নেপাল-তিব্বত যুদ্ধ

নেপাল-তিব্বত যুদ্ধ (নেপালি: नेपाल-तिब्बत युध्द) বলতে ১৮৫৫ থেকে ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সংগঠিত নেপাল দ্বারা তিব্বতে আক্রমণ অভিযান বোঝানো হয়ে থাকে।

নেপাল-তিব্বত যুদ্ধ
তারিখএপ্রিল, ১৮৫৫- মার্চ, ১৮৫৬
অবস্থান
ফলাফল নেপালের জয় ও থাপাথালি চুক্তি
যুধ্যমান পক্ষ
Flag of Tibet.svgতিব্বত Flag of Nepal (1743–1962).svgনেপাল রাজ্য
সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী
Flag of Tibet.svgসেথ্য কাজি Flag of Nepal (1743–1962).svgজং বাহাদুর রানা
শক্তি
৯৮,০০০ ৩৪,৯০৬
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
অজানা অজানা

প্রেক্ষাপটসম্পাদনা

১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দে চীন-নেপাল যুদ্ধের পরে নেপাল সরকার তিব্বতের আভ্যন্তরিণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করতে বাধ্য থাকে। এই যুদ্ধে জয়লাভের পরে চিং সাম্রাজ্য নেপালকে করদ রাজ্যে পরিণত করে, কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ মোকাবিলা করতে গিয়ে এই সাম্রাজ্য দুর্বল হতে শুরু করে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী জংবাহাদুর রাণা এই সুযোগে তিব্বতের ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য সচেষ্ট হয়ে ওঠেন।[১]:১০৮ লাসা শহরে নেপালী ব্যবসায়ীদের হেনস্থা এবং কুতি অঞ্চলে সীমান্ত সমস্যাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি তিব্বতের নিকট ক্ষতিপূরণ ও তিব্বতের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপ্র নেপালের দাবী জানাতে থাকেন।[১]:১১০ ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেন[২]:২৮ এবং ১৭ই এপ্রিলকে সমস্ত দাবী পূরণের অন্তিম সীমা হিসেবে ধার্য করেন।[১]:১১০

যুদ্ধসম্পাদনা

১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে নেপালী বাহিনী তিব্বত ও নেপালের মধ্যে অবস্থিত ওয়ালুংচুং থেকে জরের মধ্যে বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ গিরিবর্ত্মগুলি অতিক্রম করে।[৩]:৭৭ সেনাপতি বম বাহাদুর কুঁয়ার ২৫,৭২৮ জন সৈন্য নিয়ে কেরোং, সেনাপতি ধীর শমসের ৪,৬৭৮ জন সৈন্য নিয়ে কুতি, সেনাপতি কৃষ্ণধ্বজ কুঁয়ার ২,৫০০ সৈন্য নিয়ে হুমলা ও মুস্তাং এবং সেনাপতি পৃথ্বীধ্বজ কুঁয়ার ২,০০০ সৈন্য নিয়ে ওয়ালুংচুংগোলার দিকে অগ্রসর হন। সেনাপতি সেথিয়া কাজি তিব্বতের ৫০,০০০ সৈন্যের নেতৃত্ব দেন, যার মধ্যে ৮০০০ জন সৈন্য দির্গচেতে এবং ৪০,০০০ সৈন্য টিংরি অঞ্চলে প্রতিরক্ষার জন্য অবস্থিত ছিল।[২]:২৮

৩রা এপ্রিল ধীর শমসের চুসান অঞ্চলে একটি ছোট তিব্বতী সেনাকে পরাজিত করে কুতি অধিকার করে সুনা বিহারের দিকে যাত্রা করেন।[১]:১১১ বম বাহাদুর কুঁয়ার বিনা প্রতিরোধে কেরোং অধিকার করে কুকুরঘাটে তিব্বতী সেনাদের পরাজিত করে জোংখা পর্যন্ত অগ্রসর হন। জোংখায় নয় দিন যুদ্ধের পর তিব্বরীরা টিংরি পর্যন্ত পশ্চাতপসারণ করেন।[১]:১১১ এরপর মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা করা হয়। এই যুদ্ধের ফলে নেপালের অর্থভাণ্ডার প্রায় নিঃশেষিত হয়ে যায় এবং নেপালের জনগণের মধ্যে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই সময় তিব্বতীরা ৫ই নভেম্বর কুতি ও জংখা অঞ্চলে নতুন করে আক্রমণ শুরু করায় প্রায় ৭০০ জন নেপালী সৈন্য নিহত হন এবন বাকীরা সীমান্তে পালিয়ে যান।[১]:১১৩ ডিসেম্বর মাসে আরো সৈন্য এলে ধীর শমসের পুনরায় কুতি অধিকার করে শহরটিকে অগ্নিসংযোগ করে নেপাল ফিরে যান। এই সময় নেপালী সেনাপিতি সনক সিং ক্ষেত্রী জংখা পুনরায় অধিকার করতে সক্ষম হন।[১]:১১৪

ফলশ্রুতিসম্পাদনা

এই যুদ্ধের সময় তিব্বতীরা খাম্স অঞ্চলেবিদ্রোহের আশঙ্কা করছিলেন, অন্যদিকে যুদ্ধের ফলে নেপালীরা অর্থসঙ্কটের সম্মুখীন হয়।[১]:১১৪ ফলে যুদ্ধের অবসানে একটি সম্মানজনক চুক্তিতে উভয় পক্ষই আগ্রহী ছিলেন। থাপাথালি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নেপালীরা তাদের এক কোটি নেপালী টাকার দাবীর পরিবর্তে পরিবর্তিত পরিস্থিতে বার্ষিক মাত্র দশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের দাবীতে নেমে আসেন। তিব্বতীরাও লাসা শহরে নেপালীদের ব্যবসায়িক স্বার্থরক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে সম্মতি প্রদান করেন।[৩]:৭৮

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Rose, Leo E. (১৯৭১)। Nepal; strategy for survival। University of California Press। আইএসবিএন 9780520016439 
  2. Nepalese Army Headquarters (২০১০)। The Nepalese Armyআইএসবিএন 9789937224727। ২৬ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১৫ 
  3. Paget, William Henry (১৯০৭)। Frontier and overseas expeditions from India 

আরো পড়ুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা