পয়সা বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত মুদ্রার একটি একক। বাংলাদেশী এক টাকার ১০০ ভাগের এক ভাগকে "পয়সা" বলা হয়। ভারত, পাকিস্তাননেপালের এক রুপির ১০০ ভাগের এক ভাগের নাম পয়সা। আবার, ১ ওমানি রিয়ালের ১০০০ ভাগের এক ভাগকে বলে বাইসা। পয়সা শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে ঋণকৃত শব্দ।[১]

বাংলাদেশে, একসময় ১ পয়সার প্রচলন ছিলো। এছাড়াও প্রচলন ছিলো ২ পয়সা, ৫ পয়সা, ১০ পয়সা, ২৫ পয়সা ও ৫০ পয়সা। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে অর্থের মান বাড়তে থাকায় সেই স্থান দখল করে নেয় বড় অঙ্কের মুদ্রা, হারিয়ে যেতে থাকে পয়সা।

ভিন্নার্থসম্পাদনা

'পয়সা' শব্দটিকে বাংলায় অনেক সময় সকল দেশের মুদ্রার ক্ষুদ্রতম একককে বোঝাতে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার ক্ষুদ্রতম একক পয়সা না হওয়া সত্বেও অনেকে কথাবলার সময় আমেরিকার দুই পয়সা বা আমেরিকার পাঁচ পয়সা ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও কয়েন আকারে প্রকাশিত মুদ্রাকেও এক কথায় পয়সা বলা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে পয়সার প্রচলণসম্পাদনা

ব্রিটিশ আমলে পোয়া ও আধা পয়সার প্রচলন হয়। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এদেশে যখন সরকারী মুদ্রা প্রচলন করে সে সময় পোয়া, আধা ও এক পয়সা চালু করা হয়। সে সাথে এক পয়সা, দু’পয়সা, এক আনা, দু’ আনা, সিকি, আধুলি এবং এক টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা প্রচলন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ রাজত্বের শেষ দিকে পোয়া ও আধা পয়সার প্রচলন উঠে যেতে থাকে। পাকিস্তানি শাসন আমলে এক পয়সার প্রচলন ছিল। তামার এক পয়সার মাঝে গোলাকার ছিদ্র ছিল। ষাটের দশকে দশমিক মুদ্রা চালু করা হয়। এক, দু, পাঁচ, দশ, পঁচিশ পয়সার ধাতব মুদ্রা চালু করা হয়। সাথে সাথে আগের এক পয়সা দু’ পয়সা, এক আনা দু’আনা, সিকি আধুলি ধীরে ধীরে বাজার থেকে উঠিয়ে দেয়া হয়। ৭১-এর স্বাধীনতার পরও এক ও দু’পয়সার প্রচলন ছিল। পরে আর এক বা দু’পয়সার কোন সওদা মিলতো না। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে এগুলো উঠিয়ে নেয়। পাঁচ ও দশ পয়সার মুদ্রা তৎপরবর্তীতে উঠিয়ে নেয়া হলেও সরকারীভাবে চালু থেকে এখন প্রয়োগে অনুপযোগী। [২]

প্রদর্শনীসম্পাদনা

নিচে পয়সার কয়েকটি ছবি দেওয়া হল:

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. J. R. Hinderson, 2001, The coins of Haidar Alī and Tīpū Sultān, p. 15, Asian Educational Services, New Delhi.
  2. মনোনেশ দাস (২০১৪-০৯-২১)। "আট আনা চার আনা"BDNews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-২০