নেপালি সেনাবাহিনী প্রধান

নেপালি সেনাবাহিনী প্রধান (নেপালি: नेपालको प्रधानसेनापति, অনুবাদ 'নেপালের প্রধান সেনাপতি') হচ্ছে নেপালি সেনাবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তার পদ। নেপালি সেনাবাহিনী ১৯৭৯ সালের আগ পর্যন্ত কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে সেনাপ্রধান হিসেবে ব্যবহার করেনি কারণ নেপাল রাষ্ট্রটি সবসময়ই একটি রাজকীয় পরিবার দ্বারা পরিচালিত হতো এবং ১৯৭৯ সালের আগ পর্যন্ত নেপালি সামরিক বাহিনীতেও কর্মকর্তারা রাজকীয় পরিবারের সদস্য হতেন এবং এর পরেও হয়েছেন তবে তারা ব্রিটেন কিংবা ভারতের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে প্রশিক্ষিত ছিলেন যেটা এর আগে ছিলো না।

নেপালি সেনাবাহিনী প্রধান
नेपालका प्रधानसेनापति
নেপালের সেনাপ্রধানের চিহ্ন
সেনাবাহিনী প্রধানের পতাকা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (নেপাল)
যার কাছে জবাবদিহি করেনেপালের প্রধানমন্ত্রী
নেপালের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
আসনভদ্রকলি, কাঠমান্ডু, নেপাল
মনোনয়নদাতানেপালি সরকার
নিয়োগকর্তানেপালের রাষ্ট্রপতি
মেয়াদকাল৩ বছর পর্যন্ত মেয়াদ অথবা ৬১ বছর বয়সে অবসরে যেতে হবে (যেটা আগে আসে)[১]
পূর্ববর্তীনেপালি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক (রাজকীয় পদ)
গঠন১৫ মে ১৯৭৯; ৪৪ বছর আগে (1979-05-15)
প্রথমমহারথী সিংহ প্রতাপ শাহ
পরবর্তীএকজন ঊর্ধ্বতন জেনারেল কিংবা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছেনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারেন যে কোনো জেনারেল[২]
ডেপুটিউপ প্রধান সেনাপতি
ওয়েবসাইটOfficial website

প্রতি বছর প্রত্যেক সেনাবাহিনী প্রধান নিয়োগ পাবার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্ণ জেনারেল পদবী লাভ করেন ভারত গমনের মাধ্যমে, এটা নেপালি সেনাবাহিনীর একটি রীতি।[৩]

ইতিহাস সম্পাদনা

নেপালি সেনাবাহিনীর ইতিহাস অনেক পুরোনো (১৭৬২ সালে এই বাহিনী গঠিত হয়েছিলো); আর নেপাল কখনোই ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিলোনা বিধায় তাদের সেনাবাহিনীর ভেতরে ব্রিটিশদের শৈলী আসেনি। নেপালিরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনুকরণে চলা শুরু করে ১৯৬০-এর দশক থেকে যদিও নেপালিরা তাদের সামরিক বাহিনীতে ইংরেজি ভাষার অনুপ্রবেশ করায়নি, তারা নেপালি ভাষাতেই সব কিছু করতো, তাদের পদবীগুলোও ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনুকরণে গঠিত হচ্ছিলো ধীরে ধীরে কিন্তু তারা এক্ষেত্রেও ইংরেজি নামের পরিবর্তে নেপালি নাম ব্যবহার করা শুরু করে দেয়, যেমনঃ তারা মেজর পদবীকে বলে সেনানী, কর্নেলকে বলে মহাসেনানী ইত্যাদি। ১৯৬০-এর দশকে নেপালিরা চিন্তা করা শুরু করে যে রাজকীয় সেনা-অধিনায়কদেরকে বাদ দিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতরে সামরিক প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা প্রবেশ করাতে হবে, এ উদ্দেশ্যে নেপালের পক্ষ থেকে ১৯৫০-এর দশক থেকে যুক্তরাজ্যের স্যান্ডহার্স্ট এবং ভারতীয় সামরিক একাডেমীতে তরুণ পাঠানো শুরু হয়ে যায়। ১৯৭৯ সালের আগ পর্যন্ত নেপালের একজন রাজকীয় পরিবারের সদস্য নেপালি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, তারা নেপালি রাজকীয় যোদ্ধা পরিবারের উঁচু পর্যায়ের সদস্য হতেন। ২০০৬ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত জেনারেল রুকমানগাদ কাটাওয়াল ছিলেন ভারতীয় সামরিক একাডেমীতে ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে প্রশিক্ষিত প্রথম কর্মকর্তা যিনি নেপালের সেনাপ্রধান পদে আসীন হন।[৪] ১৯৭৯ সালের ১৫ই মে তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম সেনাবাহিনী প্রধান (এর আগে প্রধান সেনাপতিকে 'সেনা সর্বাধিনায়ক' বলা হতো) মহারথী সিংহ প্রতাপ শাহ তিনি ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষিত ছিলেন।

নিয়োগ, দায়িত্ব এবং কর্তব্যসমূহ সম্পাদনা

কমপক্ষে ৩৮ বছর চাকরি করেছেন এমন ব্যক্তিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন (২০১১ সালের আগ পর্যন্ত এই নীতি ছিলোনা)।[২] নেপালি সেনাপ্রধানের দায়িত্ব হচ্ছে নেপালি সেনাবাহিনীর প্রধান অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা, এছাড়া তিনি নেপালের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করতে পারেন তবে তার মূল দায়িত্ব নেপালি সেনাবাহিনীর অধিনায়কত্ব করা।[৫] নেপালি সেনাপ্রধান সামরিক আইন জারীর চেষ্টা করলে বা নেপালের সরকারের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ করলে চাকরিচ্যুত হবেন।[৬] নেপালি সেনাপ্রধানের অধীনে দুইজন বা তিনজন কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে চারজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বা রথী থাকবেন; এদের নিয়োগের মধ্যে একজন উপ-প্রধান সেনাপতি থাকবেন আর একজন থাকবেন সহকারী প্রধান সেনাপতি হিসেবে।[৭][৮] নেপালি সেনাবাহিনী প্রধানরা সর্বোচ্চ তিনবছর মেয়াদে সেনাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং এরপরে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান কিংবা সেনাপ্রধান ব্যক্তির বয়স ৬১ বছর হয়ে গেলে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গমন করবেন - এই রূপ নীতি আছে।[২]

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "Thapa likely to be appointed Nepali Army chief"thehimalayantimes.com। ৪ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  2. "Nepali Army act" (পিডিএফ)www.nepalarmy.mil.np 
  3. "Nepal army chief conferred honorary rank of General in India"kathmandupost.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  4. "A Himalayan crisis"indiatoday.in। ১৩ মে ২০০৯। 
  5. "Lieutenant General Mahat entrusted with NA acting Chief responsibility"thehimalayantimes.com। ২৯ জুন ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  6. "Former army chief Gadul Shamsher Rana no more"thehimalayantimes.com। ৬ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  7. "Tough challenges ahead for new NA chief Chhetri - The Himalayan Times"thehimalayantimes.com। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  8. "CGS Biography"। ৯ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৯