দেইবা মাগান

এ.সি.তিরুলোকচানদারের চলচিত্র, ১৯৬৯

দেইবা মাগান (তামিল: தெய்வமகன், অনুবাদ 'স্বর্গীয় পুত্র') হচ্ছে ১৯৬৯ সালের একটি তামিল ভাষার চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির রচয়িতা এবং পরিচালক ছিলেন এ. সি. তিরুলোকচন্দ্র, যদিও চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনী তিরুলোকচন্দ্র বাঙালি ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্তের 'উল্কা' থেকে নিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটি তামিল চলচ্চিত্র জগতের মহানায়ক শিবাজি গণেশন একই সঙ্গে তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এবং নায়িকা হিসেবে ছিলেন জয়রাম জয়ললিতা। এছাড়াও ছিলেন পাণ্ডারি বাই, মেজর সুন্দররাজন, এমএন নম্বিয়ার, নাগেশ এবং ভি নাগাইয়াহ সহকারী ভূমিকায়। চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনী একজন সফল শিল্পপতিকে নিয়ে যে তার মত একই রকম দেখতে (একই রকম চেহারার) পুত্রকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে।

দেইবা মাগান
দেইবা মাগান.jpg
পরিচালকএ সি তিরুলোকচন্দ্র
প্রযোজকপেরিআন্না
চিত্রনাট্যকারএ সি তিরুলোকচন্দ্র
উৎসনীহার রঞ্জন গুপ্ত কর্তৃক 
উল্কা
শ্রেষ্ঠাংশেশিবাজি গণেশন
জয়রাম জয়ললিতা
পাণ্ডারি বাঈ
সুরকারএম এস বিশ্বনাথন
চিত্রগ্রাহকতাম্বু
সম্পাদকবি. কন্দস্বামী
প্রযোজনা
কোম্পানি
শান্তি ফিল্মস
পরিবেশকশিবাজি প্রোডাকশন্স
মুক্তি
  • ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ (1969-09-05)
দৈর্ঘ্য১৮৮ মিনিট
দেশভারত
ভাষাতামিল

দেইবা মাগান ১৯৬৯ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর তারিখে মুক্তি পায়। শিবাজি গণেশনের অভিনয় চলচ্চিত্রবোদ্ধা এবং দর্শকদের নজর কেড়েছিলো, দর্শকরা শিবাজিকে তাদের একমাত্র জনপ্রিয় অভিনেতার কাতারে ফেলে দিয়েছিলেন। ব্যবসায়িকভাবে সফল এই চলচ্চিত্রটি ১৯৬৯ সালের অন্যতম সেরা তামিল ভাষার চলচ্চিত্র ছিলো। চলচ্চিত্রটি ছিলো প্রথম তামিল চলচ্চিত্র যেটা সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে একাডেমি পুরস্কারের জন্য ভারতীয় নিবেদনে গিয়েছিলো। অভিনেতা শিবাজি গণেশন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে তামিলনাড়ু রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন।

সারাংশসম্পাদনা

বড় ব্যবসায়ী শঙ্কর পার্বতী নামের এক মহিলার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতি সুখী জীবনযাপন করেন এবং পার্বতী কন্নন ও বিজয় নামে দু'টি ছেলের জন্ম দেন। কন্নন, বড় যমজ, তাঁর বাবার মতো দাগযুক্ত মুখ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন। শঙ্কর, তার বড় ছেলের মুখ সহ্য করতে না পেরে তাকে ডাক্তার বন্ধু রাজুকে হত্যার জন্য জিম্মায় রেখে তার স্ত্রীকে বলেছিল যে কন্নন মারা গেছে। রাজু শিশুটিকে হত্যা না করে এতিমখানায় রেখে যায়।

বছর পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে কন্নন একজন শক্তিশালী মানুষ হয়ে উঠেন এবং সেতার বাজানোর প্রতি ঝোঁক পড়েন, আর বিজয় সুখী-ভাগ্যবান কলেজ-বীরের ছেলে হয়ে ওঠে, নির্মলার প্রেমে পড়ে যায়। এরই মধ্যে কন্নন তার পরিবার সম্পর্কে জানতে পারে এবং তার মা এবং ভাইয়ের সাথে দেখা করার চেষ্টা করে তবে তার বাবা তাকে তাদের পরিচয় প্রকাশ না করার জন্য বলেছিলেন। শঙ্করের দ্বারা একবার শাস্তিপ্রাপ্ত কাবালি বিজয়কে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাকে অপহরণ করে। শেষ পর্যন্ত, কন্নন তার ভাইকে উদ্ধার করে কাবালিকে হত্যা করে। সে আহত হয়ে মারা যায় এবং মায়ের কোলে মারা যায়।

অভিনয়েসম্পাদনা

প্রযোজনাসম্পাদনা

বিকাশসম্পাদনা

বাঙালি লেখক নীহার রঞ্জন গুপ্তের লেখা 'উল্কা' নামের উপন্যাসের চলচ্চিত্র রূপ ছিলো এই 'দেইবা মাগান' চলচ্চিত্রটি, এর আগে জি ভি আইয়ার 'তায়িন করুনাই' (১৯৬৫) নামের একটি চলচ্চিত্র বানিয়েছিলেন, এই 'তায়িন করুনাই' চলচ্চিত্রটিও 'উল্কা' উপন্যাসের একটি রূপ ছিলো, যদিও 'তায়িন করুনাই' চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ব্যর্থ ছিলো। অভিনেতা শিবাজি গণেশনের বন্ধু পেরিআন্না যিনি শান্তি ফিল্মসের কর্ণধার ছিলেন, 'দেইবা মাগান' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করতে রাজী হন।[১] এ সি তিরুলোকচন্দ্র ছিলেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক, যিনি চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন। চিত্রগ্রাহক ছিলেন তাম্বু এবং সম্পাদনা বি. কন্দস্বামী দ্বারা হয়েছিলো।[২]

অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচনসম্পাদনা

শিবাজি গণেশন তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেনঃ শঙ্কর এবং তার দুই যমজ পুত্র কন্নন আর বিজয়।[৩] এটা ছিলো শিবাজির দ্বিতীয় চলচ্চিত্র যেখানে তিনি ত্রি-ভূমিকায় অভিনয় করলেন, এর আগে তিনি 'বল পান্ডিয়া' (১৯৬২) চলচ্চিত্রেও তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেন।[৪] ফরাসী ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগোর উপন্যাস দ্যা হাঞ্চব্যাক অব নটর-ডেম উপন্যাসের মূল চরিত্র কোয়াসিমোড়ো চরিত্র দ্বারা সাজানো হয় শিবাজি গণেশের কন্নন চরিত্রটি, চরিত্রটিকে 'শারীরিকভাবে শক্তিশালী' দেখানো হয়।[৫] জয়রাম জয়ললিতা বিজয়ের প্রেমিকা নির্মলার চরিত্রে অভিনয় করেন, পাণ্ডারি বাঈকে শঙ্করের পত্নী পার্বতীর চরিত্রে নেওয়া হয়, মেজর সুন্দররাজন চিকিৎসক রাজুর চরিত্রে অভিনয় করেন, এম. এন. নম্বিয়ার খল চরিত্রে ছিলেন আর নাগেশ ছিলেন ভূপতি চরিত্রে, এছাড়াও ভি. নাগাইয়াহ একজন ঋষি-বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Vamanan (৩০ এপ্রিল ২০১৮)। "'தெய்வ மகன்' பெற்ற ஆஸ்கார் வெற்றி!"Dinamalar। Nellai। ২৭ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  2. "Deiva Magan"The Indian Express। ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯। পৃষ্ঠা 12। 
  3. ராம்ஜி, வி. (১৫ জুন ২০১৮)। "தெய்வ மகன் – அப்பவே அப்படி கதை!"Kamadenu। ১১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০১৯ 
  4. Jeyaraj, D. B. S. (৪ আগস্ট ২০০১)। "A doyen among actors"Frontline। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  5. Raman, Mohan V. (৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "50 Years of 'Deiva Magan': Why Sivaji Ganesan still matters…"The Hindu। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা