌকা। প্রায় ঐসময়ই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে ইউরোপীয় অনুপ্রেরণায় নতুন ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতিতে গড়ে উঠে পানাম নগরী।[৪] পরবর্তিতে এই পোশাক বাণিজ্যের স্থান দখল করে নেয় নীল বাণিজ্য। ইংরেজরা এখানে বসিয়েছিলেন নীলের বাণিজ্যকেন্দ্র।[১]

ডব্লিউ. ডব্লিউ. হান্টার-এর অভিমত হলো, সুলতানী আমলে পানাম ছিলো সোনারগাঁর রাজধানী। কিন্তু পানামে, সুলতানী আমলের তেমন কোনো স্থাপত্য নজরে পড়ে না, তাই এই দাবিটির সত্যতা ঠিক প্রমাণিত নয়। এক্ষেত্রে জেম্‌স টেলর বলেছেন, সোনারগাঁর প্রাচীন শহর ছিলো পানাম। এই তত্ত্বটির সাথে বাস্তবের কোনো বিরোধ নেই। শহরটিতে ঔপনিবেশিক ধাঁচের দোতলা এবং একতলা বাড়ি রয়েছে প্রচুর। যার বেশিরভাগ বাড়িই ঊনবিংশ শতাব্দির (১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দের নামফলক রয়েছে)। মূলত পানাম ছিলো বাংলার সে সময়কার ধনী ব্যবসায়ীদের বসতক্ষেত্র। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ছিলো ঢাকা-কলকাতা জুড়ে। তারাই গড়ে তোলেন এই নগর।[১]

১৬১১ খ্রিষ্টাব্দে মোঘলদের সোনারগাঁ অধিকারের পর সড়ক ও সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানী শহরের সাথে পানাম এলাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়। পানাম পুল (বিলুপ্ত), দুলালপুর পুল ও পানামনগর সেতুর অবস্থান ও তিনদিকের খাল-বেষ্টনী থেকে বোঝা যায় পানাম, সোনারগাঁর একটা উপশহর ছিলো।[৪]

বাংলার স্বাধীন রাজা ঈসা খাঁর পদচারণা ছিলো এই নগরীতে। সুলতানী আমল থেকে এখানে বিকশিত ছিলো বাংলার সংস্কৃতি।[১]

বিবরণসম্পাদনা

 
রাস্তার দুপাশে পানামের ভবন।

পানামের টিকে থাকা বাড়িগুলোর মধ্যে ৫২টি বাড়ি উল্লেখযোগ্য।[১] পানাম সড়কের উত্তর পাশে ৩১টি আর দক্ষিণ পাশে ২১টি বাড়ি রয়েছে। বাড়িগুলোর অধিকাংশই আয়তাকার, উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত, উচ্চতা একতলা থেকে তিনতলা।[৪] বাড়িগুলোর স্থাপত্যে ঔপনিবেশিকতা ছাড়াও মোঘল, গ্রিক এবং গান্ধারা স্থাপত্যশৈলীর সাথে স্থানীয় কারিগরদের শিল্পকুশলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়। প্রতিটি বাড়িই ব্যবহারোপযোগিতা, কারুকাজ, রঙের ব্যবহার, এবং নির্মাণকৌশলের দিক দিয়ে উদ্ভাবনী কুশলতায় ভরপুর।[১] ইটের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ঢালাই-লোহার তৈরি ব্র্যাকেট, ভেন্টিলেটর আর জানালার গ্রিল। মেঝেতে রয়েছে লাল, সাদা, কালো মোজাইকের কারুকাজ। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই খিলান ও ছাদের মধ্যবর্তী স্থানে নীল ও সাদা ছাপ দেখা যায়।[৪] এছাড়া বাড়িগুলোতে নকশা ও কাস্ট আয়রনের কাজ নিখুঁত। কাস্ট আয়রনের এই কাজগুলো ইউরোপের কাজের সমতূল্য বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এর সাথে আছে সিরামিক টাইল‌্‌সের রূপায়ণ। প্রতিটি বাড়িই অন্দরবাটি এবং বহির্বাটি -এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। বেশিরভাগ বাড়ির চারদিকের ঘেরাটোপের ভিতর আছে উন্মুক্ত উঠান।[১]

পানাম নগরীর পরিকল্পনাও নিখুঁত। নগরীর পানি সরবাহের জন্য দুপাশে ২টি খাল ও ৫টি পুকুর আছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আছে কুয়া বা কূপ। নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে করা হয়েছে খালের দিকে ঢালু। প্রতিটি বাড়ি পরস্পর থেকে সম্মানজনক দূরত্বে রয়েছে। নগরীর যাতায়াতের জন্য রয়েছে এর একমাত্র রাস্তা, যা এই নগরীর মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে এপাশ-ওপাশ।[১]

নগরীর ভিতরে আবাসিক ভবন ছাড়াও আছে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মঠ, গোসলখানা, নাচঘর, পান্থশালা, চিত্রশালা, খাজাঞ্চিখানা, দরবার কক্ষ, গুপ্ত পথ, বিচারালয়, পুরনো জাদুঘর। এছাড়া আছে ৪০০ বছরের পুরোন টাঁকশাল বাড়ি। সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর থেকে পশ্চিম দিকে রয়েছে গোয়ালদী হোসেন শাহী মসজিদ। এ মসজিদটি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহীর শাসনামলে নির্মিত হয়। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে একটু দক্ষিণ দিকে গেলে রয়েছে আরো কিছু ইমারত, বারো আউলিয়ার মাজার, হযরত শাহ ইব্রাহিম দানিশ মন্দা ও তার বংশধরদের মাজার, দমদম গ্রামে অবস্থিত দমদমদুর্গ ইত্যাদি।[৩] এছাড়াও নগরীর আশেপাশে ছড়িয়ে আছে ঈসা খাঁ ও তার ছেলে মুসা খাঁর প্রমোদ ভবন, ফতেহ শাহের মসজিদ, সোনাকান্দা দুর্গ, পঞ্চপীরের মাজার, কদম রসুল, চিলেকোঠাসহ বহু পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্ববহ স্থাপনা।[১]

নীলকুঠিসম্পাদনা

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নীলচাষের নির্মম ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে পানামের নীলকুঠি। পানাম পুলের কাছে দুলালপুর সড়কের পাশেই এর অবস্থান। জানা যায়, শুরুতে এটি কোম্পানীর মসলিন বস্ত্র ক্রয়কেন্দ্রের দপ্তর ভবন হলেও পরে কুঠিটি নীল ব্যবসাকেন্দ্র হয়ে ওঠে। যদিও বর্তমানে (২০০৪) নীলকুঠির মূল রূপ ঢাকা পড়ে গেছে নতুন করে করা পলেস্তারার নিচে।[৪]

পানাম-দুলালপুর পুলসম্পাদনা

পঙ্খীরাজ খালের ওপর ১৭ শতকে এই পুলটি নির্মিত হয়েছিলো, যা আমিনপুর ও দুলালপুর গ্রামের সংযোগ রক্ষা করছে। তিনটি খিলানের উপর পুলটি স্থাপিত। পুলের নিচ দিয়ে পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের সুবিধা দিতে মাঝখানের খিলানটি কিছুটা উঁচু করে বানানো। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে পুলটিতে সংস্কারকাজ চালানো হয়।[১]

উল্লেখযোগ্য ঘটনাসম্পাদনা

 
পানাম নগর

একবার পারস্যের খ্যাতিমান কবি হাফিজ-কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তৎকালীন বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ। বৃদ্ধ কবি হাফিজ সে আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আসতে না পেরে একটা গজল রচনা করে উপহার পাঠান সুলতানকে। এই গজলের সূত্র ধরেই ফার্সি এক পর্যটক এসেছিলেন সোনারগাঁ-তে, আর মুগ্ধ হয়েছিলেন পানাম নগরীর সৌন্দর্য্য দেখে।[১]

অবক্ষয়সম্পাদনা

 
একটি ধ্বংসপ্রায় ভবনের ভিতরের দৃশ্য

মধ্যযুগে সোনারগাঁ বাংলার রাজধানী হওয়ার পর থেকে পানাম নগর ব্যাপক উৎকর্ষ লাভ করে। কিন্তু বৃটিশরা বাংলার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে এখানকার সম্ভ্রান্ত মুসলিমরা ব্রিটিশদের সঙ্গে অসহযোগীতা করায় বৃটিশরা এখানকার বাসিন্দাদের প্রভাব প্রতিপত্তি কমানোর উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে তারা এখানে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের (শুধুমাত্র যারা ব্রিটিশদের সঙ্গে সহায়তা করে) পুনবার্সণ শুরু করে। ফলে এখানে ক্রমে হিন্দু ব্যবসায়ীদের অবস্থান তৈরি হয়। একই সঙ্গে অতীতে বসবাসকারী অনেক ব্যবসায়ী যারা ব্রিটিশদের সঙ্গে সহায়তা করেনি তারা ক্রমে এ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। ফলে পানাম নগরের বিস্তির্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভেঙে ফেলা হয় অনেক বাড়িঘর। এভাবে পানাম নগরের বিস্তির্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়। বর্তমানে পানাম নগরে রাস্তার দুইধারে পুরানো যেসব ভবন দেখা যায় তা মূলত ব্রিটিশদের সহায়তায় গড়ে উঠা উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দির হিন্দু উচ্চ বর্ণের ব্যবসায়ীদের তৈরি। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর এসব ব্যবসায়ীদের প্রতিপত্তিও হ্রাস পায়। ফলে ভবনগুলো ক্রমে পরিত্যক্ত হতে থাকে। ফলে আস্তে আস্তে তা আশপাশের লোক দ্বারা দখল হতে থাকে। ২০০৯ সালে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে পানাম নগরীকে সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার (১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের) আগে ও পরে বাড়িগুলো ১০-১৫ বছরের ইজারা দেয়া হয় এবং পরে নবায়নও করা হয়।[৪] মূল বাসিন্দাদের অবর্তমানে বাড়িগুলো অযত্নে ক্ষয়ে যেতে থাকে। ফলে বর্তমানে (২০০৪) আর ইজারা নবায়ন করা হয় না।

পানাম নগরের মূল প্রবেশ পথের ছোট্ট খালটির উপরে একটি সেতু ছিলো, যার কোনো অস্তিত্ব আর অবশিষ্ট নেই।[৪] অযত্ন আর অবহেলায় পানাম নগরের বাড়িঘরগুলোতে শ্যাওলা ধরেছে, ভেতরের পরিবেশটা স্যাঁতস্যাঁতে, গুমোট। বাড়িগুলোর দেয়ালে গজাচ্ছে গাছপালা, অনেক বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেছে গাছের শিকড়। অনেক ঘরের চৌকাঠ ও রেলিং খুলে পড়েছে। চুরি হচ্ছে কড়িকাঠ ও তক্তা। ফলে বিভিন্ন সময় বাড়িগুলোর ছাদ ধ্বসে পড়ছে, ভেঙ্গে পড়ছে সিঁড়ি ও দেয়াল। পরিত্যক্ত এসব বাড়িগুলোর অনেকগুলোতে মানুষ কিংবা পশু-পাখি মলমূত্র ত্যাগ করে থাকে।[১] অনেক বাড়িরই সিরামিক টাইল্‌সে ভাঙ্গন ধরেছে, খিলানে ধরেছে মরিচা। কোনো কোনো বাড়ির কার্ণিশে গজিয়েছে আগাছা।[৪] এমনকি ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে দুটো বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বসে পড়ে।[২]

এখনও (২০০৪) অন্তর্বাটি-বহির্বাটি উভয়ই টিকে আছে এরকম ৪০টি বাড়ি রয়েছে পানামে। একটি বাড়িতে বিশাল নাচঘর পর্যন্ত টিকে আছে, যার চারদিকে একতলা ও দোতলায় দর্শকের বসার ব্যবস্থা আছে। এখন সেই নাচঘরে বসে জুয়াড়ি আর নেশাখোরদের আড্ডা।[৪]

পানাম উদ্ধারসম্পাদনা

 
পানাম নগরীর সংস্কারকৃত ভবন

পানাম নগরীর ঐতিহ্য আর ইতিহাসকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এর পুণরুদ্ধারে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। সরকারিভাবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নেয়া হয়েছে পানাম নগরের (সোনারগাঁ) প্রাচীন স্থাপত্য অবকাঠামো সংস্কার-সংরক্ষণ নামে একটি প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৪০টি ভবনের সংস্কার, ৪টি পুকুরঘাট মেরামত ও পুণর্নির্মাণ, সেতু সংস্কার, প্রত্নসামগ্রী ক্রয় ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র তৈরি। বিশেষজ্ঞ কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এই প্রকল্প।[৪]

ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় সংস্কার করা হয়েছে বিভিন্ন ভবন। তবে সংস্কার কার্যক্রমের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানলেও সংস্কার কার্যাবলীতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি অনেক বিশেষজ্ঞ ও ঐতিহাসিক। অনেক ভবনকে সংস্কারের নামে মূল স্থাপত্যিক সৌন্দর্য্য ঢেকে ফেলা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। বিশেষজ্ঞ দলে বিদেশী বিশেষজ্ঞ নেয়া হলে এজাতীয় ভুল হতো না বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন।[৪] তাছাড়া পর্যাপ্ত তথ্য সংরক্ষণ ছাড়াই কাজে হাত দেয়া হয়েছে বলেও অনেকের অভিযোগ রয়েছে। যেমন: সংস্কার কার্যক্রমে ১০০ বছরের পুরোন কাশীনাথ ভবনের পুরোন অলংকরণ ফেলে দিয়ে নতুন করে অলংকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া অতীতের ছোট ও চ্যাপ্টাকৃতি ইটের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে বর্তমানের বড় আকারের ইট।[২]

জনপ্রিয় মাধ্যমে উপস্থাপনাসম্পাদনা

বাংলাদেশে পানাম নগরীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নিয়ে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি হয় "সুবর্ণগ্রাম" নামে একটি ডকু-ড্রামা। নাটকটি রচনা করেন ইলোরা লিলিত এবং পরিচালনা করেন ফারুকে আজম।[৫] এছাড়াও ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে নাসির উদ্দীন ইউসুফ-এর পরিচালনায় "গেরিলা" নামের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের চিত্রায়ণ হয় পানাম নগরীতে। চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পানাম নগরীকে বেছে নেয়া হয়েছে।[৬] ছবিটি মুক্তি পায় ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে।

গ্যালারিসম্পাদনা

অতিরিক্ত পঠন সহায়িকাসম্পাদনা

বই-পুস্তিকাসম্পাদনা

এ্যালবামসম্পাদনা

  • Our Glorious Past : Sonargaon (আলোকচিত্র এ্যালবাম), সৈয়দ জাকির হোসেন।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. লুৎফুল্লাহ হুসাইন পাভেল। "সোনারগাঁ কি তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে!"। অন্য আলো, দৈনিক প্রথম আলো (প্রিন্ট)। ঢাকা। পৃষ্ঠা ১। 
  2. ওমর ফারুক (জুলাই ৩, ২০০৭)। "পানাম নগরী ফিরে পাচ্ছে পুরনো ঐতিহ্য" (ওয়েব)BDNews24.com। ঢাকা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ১৬, ২০১০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. রাশেদুল ইসলাম সাজ্জাদ (জুন ১২, ২০১০)। "সোনারগাঁ : বাংলার প্রাচীন রাজধানীতে একদিন" (ওয়েব)দৈনিক সংগ্রাম। ঢাকা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ১৬, ২০১০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. রুবী আহমেদ (৯ জুলাই ২০০৪)। "ঐতিহ্যের কঙ্কাল পানাম নগরী"। শুক্রবারের বিশেষ প্রতিবেদন, দৈনিক প্রথম আলো (প্রিন্ট)। ঢাকা। পৃষ্ঠা ১। 
  5. রংবেরং (কালের কণ্ঠ) প্রতিবেদক (জানুয়ারি ১০, ২০১০)। "পানাম নগরী নিয়ে ডকু ড্রামা" (ওয়েব)রংবেরং, দৈনিক কালের কণ্ঠ। ঢাকা। পৃষ্ঠা ২৪। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ১৬, ২০১০ 
  6. মাহবুবুর রহমান (জুন ২৫, ২০১০)। "'গেরিলা'র যুদ্ধক্ষেত্রে" (ওয়েব)নন্দন, দৈনিক সমকাল। ঢাকা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ১৬, ২০১০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

স্থানাঙ্ক: ২৩°৩৯′২২″ উত্তর ৯০°৩৬′১৫″ পূর্ব / ২৩.৬৫৫৯৭৪° উত্তর ৯০.৬০৪২২০° পূর্ব / 23.655974; 90.604220