প্রধান মেনু খুলুন

নেমেসিস (বাংলাদেশী ব্যান্ড)

নেমেসিস (Nemesis) ১৯৯৯ সালে গঠিত বাংলাদেশের একটি অলটারনেটিভ রক ব্যান্ড। এই ব্যান্ডের তিনটি স্টুডিও অ্যালবাম আছে। ২০১১ সালে বের হওয়া তাঁদের দ্বিতীয় অ্যালবাম শিরোনাম "তৃতীয় যাত্রা" এবং ২০১৭ সালে বের হয় তাদের তৃতীয় অ্যালবাম শিরোনাম "গণজোয়ার"

নেমেসিস
Nemesis Winter Garden 2014.JPG
রূপসী বাংলা হোটেলের উন্টার গার্ডেনে নেমেসিস পারফর্ম করছে (২৯শে আগস্ট, ২০১৪)
প্রাথমিক তথ্য
উদ্ভবঢাকা, বাংলাদেশ
ধরনঅল্টারনেটিভ রক, হার্ড রক, ব্লুজ, রক এন রোল
কার্যকাল১৯৯৯-বর্তমান
লেবেলডেডলাইন মিউজিক
সহযোগী শিল্পীব্ল্যাক, ইন্দালো, মেকানিক্স, পাওয়ার সার্জ, রোমেল আলি
ওয়েবসাইটwww.facebook.com/nemesisbd
সদস্যবৃন্দজোহাদ রেজা
ডিও হক
রকিবুন নবী
জাফির হক
জেরিফ আহমেদ

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯৯৯ এর গ্রীষ্মে নেমেসিস গঠিত হয়েছিল।[১] সেসময় ব্যান্ড সদস্যরা কেবল বিদ্যালয় শেষ করেছে। সাবের মাহের খান ও ইয়ারকে একসাথে করে ব্যান্ড গঠন করে।  তাঁরা থার্টি ফার্স্ট নাইটের এক প্রোগ্রামে প্রথম পারফর্ম করেন। সেখানে তাঁদের ব্যান্ড দলে যোগ দেন জোহাদ। 

১৯৯৯-২০০২ সম্পাদনা

সাবিন ২০০০ সালে ব্যান্ড ছেড়ে চলে যান। যাবের তাঁর বন্ধু নন্দিত ও কাজিন রাতুল কে রিদম ও বেজ বাজাতে নিয়ে আসেন। এই ব্যান্ড বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডজগতে সাড়া ফেলে, একটি ফ্যান বেজ গড়ে তোলে এবং কভার ব্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 

২০০২- বর্তমানসম্পাদনা

২০০২ সালে যাবের এবং নন্দিত বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে জোহাদ দিপু ও ওমাইরকে নিয়ে আসেন।২০০১ সালে এই ব্যান্ড তাঁদের প্রথম এ্যালবামের কাজ শুরু করে। যাবের ও নন্দিত প্রত্যেক গ্রীষ্মে দেশে ফিরলে তাঁরা গানের রেকোর্ডিং করে।  ২০০৩ সালে "অবচেতন" নামে একটি একক গান মিক্সড এ্যালবাম "আগন্তুক-২" এ প্রকাশ করেন। এই গানটার মাধ্যমে তাঁরা ব্যাপক সাড়া পায় এবং জিসিরিজের সাথে তাঁরা প্রথম এ্যালবাম প্রকাশের ব্যাপারে চুক্তি করে। 

অন্বেষণ (২০০৫)সম্পাদনা

অন্বেষণ আর্ট অব নয়েজ স্টুডিও ও বেজবাবা সুমনের বাসায় রেকর্ড হয়েছি। এই এ্যালবাম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে।[২] যাবের ২০০৫ সালে ব্যান্ড ছেড়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে চলে যান। নন্দিত এ্যালবাম প্রকাশের পর কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে ডিও ও ওমাইর স্থায়ী সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন। 
ধুসর ভাবনা (২০০৬) এবং জয়ধ্বনি(২০০৬) প্রকাশিত হওয়ার পর নেমেসিস মূলধারায় স্বীকৃতি পায়। এই একক গান দুইটি ২০০৬, ২০০৭ ও ২০০৮ সালের রেডিও ফুর্তি সেরা একশ একক গানের তালিকায় স্থান পায়।[৩][৪][৫]

তাঁদের গাওয়া মৃত্যুছায়া(২০১০) গানটি রেডিও ফুর্তি ২০১০ সালের সেরা গানের তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়।

তৃতীয় যাত্রা (২০১১)সম্পাদনা

নেমেসিস ৬ বছর পরে তাঁদের দ্বিতীয় এ্যালবাম "তৃতীয় যাত্রা" মুক্তি দেন। প্রথম গান "কবে" প্রথমে বিভিন্ন রেডিও স্টেশনে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।[৬][৭] স্টুডিও বাংগির প্রযোজনায় নভেম্বরে এই গানের মিউজিক ভিডিও বের হয়।[৮] এই এ্যালবাম ২৩শে নভেম্বর বেইলি রোডে ক্যাফে ৩৩ এ মুক্তি দেওয়া হয়।[৯] তৃতীয় যাত্রা ২০১১ সালে সমলোচক ও জনপ্রিয়তা দুই বিভাগেই সেরা ব্যান্ড পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। তাঁদের গান "কবে"-এর মিউজিক ভিডিও সিটিসেল চ্যানেল আই মিউজিক এওয়ার্ডের সেরা ভিডিও-এর জন্য মনোনীত হয়। ২০১২ এর মাঝামাঝি, মাহের খান ও ওমাইর খান ব্যাক্তিগত কারণে নেমেসিস ছাড়েন। ভক্তরা এই খবর শুনে ব্যথিত হয়। মাইলসের মানাম আহমেদের দুই পুত্র জেরিফ আহমেদ এবং জেহীন আহমেদ নেমেসিসের নতুন সদস্য হন।

সামাজিক কর্মকান্ড সম্পাদনা

নেমেসিস বিভিন্ন দাতব্য শোতে অংশ নেয়। উল্লেখযোগ্য কনসার্টগুলোর মধ্যে আছে, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে ২০০৮ সালে 'সে নো টু ড্রাগ' কনসার্ট, ২০০৯ সালে ধানমন্ডি এম্ফিথিয়েটারে 'সেইভ দ্যা চিলড্রেন' ও 'স্ট্যান্ড আপ এগেইন্সট পোভার্টি' কনসার্ট, ২০১০ সালে আর্মি স্টেডিয়ামে 'ভোট ফর সুন্দরবন' কনসার্ট। তাঁরা বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিকভারি ডেভেলপমেন্ট সংস্থার আয়োজনে পথশিশুদের জন্য একটা কনসার্ট করেন। সেই প্রোগ্রামের অর্ধেক অর্থ সাভার ভবন ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের দেওয়া হয়। [১০]

বর্তমান সদস্য সম্পাদনা

  • জোহাদ রেজা চৌধুরী - ভোকাল (১৯৯৯-বর্তমান)
  • রাকুইবান নবি রাতুল - বেজ, ভোকাল (১৯৯৯-বর্তমান))
  • ডিও হক - ড্রাম (২০০৪-বর্তমান)
  • জেরিফ আহমেদ - গিটার, ভোকাল (২০১২-বর্তমান)
  • জাফির হক - গিটার (২০১৩-বর্তমান)

সাবেক সদস্যসম্পাদনা

  • সাবির আহমেদ - ব্যান্ড ম্যানেজার (১৯৯৯-২০০১)
  • মাহের খান - গিটার, ভোকাল (১৯৯৯-২০১২)
  • সাবিন খান - বেজ (১৯৯৯-২০০১)
  • ইয়ার মেহবুব - ড্রাম (১৯৯৯-২০০৫)
  • নন্দিত নূর - গিটারিস্ট (১৯৯৯-২০০৫
  • ওমাইর খান- গিটারিস্ট(২০০১-২০১২)
  • জেহীন আহমেদ - গিটার, ভোকাল (২০১২-২০১৩) 

এ্যালবাম ও গানের তালিকাসম্পাদনা

স্টুডিও এ্যালবাম
  • অন্বেষণে(২০০৬)
  • তৃতীয় যাত্রা (২০১১)
 সংকলিত এ্যালবাম 
  • আগন্তুক -২ (২০০৩)
  • লাইভ নাউ (২০০৭)
  • আন্ডারগ্রাউন্ড ২ (২০০৭)

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Music Album Review Nemesis Tritio Jatra: A 10/10 production"। ৯ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৬ 
  2. ::: Star Weekend Magazine :::
  3. "Top-100 (Radio) Hits of 2006 ~ All in one"। ২৬ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৬ 
  4. "Radio Foorti's TOP-100 of 2007 - Bangali Community"। ২৫ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৬ 
  5. TOP-100 (Radio) Hits of 2008[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. RisingStars
  7. Nemesis to release second album before Eid
  8. "Nemesis' 2nd Album 'Tritio Jatra' to Hit Stores on 24.11.11"। ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৬  অজানা প্যারামিটার |1= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  9. http://www.daily-sun.com//details_yes_15-12-2011_nemesis-emerges-with-tritio-jatra_422_5_31_1_8.html
  10. "Nemesis charity show Events"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১৩ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা